মন্দা ঠেকানোর বাজেট চূড়ান্ত

আপলোড তারিখঃ 2020-06-09 ইং
মন্দা ঠেকানোর বাজেট চূড়ান্ত ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ প্রতিবেদন: অদৃশ্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি মারা গেছেন এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম। পাননি পর্যাপ্ত চিকিৎসা। একই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন গণমাধ্যমকর্মী মোনায়েম খান। শুধু ওই দুজনই নয়, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার অসংখ্য মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছেন। স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনার কারণেই ঠেকানো যাচ্ছে না করোনার মৃত্যুর মিছিল। বাংলাদেশের চাঙ্গা অর্থনীতিকে অল্প সময়েই একেবারে তছনছ করে ফেলেছে করোনা। এক দশক আগের বিশ্ব মহামন্দাকেও ছাড়িয়ে গেছে করোনার এ ছোবল। আমদানি, রপ্তানি একেবারে স্থবির। দরিদ্র ও হতদরিদ্র আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে অল্প সময়েই কমে গেছে জিডিপির প্রবৃদ্ধি। এমন এলোমেলো অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার আগামী (২০২০-২১) অর্থ বছরের জন্য বৃহস্পতিবার বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দ্বিতীয়বারের মতো উপস্থাপন করবেন প্রায় পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট। আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। তাই ঘাটতি থাকবে এক লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা বা জিডিপির ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। মানুষের জীবন রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বেশি প্রবৃদ্ধির আশায় নতুন বাজেটে উন্নয়ন খাতে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। চলতি অর্থ বছরের শেষ শেষ প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী করোনার ছোবল বাংলাদেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ১৮ মার্চ প্রথম করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে সরকার বিস্তার ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। উৎপাদন থেকে শুরু করে আমদানি, রপ্তানি একেবারে স্থবির হয়ে যায়। মানুষ ঘরমুখী হওয়ায় বেকারের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। সরকারের ব্যয় মেটার হাতিয়ার রাজস্ব আয়ও একেবারে কমে গেছে। মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) একেবারে কমে গেছে। খোদ সরকারি সংস্থা বিবিএসই বলছে সাড়ে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। যেখানে চলতি অর্থ বছরে ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। গত অর্থ বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। দেশি গবেষণা সংস্থা সিপিডিও বলছে করোনায় সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। তাই এবারে প্রবৃদ্ধি আড়াই শতাংশ হবে। আইএমএফও বলছে সাড়ে ৩ শতাংশ হবে প্রবৃদ্ধি। তাই সরকার আগামী অর্থ বছরের জন্য ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরেছে। আর মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। করোনার মধ্যেও সরকার আশায় বুক বেঁধে বাজেটের বাধ্যবাধকতা মানতে সব কিছুই করছে। করোনার মধ্যেও অর্থ মন্ত্রণালয় ঘরোয়াভাবেই চূড়ান্ত করেছে বাজেট। করোনায় অর্থনীতি এলোমেলা হলেও তা সামাল দিতে রেকর্ড বাজেট চূড়ান্ত করেছে। সরকারের সব চাহিদা মেটাতে নতুন বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার। এর মধ্যে সব মিলে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দুই লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। ব্যয়ের মধ্যে আছে সরকারি অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ বাবদ ৫৮ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা। আছে বিদেশি ঋণের সুদ পাঁচ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা। এভাবে বিভিন্ন খাতে অ-উন্নয়ন ব্যয় রয়েছে। এই বিশাল আকারের ব্যয় মেটাতে বিভিন্ন খাত থেকে আয় করারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিদেশি অনুদানসহ মোট আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর বহির্ভূত আয় ১৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কর ব্যতিত আয়ও ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। তারপরও বাজেটে ঘাটতি থাকবে এক লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা বা জিডিপির ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। এই ঘাটতি মেটাতে সরকার অধিক মাত্রায় ঋণ প্রায় এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সর্বোচ্চ ঋণ প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে। সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ ২০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। তবে করোনায় সরকারের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিদেশ ভ্রমণসহ অহেতুক ব্যয় ও অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। করোনার ধকল সামলাতে কৃষিতেও গুরুত্ব দিয়ে ভর্তুকি সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। এভাবে অন্যান্য খাতে ভর্তুকি রয়েছে বাজেটে। খাদ্যে ভর্তুকি থাকছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। এভাবে সব মিলে ভর্তুকি থাকছে ৫৫ হাজার কোটি টাকা। করোনার কারণে ২৬ মার্চ শুরু করে কয়েক দফা ছুটি ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সুস্থ থাকতে সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। জীবন ও জীবিকার তাগিদে সীমিত আকারে সবকিছু খুলে দিয়েছে সরকার। কিন্তু মানুষ নিয়ম না মানায় কমছে না মৃত্যুর হার। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এরই মধ্যে আগামী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী বাজেট পেশ করবেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনা টেস্ট করতে বলা হয়েছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)