ছবির ক্যাপশন:
জীবননগর অফিস:
জীবননগরে বৃদ্ধ নারীর শেষ সম্বল সরকারি ১২ শতক খাস জমি দখল করে নেওয়াসহ হামলার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের মিনারুল ও লাল্টুর বিরুদ্ধে। জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের সুটিয়া গ্রামের হিন্দুপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। বৃদ্ধ আলেয়া বেগম (৭০) সুটিয়া গ্রামের মৃত সামছুদ্দিনের স্ত্রী।
বৃদ্ধ আলেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন যাবৎ সুটিয়া গ্রামে সরকারি ৫২ শতক জমির মধ্যে ১২ শতক খাস জমি সরকারের নিকট থেকে বন্দোবস্ত নিয়ে বসবাস করে আসছি। কিন্তু একই প্লটের ফয়জুল্লার ছেলে লাল্টু ও মিনারুল একটি ভুয়া দলিল করে আমার শেষ সম্বল ভিটার জমি দখল করার চেষ্টা করে। আমার স্বামী প্রতিবাদ করলে তারা আমার স্বামীকে মারধর করে। তাদের আঘাতে আমার স্বামী নিহত হয়। এ ঘটনায় জীবননগর থানায় একটি মামলা করলে পুলিশ লাল্টুকে আটক করে। আটক হওয়ার পর থেকে লাল্টুর ভাই মিনারুল ও তার দলবল মিলে তারা আবারও আমার জমি দখল করার চেষ্টা করছে এবং আমাকে হত্যা করার হুমকি প্রদান করছে। এই জমিটুকু যদি তারা দখল করে নেই, তাহলে আমার শেষ বয়সে রাস্তায় যেয়ে বসতে হবে।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিনারুলের সঙ্গে কথা বললে, তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আলেয়া বেগম আমাদের চাচী হয়। যে জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে, সেটি আমাদের নিজস্ব সম্পতি। তারা জোরপূর্বকভাবে বসবাস করছে। তাকে কেন মারধর বা প্রাণনাশের হুমকি দেব। তাছাড়া আমরা আমার চাচাকে হত্যা করিনি, আমার চাচা দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিল। সে অসুস্থতার কারণে মারা যায়। অযথা আমাদের নামে মিথ্যা মামলা ও হামলার অভিযোগ করে হয়রানি করছে।’
এ বিষয়ে বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের প্রধান বলেন, ‘সুটিয়া গ্রামে জমি নিয়ে যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। দুই পক্ষই তারা আপন আত্মীয়। বিষয়টি নিয়ে অনেকবার গ্রাম্য সালিশ করা হয়েছে। মিমাংসা হওয়ার পর আবার তারা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে। তবে হত্যা করার বিষয়টি আমি জানি না।’
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, সুটিয়া গ্রামে জমি দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটেছে, এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ হয়েছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
