সরকারি নির্দেশনা মেনেই গণপরিবহন চালাতে হবে

আপলোড তারিখঃ 2020-06-01 ইং
সরকারি নির্দেশনা মেনেই গণপরিবহন চালাতে হবে ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় মালিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার নিজস্ব প্রতিবেদক: গণপরিবহন চলাচলের বিষয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে তিনি মালিক শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ সভা করেন। সভায় সরকারিভাবে নির্দেশিত নিয়ম অনুযায়ী গণপরিবহন চলাচল এবং ভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি। জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘বাস-মিনিবাস সীমিত পরিসরে চলবে। চালক এবং সুপাভাইজাররা স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস চালনা করবেন। সরকারি নির্দেশনা মেনেই আমাদের চলতে হবে। একজন যাত্রীকে বাস/মিনিবাসের পাশাপাশি দুইটি আসনের একটি আসনে বসিয়ে অপর আসনটি অবশ্যই ফাঁকা রাখতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটে উল্লেখিত মোট আসন সংখ্যার অর্ধেকের বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না এবং দাঁড়িয়ে কোনো যাত্রী বহন করা যাবে না।’ সভার একপর্যায়ে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের অনুরোধে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রতিরোধ কমিটি হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। এ সময় জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার আরও বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা করোনাভাইরাসে খুলনা বিভাগের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। তবে আয়তন এবং আক্রান্তের বিবেচনা করলে প্রথমই হবে। তাই আমাদের আরও বেশি সতর্ক হতে হবে।’ তিনি বলেন, দোকানপাট পূর্বের দেওয়া সরকারি নির্দেশনা মেনেই সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে যেহেতু পরিবহন চলবে, সেক্ষেত্রে পরিবহন শ্রমিকদের খাওয়ার কথা বিবেচনা করে, রাত আটটা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।’ এ সময় সভার সভাপতির মাধ্যমে সাংবাদিক শাহ আলম সনি হোটেলে খাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রস্তাব করেন, সব স্থানে হোটেলেই ওয়ান টাইম প্লেট এবং ওয়ান টাইম গ্লাস ব্যবহার করলে ভালো হয়। বিষয়টিতে জেলা প্রশাসক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা সম্মতি দেয়। পরে পরিবহন মালিকেরা আবেদন করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত কিছুটা শিথিল করে, বেশি লোক পেলে যাতে নামিয়ে দেওয়া হয়, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বিষয়টিতে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিয়ে বলেন, সরকারি নিয়ম মেনেই পরিবহন চলবে। মোবাইল কোর্ট বা পুলিশ অতিরিক্ত যাত্রী নামিয়ে দেওয়া জন্য নয়। আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে, অতিরিক্ত যাত্রী উঠানো যাবে না। এ সময় তিনি আরও বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী গণপরিবহনে ৬০ শতাংশ ভাড়া বেশি নেওয়া যাবে। এদিকে, পরিবহন শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশনা মেনেই আজ সোমবার থেকে গণপরিবহন চলবে। সভায় উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর চুয়াডাঙ্গার দায়িত্বে থাকা লে. কর্নেল আসিফ, সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কনক কুমার দাস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীন, চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু, সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোর্য়াদ্দার টোটন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান, সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম ইস্রাফিলসহ পরিবহন মালিক নেতৃবৃন্দ ও বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ। অপর দিকে, করোনাকালীন গণপরিবহনের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। রোববার এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ৮০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করলেও তা কমিয়ে ৬০ শতাংশ করে মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা ৩৪ এর ২ এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে করোনাভাইরাসজনিত রোগের (কোভিড-১৯) বিস্তার রোধকল্পে শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকল্পে সরকার আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লায় চলাচলকারী (ঢাকা মহানগর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং চট্টগ্রাম মহানগরসহ) বাস ও মিনিবাসের সর্বোচ্চ ভাড়া নিম্নোক্তভাবে পুনর্নিধারণ করল। (ক) আন্তঃজেলা ও দূরপালল্লা রুটে বাস বা মিনিবাস চলাচলের ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২০১৬ সালের ৩ মে প্রজ্ঞাপনমূলে উল্লিখিত বিদ্যমান ভাড়ার (যাত্রীপ্রতি কিলোমিটার সর্বোচ্চ ১.৪২ টাকা) ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হলো। (খ) ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাস বা মিনিবাস চলাচলের ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২০১৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরে প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত বিদ্যমান ভাড়ার (ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলরত বাস ও মিনিবাসের সর্বোচ্চ ভাড়া প্রতি যাত্রী প্রতি কিলোমিটার যথাক্রমে ১.৭০ টাকা ও ১.৬০ টাকা। বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ভাড়ার বিদ্যমান হার ৭ টাকা ও ৫ টাকা) ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি। (গ) ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটির (ডিটিসিএ) আওতাধীন জেলার (নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা জেলা) অভ্যন্তরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাস উভয় ক্ষেত্রে ভাড়ার হার প্রতি যাত্রী প্রতি কিলোমিটার ১.৬০ টাকার ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি। এছাড়াও, করোনার বিস্তার রোধে গত ২৫ মার্চ থেকে বাস, লঞ্চ, ট্রেনসহ সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। রোববার থেকে ট্রেন ও লঞ্চ চালু হয়েছে। আজ থেকে চলবে বাস। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কারিগরি কমিটি গণপরিবহন ও ট্রেনে যাত্রী পরিবহনে ১৪ শর্ত দিয়ে নির্দেশিকা জারি করেছিল। তা সমন্বয় করে ১১ শর্তে বাস চালানোর অনুমতি দিয়েছে বিআরটিএ। এগুলো হলো- বাস টার্মিনালে ভিড় করা যাবে না, তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে লাইন ধরে টিকিট কাটতে হবে, বাসে উঠার আগে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা ও হাত ধুতে হবে, বাসে স্যানিটাইজার রাখতে হবে, দাঁড়িয়ে যাত্রী নেয়া যাবে না, ৫০ ভাগ আসন ফাঁকা রাখতে হবে, চালক শ্রমিক ও যাত্রীকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে, যাত্রার আগে ও পরে বাস জীবাণুমুক্ত করতে হবে, চালক-শ্রমিককে একটানা ডিউটি দেওয়া যাবে না, মহাসড়কে বিরতি দেওয়া যাবে না এবং মালামাল জীবাণুমুক্ত করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে দূরপাল্লার ৪০ আসনের বাসে সর্বোচ্চ ২০ জন যাত্রী নেওয়া হবে। নগর পরিবহনে ৩২ আসনের মিনিবাসে ১৬ জন এবং ৫২ আসনের বাসে ২৬ জন যাত্রী নেওয়া যাবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)