চাল জব্দের ঘটনায় তদন্ত কমিটির শুনানি আজ

আপলোড তারিখঃ 2020-06-10 ইং
চাল জব্দের ঘটনায় তদন্ত কমিটির শুনানি আজ ছবির ক্যাপশন:
গাংনী অফিস: গাংনী থেকে চুয়াডাঙ্গার দুটি গোডাউন নিয়ে আসা সরকারি ১ হাজার ২ শ ৬৬ বস্তা জব্দকৃত চাল নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা প্রশাসন। দুটি তদন্ত টিমকেই আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এদিকে, সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় আজ অভিযুক্তদের নিয়ে শুনানি করবে তদন্ত কমিটি। জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি অভিযুক্তদের আজ শুনানির জন্য ডেকে পাঠিয়েছেন। সকাল সাড়ে ১০টায় কমিটির সদস্যদের সামনে চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা তদন্ত করছে। তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেব।’ তদন্ত কমিটির প্রধান চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীন বলেন, ‘গোডাউন দুটি সিলগালাসহ চাল জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের শুনানির জন্য ডেকে পাঠিয়েছি। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।’ এদিকে সরকারি কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের চাল জব্দের ঘটনায় গাংনী উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকনের অনুকূলে বরাদ্দ হওয়া প্রায় ১৬০ টন কাবিখার চালের মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ৩৭ টন চাল বিভিন্ন প্রকল্প চেয়ারম্যানের নামে ছাড় করা হয়। প্রকল্প সভাপতিরা নিজে চাল বুঝে নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, গত ৩১ মে কাবিখার চাল উত্তোলনের শেষ সময় হলেও পরে করোনার কারণে তার মেয়াদ বাড়িয়ে ১০ জুন করা হয়। মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি জানান, চাল জব্দের ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁরা তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। ইতিমধ্যে তাঁরা মঙ্গলবার তদন্ত শেষ করেছেন। মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানকে প্রধান ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্ববাসন লিয়াকত হোসেনকে সদস্যসচিব এবং জেলা খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুল হামিদকে সদস্য করে কমিটিকে গঠন করে দেওয়া হয়। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। মেহেরপুর-২ গাংনী আসনের সংসদ সদস্য ও গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন বলেন, ‘প্রকল্প চেয়ারম্যানদের অনুকূলে কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া চাল নিয়েছে। তাঁরাই ভালো জানেন, চাল বেচবে না নিজের ঘরে শ্রমিক ও ভাটা মালিকদের টাকা দিবেন। এ বিষয়ে আমাকে কেন জড়িয়ে কথা বলা হচ্ছে। আমি বরাদ্দ দিয়েছি এলাকার উন্নয়নের জন্য। উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করবে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা।’ উল্লেখ্য, গত রোববার গভীর রাতে চুয়াডাঙ্গা শহরের সাতগাড়ী এলাকার দুটি গোডাউনে সরকারি চাল ট্রাকযোগে আনলোড করা হয়। এর মধ্যে একটি গোডাউনে ৬০০ বস্তা ও অপরটিতে ৬৬৬ বস্তা মজুদ করে রাখা হয়। খাদ্য অধিদপ্তরের প্রতিটি ৩০ কেজি ওজনের চালের বস্তার বাহ্যিক অংশে লেখা রয়েছে ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ।’ সোমবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা প্রশাসন ও খাদ্য অধিদপ্তরের একটি টিম গোডাউন দুটিতে অভিযান চালায়। এ সময় জেলা প্রশাসন ও খাদ্য অধিদপ্তরের যৌথ টিমটি সরকারি ১২৬৬ বস্তা চাল জব্দ করেন। একই সঙ্গে দুটি গোডাউন সিলগালা করে। তাৎক্ষণিক তদন্তে বেরিয়ে আসে, এই চাল মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত কাবিখার ১২৬৬ বস্তা বা ৩৭ হাজার ৯৮০ কেজি। এ ঘটনা অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনিরা পারভীনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। এই কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)