ছবির ক্যাপশন:
জীবননগর অফিস:
সারা দেশের ন্যায় জীবননগর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সুপার সাইক্লোন আম্পানের আঘাতে সীমান্তবর্তী উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এমনকি ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে রেহাই পায়নি হাজি মনির হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়ের ভবন ভেঙে মাটিতে পড়ে। আর ৮টি ক্লাসরুমের টিনের ছাউনী উড়ে গাছের ওপর পড়ে আছে।
জানা যায়, ১৯৯৮ সালে জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে হাজি মনির হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। এ বিদ্যালয়ে বেশির ভাগ দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা লেখাপড়া করে থাকে। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণিতে ২৭০ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। বিদ্যালয়টি সরকারিভাবে তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় অবহেলা আর অবক্ষয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চলছে। এদিকে সারারাতে বয়ে যাওয়া এই সুপার সাইক্লোনে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে অধিকাংশ গাছপালা, ফসলি জমি ও ইটের গাথুনী ঘর আর কাঁচা বাড়ি ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। জীবননগরে বয়ে যাওয়া এ ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮২ কিলোমিটার। সেই সঙ্গে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৪৫ মিলিমিটার।
হাজি মনির হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী রুমানা বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে আমাদের বিদ্যালয়টি যেভাবে বিধস্ত হয়ে পড়েছে, যদি এটি দ্রুত সংস্কার না করা হয়, তাহলে আমরা অনেক পিছিয়ে পড়ব। সরকারিভাবে যদি বিদ্যালয়টি সংস্কার না করে দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের লেখাপড়া করতে চরম বিপাকে পড়তে হবে।’
হাজি মনির হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়টি একেবারে গ্রামের মধ্যে অবস্থিত। সেখানে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা লেখাপড়া করে আসছে। এই বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আজ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে সুনামের সঙ্গে চাকরি করছে। বিদ্যালয়টি এত দিন প্রতিষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সংস্কার করা হয়নি। দীর্ঘদিন যাবৎ ভাঙাঘর আর টিনের চালে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারনে শেষ সম্ভব টিনের ভবনটি ঝড়ে উড়ে ৮টি ক্লাস রুমসহ শিক্ষকদের মিলানায়তন ভবনটিও ভেঙে পড়ে আছে। এর মধ্যে যদি সরকারিভাবে বিদ্যালয়গুলো চালু করার নির্দেশ প্রদান করে, তাহলে আমাদের গাছতলায় বসে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। যদি সরকারিভাবে বিদ্যালয়টি সংস্কার করে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা আবার আগের মতো শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে পারব।’
