ঝিনাইদহে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় কুপি বাতি বিলুপ্তি

আপলোড তারিখঃ 2020-06-09 ইং
ঝিনাইদহে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় কুপি বাতি বিলুপ্তি ছবির ক্যাপশন:
সাইফুল ইসলাম: ঝিনাইদহে আধুনিক বৈদ্যুতিক যুগে বর্তমানে আবহমান গ্রাম-বাংলার এক সময়ের কুপি বাতি এখন শুধুই স্মৃতি। মাত্র ৭-৮ বছর আগেও গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে অতিপ্রয়োজনীয় কুপি বাতি আজ বিলুপ্তির পথে। সন্ধ্যা হলেই ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না, সাধুহাটি ও মধুহাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম্য ও গ্রাম্য বাজারে কুপির মিটমিটে আলোয় চেনা যেত হাট বাজারসহ গ্রামের সেই চির চেনা রূপ। শুধু তাই নয়, সেকালের রাজ প্রাসাদেও ছিল বাহারি রকমের কুপি বাতি। ঝিনাইদহের সাগান্না, সাধুহাটি ও মধুহাটি ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে এখন তা শুধুই স্মৃতি। হয়তো এমনও সময় আসছে, যখন ছেলে-মেয়েদের কুপি বাতি চেনানোর জন্য যাদু ঘরে নিয়ে যেতে হতে পারে। আগের দিনের মানুষের ছিল নানা ধরনের বাহারি কুপি। আর সেই কুপিই ছিল মানুষের অন্ধকার নিবারনের একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু কালের আবর্তে ঝিনাইদহে আধুনিক বৈদ্যুতিক যুগে বর্তমানে সেই কুপি বাতির স্থান। দখল করে নিয়েছে বাহারি বৈদ্যতিক বাল্ব, চার্জার লাইট, টর্চ লাইট, মোবাইল লাইটসহ আরও অনেক কিছু। ফলে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যময় এই নিদর্শনটি। ঝিনাইদহের সাগান্না, সাধুহাটি ও মধুহাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে একটা সময় ছিল, যখন গ্রাম-বাংলার আপামর জনসাধারণের অন্ধকারে আলোকবর্তীকার কাজ করত কুপি ঝিনাইদহের বর্তমান মিনি শহর ডাকবাংলায় আলোর জন্য ব্যবহার হত বাহারি ডিজাইন ও রংয়ের এই কুপি বাতি। সাগান্না, সাধুহাটি ও মধুহাটি ইউনিয়নে তৎকালীন সময়ে মানুষ মাটি, বাঁশ, লোহা, কাঁচ আবার কোনটি তৈরি করত পিতল দিয়ে। সামর্থ অনুযায়ী লোকজন কুপি কিনে সেগুলো ব্যবহার করত। ডাকবাংলা বাজারে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের কুপি পাওয়া যেত। কুপি হতে বেশি আলো পাওয়ার জন্য ছোট কুপিগুলোর জন্য কাঠ, মাটি বা কাঁচের তৈরি গজা বা স্ট্যান্ড ব্যবহার করা হতো। এই গজা বা স্ট্যান্ডগুলো ছিল বিভিন্ন ডিজাইনের। কিন্তু বর্তমানে গ্রামে গ্রামে বিদ্যুতের ছোঁয়ায় সেই কুপি বাতি হারিয়ে গেছে। বিদ্যুত না থাকলেও অবশিষ্ট সময় মানুষ ব্যবহার করছে বিভিন্ন ধরনের চার্জার লাইট ও মোমবাতি। ৩ নম্বর সাগান্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল-মামুনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আধুনিক বৈদ্যুতিক যুগে বর্তমানে কুপি বাতির স্থান দখল করে নিয়েছে বাহারি বৈদ্যতিক বাল্ব, চার্জার লাইট, টর্চ লাইট, মোবাইল লাইটসহ আরও অনেক কিছুতেই। ফলে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যময় এই নিদর্শনটি। সুতরাং গ্রামের অধিকাংশ লোকের কাছে কুপির কদর হারিয়ে গেলেও এখনও অনেক লোক আছেন, যারা আঁকড়ে ধরে আছেন কুপির সেই স্মৃতি। আজও গ্রামের সৌখিন গৃহস্ত বাড়িতে আবার অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ সযত্নে কুপি বাতি সংরক্ষণ করে রেখেছেন নিদর্শন হিসেবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)