করোনার বিস্তার ঠেকাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি

আপলোড তারিখঃ 2020-06-07 ইং
করোনার বিস্তার ঠেকাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার স্বাস্থ্য বিভাগের তিন পরিচিত মুখ সমীকরণ সংলাপে বিশেষ প্রতিবেদক: মহামারি করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সচেতনতায় যখন মুক্তির পথ, ঠিক সেই মুহূর্তে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও জেলার শীর্ষ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক, চিকিৎসক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের করণীয় নিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে দৈনিক সময়ের সমীকরণ। পত্রিকার বার্তা সম্পাদক হুসাইন মালিকের পরিকল্পনা ও গ্রন্থনায় দৈনিক সময়ের সমীকর-এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে নিয়মিত সমসাময়িক বিষয়ভিত্তিক ‘সমীকরণ সংলাপ’ নামের একটি আলোচনার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারে প্যানেল প্রযোজক হিসেবে কাজ করছেন পত্রিকার বিশেষ প্রতিবেদক এস এম শাফায়েতসহ সমীকরণ অনলাইন টিম। এবারের আলোচনার প্রসঙ্গ ছিল ‘করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি ও চিকিৎসাসেবা এবং করণীয়’। অনুষ্ঠানে গতকাল শনিবার রাত সাড়ে নয়টায় দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপনের পরিচালনা ও সঞ্চালনায় সংলাপে সরাসরি অংশ নেন চুয়াডাঙ্গার স্বাস্থ্যসেবায় পরিচিত মুখ তিন সেক্টরে সেবায় নিয়োজিত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. ফকির মোহাম্মদ, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ওয়ালিউর রহমান নয়ন ও ডেন্টিস ডা. জামিল মোজাহার জাম্মি। করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আলোচনার শুরুতেই করোনাকালে অন্য রোগীদের কীভাবে সেবা প্রদান করছেন, এ বিষয়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. ফকির মোহাম্মদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইতালি ফেরত প্রবাসীদের মাধ্যমে দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর আমাদের টনক নড়ে। প্রথম দিকে আমরা তেমন পদক্ষেপ না নিলেও পরে বিস্তার লাভ করলে বিষয়টি ব্যপক আলোচনায় আসে। তখন আমাদের চক্ষু বিশেষজ্ঞদেরও একটা প্রস্তুতির ভাব চলে আসে। সে সময় আমি আমার রোগীদের বিভিন্নভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং ফোনে যোগাযোগ করে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছি। এখন বর্তমানে আমি রোগী দেখছি, তবে সীমিত আকারে এবং আমরা যে গাইডলাইন পেয়েছি, সেই মোতাবেক। যদিও পুরোপুরি গাইডলাইন মেনে চিকিৎসাসেবা দেওয়াটা কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে, তবুও মহামারি এই করোনার বিস্তার ঠেকাতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সেই সাথে আমার চক্ষু রোগীদের কেউ করোনা রুখতে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া দরকার, সে বিষয়ে সচেতন করছি। যাতে করে দেশ ভালো থাকে, দেশের মানুষ ভালো থাকে, বিশ্ব ভালো থাকে। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়নের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ যখন করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়, সেই সময়টা আমি দেশের বাইরে ছিলাম। আমি অস্ট্রেলিয়া সফর করে ১১ মার্চ দেশে ফিরি। দেশে ফেরার পর যথারীতি বিমানবন্দরে হেলথ স্কিনিং করে দেশে আসি এবং আসার পর ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলাম। তারপর আমি যথারীতি স্বাস্থ্যসেবা শুরু করি এবং আমি হাসপাতালে চেম্বারে বসি। তখন সেভাবে করোনার বিস্তার না হওয়ায় হাসপাতালে অনেক রোগী ছিল। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তখন সরকারি হাসপাতালে যেসব গাইডলাইন দেওয়া হয়, সেই মোতাবেক আমরা সকল স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে যথারীতি রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেছি। বলা চলে, আমরা ঝুঁকির মধ্যে দিয়েই এসব স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে যাচ্ছি। আমাদের কাছে যারা চিকিৎসা নিতে আসে, তারা করোনা পজেটিভ কি না, সে বিষয়ে আমরা জানি না। যার কারণে বড় একটা ঝুঁকি আমাদের থেকেই যায়। তারপরও যতটুকু পারছি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। দাঁতের সেবা নিয়ে ডেন্টিস ডা. জামিল মোজাহার জাম্মির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ডেন্টিসরা সব স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে দাঁতের চিকিৎসা অব্যাহত রেখেছি। তবে বলা চলে আমরা সব থেকে বেশি ঝুঁকির মধ্যে সময় পার করছি। কারণ আমরা করোনা নিয়ে নাড়াচাড়া করি। অর্থাৎ মুখের ভেতর হাত দিয়ে রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করি। এই ঝুঁকির ভেতরও আমরা সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক মাস্ক, পিপিসহ সব প্রকার স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছি এবং আমরা জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব, রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করার পাশাপাশি করোনা সচেতনতা বিষয়ে গাইডলাইন দিচ্ছি। যাতে করে কিছুটা হলেও সাধারণ মানুষ সচেতন হয় এবং বিশ্বব্যাপী এই মহামারি বিস্তার ঠেকাতে সম্ভব হয়।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)