নির্দেশনা মানছেন না ক্রেতা-বিক্রেতারা, বাড়ছে সংক্রমণ ঝুঁকি

আপলোড তারিখঃ 2020-05-12 ইং
নির্দেশনা মানছেন না ক্রেতা-বিক্রেতারা, বাড়ছে সংক্রমণ ঝুঁকি ছবির ক্যাপশন:
করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই খোলার দ্বিতীয় দিনেও চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহের মার্কেটগুলোতে উপচে পড়া ভিড় সমীকরণ প্রতিবেদন: করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে খুলেছে দোকান-মার্কেট। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ঈদকে সামনে রেখে ঝুঁকি নিয়ে খুলছে মার্কেটগুলো। গতকাল সোমবার ছিল দ্বিতীয় দিন। সারা দেশের সঙ্গে তালমিলিয়ে চলছে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহের মার্কেট ও বিপণীবিতানগুলো। তথ্য মতে, শর্তসাপেক্ষে মার্কেটের দোকান খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলেও অধিকাংশ জায়গায় মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। কিছু জায়গায় স্যানিটাইজার বা হাত জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা থাকলেও অধিকাংশ দোকানেই মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধি। চুয়াডাঙ্গা: ``মার্কেট খোলার দ্বিতীয় দিনেও চুয়াডাঙ্গার বিপণিবিতানগুলোতে মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধি। গতকাল সোমবার কঠোর অবস্থানে ছিল প্রশাসন। নিয়ম না মানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছে বেশকিছু বিপণিবিতানকে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টহল ছিল ঘনঘন। চুয়াডাঙ্গা শহরের সমবায় নিউ মার্কেট, প্রিন্স প্লাজা, আব্দুল্লাহ সিটি, বড় বাজার, বড় গলি, মুন সুপার মার্কেট, আলী হোসেন মার্কেট, মালিক টাওয়ার, ফাতেমা প্লাজাসহ প্রায় সব মার্কেটেই টহল দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত, পুলিশ প্রশাসন ও সেনাবাহিনী। তবে তাঁদের টহল দেওয়ার সময় নিয়ম মানলেও কিছুক্ষণ পর আবার হ-য-ব-র-ল অবস্থা। এক কথায় প্রশাসনের সঙ্গে লুকোচুরি খেলার মতো অবস্থা। এদিকে, সকালে মার্কেট মনিটরিং এ আসেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় তাঁরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী কমিটির কর্মকর্তারাও হ্যান্ডমাইকে ক্রেতাদের সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাকাটার জন্য নির্দেশ দিচ্ছেন। তবে প্রতিটি অলিগলি ও দোকানের সামনে ক্রেতাদের ভিড়। ক্রেতাদের সিংহভাগই নারী। কোলের শিশু নিয়ে এসেছেন কেউ কেউ। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেন না অনেকে। ভিড় সামলাতে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী কমিটির কর্মকর্তারাও হিমশিম খাচ্ছেন। অপর দিকে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা না মানায় চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান আদালতে ১৭ জনের কাছ থেকে ৯ হাজার ৩ শ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বাজার মনিটরিং এবং সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণের নেতৃত্বে দিনব্যাপী সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় এসব মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। দিনব্যাপী ৪টি মোবাইল কোর্টে ১৭ জনের কাছ থেকে ৯ হাজার ৩ শ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৪ জনকে ৮ হাজার ৩ শ টাকা, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৩ জনকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এদিকে, ব্যবসায়ীরা বলেছেন সরকারের বিধিনিষেধ মেনেই ব্যবসা করছেন তাঁরা। তাঁরা চেষ্টা করছেন সর্বোচ্চ নিয়মের মধ্যে তাঁদের ব্যবসা পরিচালনা করতে। দু’দিনেই ব্যবসা জমে গেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন মার্কেটগুলো বন্ধ থাকায় আর হঠাৎ ঈদের আগে খুলে দেওয়ায় মানুষের ভিড় বেড়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে হয়তো সবকিছু সঠিকভাবে করতে কষ্ট হচ্ছে। তারপরও তাঁরা সামাজিক দূরত্ব, হাতে গ্লাভস, মুখে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের মাধ্যমে ক্রেতাদের দোকানে আসতে অনুরোধ করছেন। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলছেন, বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকায় ক্রেতারা বন্ধ হয়ে যাওয়ার তাড়নায় এক সঙ্গেই মার্কেটে আসছেন। যদি সময় আরও ২ ঘণ্টা বাড়িয়ে বিকেল ৬টা পর্যন্ত করা হয়, তাহলে কিছু ভিড় কমানো যাবে। তাঁরা আরও বলেন, মার্কেটে আসা ক্রেতাদের বেশির ভাগই দূর-দূরান্ত ও গ্রাম হতে আসা। তাঁরা কিনছেন কম দামের শাড়ি, লুঙ্গি, গেঞ্জি, জুতা-স্যান্ডেল ও কাপড়চোপড়। বেশি দামের তেমন পণ্য বিক্রি করতে পারেননি এই দুই দিনে। ক্রেতারা জানান, দীর্ঘদিন মার্কেট বন্ধ থাকায় প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই কেনা হয়নি। সামনে ঈদও আসছে তাই এই সুযোগে কেনাকাটার কাজটা আর দেরি করতে রাজি নন তাঁরা। সামাজিক দূরত্বের ব্যাপারে অনেকে বলেন, চেষ্টা