ছবির ক্যাপশন:
বামুন্দীর সুন্দরী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, প্রেস ব্রিফিংয়ে এসপি মুরাদ আলী
মেহেরপুর অফিস:
মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বামুন্দীতে সুন্দরী বেগম (৪৬) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার প্রায় দুই সপ্তাহ পর হত্যার মূল নায়ক জামিরুল ইসলাম জামুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন। জামিরুল ইসলাম ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জমি বিক্রির টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিতেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সুন্দরী বেগমের একটি জমি আছে। যে জমি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সুন্দরী। সুন্দরী ক্রেতার নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম টাকাও নিয়েছিলেন। সেই টাকা ছিনতাই করতে একজন সহযোগীকে নিয়ে সুন্দরীকে হত্যা করেন তাঁর ভাসুরের ছেলে জামিরুল ইসলাম। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মেহেরপুর পুলিশ সুপারের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলী।
পুলিশ সুপার বলেন, মামলাটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা হিসেবে আমলে নিয়ে রহস্য উদ্ঘাটন করার জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী তদন্ত শুরু করেন। পুলিশের আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিবির একটি চৌকস টিমের সহযোগিতায় হত্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত আসামি জামিরুল ইসলামকে (৩৩) আটক করা হয়। জামিরুল ইসলাম কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার শিতলাইপাড়ার আবু আফফানের ছেলে। তবে তাঁর সহযোগী পলাতক রয়েছেন। তিনি আরও জানান, আসামি আটকের পর ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং জমি বিক্রির টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার কথাও স্বীকার করেন। টাকা দিতে না চাইলে জামিরুল তাঁর সহযোগীকে নিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটান। সুন্দরী বেগমের গলায় শাড়ি জড়িয়ে তাঁকে হত্যা করে। এ সময় রুস্তম আলী বাধা দিলে হাত কুড়াল দিয়ে তাঁর ওপরও হামলা চালান আসামিরা। রুস্তম আলীকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুজনই মারা গেছেন ভেবে আসামিরা সেখান থেকে পালিয়ে যান। তবে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আটকের পরপরই জামিরুল ইসলাম জামু সুন্দরীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং মেহেরপুর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পারিবারিক কলহ ও জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে জানা যায়। আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম, ডিবির ওসি জুলফিকার আলীসহ স্থানীয় সাংবাদিকেরা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মে গাংনী উপজেলার বামুন্দীতে একটি বাড়ি থেকে সুন্দরী বেগম নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ এবং একই ঘরের চৌকির ওপর থেকে সুন্দরীর স্বামী রুন্তম আলীকে আহত এবং অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
