এজহারনামীয় পাঁচ আসামির কেউই গ্রেপ্তার হয়নি

আপলোড তারিখঃ 2020-06-01 ইং
এজহারনামীয় পাঁচ আসামির কেউই গ্রেপ্তার হয়নি ছবির ক্যাপশন:
দামুড়হুদায় এনজিও কর্মী সাইফুল হত্যা মামলা, সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার ৩ নিজস্ব প্রতিবেদক: দামুড়হুদায় এনজিও কর্মী সাইফুল ইসলাম (৩৮) নিখোঁজ হন ২৪ মে সন্ধ্যা থেকে। পরদিন সোমবার (২৫ মে) সকালে দামুড়হুদা উপজেলার সীমান্তবর্তী কুতুবপুর বিজিবি ক্যাম্পের পাশ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করা হয়। একই দিন দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তাস্তর করা হয়। নিহতের পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর এক সপ্তাহ পার হলেও মামলার এজহারভুক্ত আসামিদের পাঁচজনই এখনও পুলিশের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের পীরপুরকুল্লা গ্রামের আব্দার হোসেনের পরিবারের সঙ্গে আব্দুল হাইয়ের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরেই খুন হন আব্দার হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম। পেশায় সাইফুল ইসলাম এনজিও ব্র্যাকের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার মাঠকর্মী ছিলেন। করোনা মহামারিতে অফিস ছুটি থাকায় নিজ বাড়িতে অবস্থা করছিলেন। ২৪ মে রোববার বিকেলে ঈদের বাজারের জন্য মাংস কিনতে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর থেকে নিখোঁজ হন সাইফুল ইসলাম। তাঁর পরিবারের সদস্যরা রাতেই নিখোঁজের বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পরদিন সোমবার সকালে স্থানীয় কৃষকেরা কুতুবপুর বিজিবি ক্যাম্পের পাশের একটি বাগানের মধ্যে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাইফুলকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে ময়নাতদন্তের জন্য সাইফুলের মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজহারভুক্ত আসামিরা হলেন খোদা বক্সের দুই ছেলে রতন (২৮) ও স্বপন (৩০), স্বপন আলী মোল্লার ছেলে আব্দুল হাই (৪৫), নজুর ছেলে মামুন (৩০) ও নূর আলীর ছেলে শাখাওয়াত (৩৫)। হত্যা মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে দামুড়হুদা মডেল থানায় ২০১৭ সালে মাদক চোরাকারবারি মামলায় আটক হন আব্দুল হাই, যার মামলা নম্বর ৪৩। আরও জানা যায়, আসামিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িত আব্দুল হাই ও রতন। আংশিক জানা যায়, তাঁদের অপরাধ জগৎ সম্পর্কে। কে এই আব্দুল হাই ও রতন? এনজিও কর্মী সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার এজহারভুক্ত পলাতক আসামি আব্দুল হাই ও রতনের অপরাধ জগতের উত্থান কাহিনী অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে নানা রকমের চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর রতনের এক নিকট আত্মীয়ের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিজেকে যুক্ত করলে রতনের ভাগ্য ফিরে যায়। আব্দুল হাই ও রতন কুড়ুলগাছি ঠাকুরপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মানুষ পারাপারসহ বিভিন্ন চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অল্প দিনে অধিক টাকার নেশায় এ ধরণের অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। জনপ্রতি চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নিয়ে তাঁদের ভারতে পৌঁছে দিতেন এ দুজন। পরবর্তীতে ঠাকুরপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু, সাইকেল, মোটরসাইকেল চোরাকারবারি শুরু হলে রতন ও আব্দুল হাই হয়ে ওঠেন এ পথের দক্ষ পথিক। একপর্যায়ে রতন ও আব্দুল হাই নিজেদের প্রশাসনের সোর্স পরিচয় দিয়ে অন্য চোরাকারবারিদের থেকে তুলতে থাকেন অবৈধ পঁয়সা। রাতারাতি লাখপতি বনে যান দুজনে। পীরপুরকুল্লা গ্রামে হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য। যে আব্দুল হাইয়ের কয়েক বছর পূর্বেও বাঁশের বেড়ার ঘর ছিল, তিনিই অবৈধ টাকায় তাঁর ছেলেকে পাঠান সিঙ্গাপুর। আব্দুল হাই রাতারাতি অবৈধ টাকা আয় করে বেড়ার ঘর থেকে পাঁকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। সেইসঙ্গে রাতারাতি চেহারা ফিরে যায় আব্দুল হাই ও রতনের। আর এতে সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করেন রতনের ভাই স্বপন। রতন ও আব্দুল হাই এলাকায় কায়েম করেন ত্রাসের রাজত্ব। এক অনুসন্ধানে জানা যায়, আব্দুল হাইয়ের নামে দামুড়হুদা থানায় ২০১৭ সালের একটি মাদক চোরাচালানের মামলাও রয়েছে। সর্বশেষ ব্র্যাকের কর্মী সাইফুল হত্যার ঘটনায় রতন, আব্দুল হাই, স্বপনসহ আরও দুজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। সাইফুল ইসলামের ময়নাতদন্ত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাইদুজ্জামান বলেন, নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানানো হবে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ শ্বাসরোধে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শামীম কবির বলেন, ২৫ তারিখ দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের মাধ্যমে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দামুড়হুদা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউর রহমান বলেন, এই মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এজহারভুক্ত পাঁচজন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন। আসামিদের বাড়ি ভারত সীমানার নিকটবর্তী হওয়ায় ও ভারত থেকে গরুসহ বিভিন্ন চোরাচালানে জড়িত থাকায় ধারণা করা হচ্ছে তাঁরা ভারতে গা-ঢাকা দিয়ে আছেন। যেখানেই থাকুক, অতিদ্রুত তাঁদের পুলিশের নিকট ধরা পড়তে হবে। দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল খালেক বলেন, এ ঘটনায় নিহতের পিতা আবদার আলী বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ১৩, তারিখ ২৫-০৫-২০২০। মামলার এজহারভুক্ত পাঁচ আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন। তাঁদেরকে আটকের জন্য পুলিশ কাজ করছে। গত শনিবার এ ঘটনায় সন্দেহভাজন আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর পূর্বে ঘটনার দিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করা হয়। মামলার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাঁদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, গত শনিবার এ হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও তিনজনকে চালান করা হয়।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)