করেও নিয়ম মেনে চলা সম্ভব হয় না। কারণ মার্কেটগুলোতে আর রাস্তায় মানুষের প্রচণ্ড ভিড়। অন্যদিকে ভিন্ন কথা বলছেন, সচেতন মহল। বাজারের বর্তমান অবস্থা দেখে, তাঁদের দাবি মার্কেটগুলো পুনরায় বন্ধ রাখার। না হলে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রাম থেকে শহরে আসা মানুষগুলোও আক্রান্ত হতে পারে। সকালে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার শপিংমল ও বাজার পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তিনি বলেন, মার্কেট খোলা রাখার বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী চলতে হবে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই মার্কেট খোলা রাখতে হবে। প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে। পরিস্থিতি খারাপ হলে ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হবে। এ বিষয়ে সবোর্চ্চ সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। আলমডাঙ্গা: ``আলমডাঙ্গায় গত রোববার থেকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঈদের কেনাকাটার মধ্যে দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। দোকানপাট খুলে দেওয়ায় সকাল থেকেই দোকানে দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। ছোট-বড়, ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে নারী ক্রেতারা দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন। বাজার ঘুরে দেখা যায়, পুরুষের তুলনায় নারী ক্রেতাই বেশি। প্রশাসনের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করার কঠোর হুশিয়ারি নির্দেশ থাকলেও সেটা মেনে চলছেন না ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সাধারণ। সামাজিক দূরত্ব নিয়ন্ত্রনে থানা পুলিশ ব্যাপক ভূমিকা নিলেও ভিড় সামলাতে হিমশিম পোহাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন দোকান-পাঠ খোলার ব্যাপারে ছয়টি নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তারমধ্যে প্রধান শর্ত ছিল, ক্রেতা ও বিক্রেতারা মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লাফস লাগিয়ে থাকবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করবে। কেনাকাটা করতে শিশু ও বৃদ্ধদের আনতে বারণ ছিল। গতকাল সোমবার শহরের গার্মেন্টস পট্টিতে বেলা সাড়ে ১১টায় রোডের উভয় পাশের দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, প্রত্যেক দোকানের সামনে কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা। তাদের বেশির ভাগই নারী। স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউই। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে , স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের কেনাকাটা করতে পারবে সাধারণ মানুষ। তবে তাদের মুখে মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে দোকানে সামাজিক দূরত্ব নিজ দায়িত্বে নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত আছে। বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত টহলে আছে। পুলিশ প্রশাসন বাজারের প্রতিটা মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করেছে। ডিউটিরত পুলিশ কোনো প্রকার যানবাহন বাজারে মধ্যে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। দামুড়হুদা: ``দামুড়হুদার বিভিন্ন বাজারের কাপড়ের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখেই কেনা বেচা করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। গতকাল সোমবার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়। এদিকে, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে দীর্ঘদিন লকডাউনে থাকা দোকানগুলো সরকারি শর্ত মেনে খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রশাসন। সরকারিভাবে বেঁধে দেওয়া শর্ত ভেঙে দামুড়হুদা উপজেলা সদর মালিক সুপার মার্কেট, বাজারের কাপড়ের দোকান ও কার্পাসডাঙ্গা বাজারের কাপড়ের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় করে ক্রেতারা। নেই কোনো সামাজিক দূরত্ব। ক্রেতারা পাশাপাশি বসেই কিনছে জামা কাপড়। তেমনি বিক্রেতারা কাপড় বিক্রি করার লোভ সামলাতে না পেরে কাছাকাছি বসেই বিক্রি করছে তাদের মালামাল। এভাবে চলতে থাকলে করোনাভাইরাস প্রতি বাড়ি বাড়ি লোকজনকে আক্রান্ত করবে এমনটিই জানান সচেতনমহল। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুনিম লিংকন বলেন, ‘সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করার জন্য আমি ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহিউদ্দীনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতেকটি বাজারে মাইকিং করেছি। এই নিয়ম মেনেই কেনাকাটা করতে হবে।’ তিনি আরও জানান, ‘আজ দোকান মালিক সমিতির সঙ্গে বসব। যদি নিয়ম মেনে বেচাকেনা করে ভালো, না হলে বেচাকেনা করতে দেওয়া যাবে না।’ দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল শুভ বলেন, ‘সরকারিভাবে নির্দেশ দেওয়া আছে। যারা বাজারে কেনাকাটা করতে আসছে, তাদের অবশ্যই মাস্ক পরে আসতে হবে এবং সমাজিক দূরুত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করতে হবে। যে দোকানের মালিক তাকে অবশ্যই তার দোকানের সামনে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। সেই সঙ্গে প্রত্যেক ক্রেতাদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। আর যারা মাস্ক পরে না আসবে, তাদের কাছে কোন কিছু বিক্রয় করা যাবে না। তিনি ক্রেতাদের উদ্দেশ্য আরও বলেন, ‘আর আপনারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাকাটা করুন, নাইলে বড় ধরনের বিপদ হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকান মালিক জানান, তাঁরা সরকারি বিধি নিষেধ মেনে দোকান চালাচ্ছেন। কিন্ত কিছু কিছু ক্রেতারা তা মানছে না। জীবননগর: মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সরকারিভাবে গত ২৪ মার্চ থেকে ৯ মে পর্যন্ত ওষুধ ফার্মেসি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকানপাট বাদে সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে গত ১০ মে প্রশাসনিকভাবে স্বাস্থবিধি মেনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দোকানপাট চালানোর কথা থাকলেও জীবননগরে কোনো ব্যবসায়ী মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রতিটি গার্মেন্টস, কসমেটিকস ও জুতার দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ভিড়ের কারণে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতেও পড়তে হচ্ছে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন। তবে সুধীজনদের মতে জীবননগর শহরে যেভাবে সাধারণ মানুষ বাজারে সমাগম করছে, তাতে যেকোনো সময় মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটতে পারে। এখনই যদি প্রশাসনিকভাবে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে এই মহামারি করোনাভাইরাস ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করবে জীবননগর শহরে। জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মহামারি করোনাভাইরাসের জন্য আমরা সব সময় মানুষকে সচেতন করে আসছি এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য বাজারে মাইকিং করছি। পাশাপাশি প্রতিটি দোকানে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য লিফলেট ঝুলিয়ে দিয়েছি এবং তাদের মাস্ক ব্যবহার করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।’ জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘জীবননগর শহরে যেসব দোকানপাট খোলা হয়েছে, তাদের সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। যদি কেউ এই আদেশ অমান্য করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মেহেরপুর: ``করোনারভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা উপেক্ষা করেই মেহেরপুরে ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়েছে। প্রতিবছর রোজার দুই সপ্তাহ পর থেকে মূলত ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়। আর ঈদ যত কাছাকাছি আসতে থাকে কেনাকাটা বাড়তে থাকে। চলে চাঁদরাত পর্যন্ত। ঈদকে ঘিরে পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, জুয়েলারিসহ ঘর-গৃহস্থালিসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীরও চাহিদা বাড়ে। এবার মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বেই মুসলিম সম্প্রদায়ের বিষন্ন ঈদ আসতে চলেছে। কিন্তু মেহেরপুর শহরের মার্কেটগুলোর চিত্র সে কথা বলছে না। সবাই দলবেঁধে কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত। মেহেরপুরে সামাজিক দূরত্ব মানছে না কেউই, জমে উঠেছে ঈদের বাজার। সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা দিন দিন বেড়েই চলেছে বাংলাদেশও দিন দিন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, একই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। দীর্ঘ ৪৬ দিন লকডাউনের পর ঈদের কেনাকাটার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সীমিত পরিসরে খোলা হচ্ছে দেশের শিল্প-কারখানাসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কেনাকাটার নিয়ম-নীতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটার কথা বলা হলেও মেহেরপুরে সামাজিক দূরত্ব মানছে না কেউই, জমে উঠেছে ঈদের বাজার। গতকাল সোমবার মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমনই চিত্র। মানুষ সামাজিক দূরত্ব না মেনে কেনাকাটায় ব্যস্ত। ঝিনাইদহ: দুই মাস পর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট খোলার পর মানুষের যেন হুড়োহুড়ির শেষ নেই। সামাজিক দূরত্ব না মেনে প্রচণ্ড ভিড় উপেক্ষা করে মানুষ কেনাকাটায় মত্ত হয়ে পড়েছে। ঝিনাইদহে করোনাকে উপেক্ষা করে শহরের বিপণী-বিতানগুলোতে গত রোববার দিনব্যাপী এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে। করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবা থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য সরকার নিত্যপ্রয়োজনী পণ্যের দোকান ও ওষুধের দোকান ব্যতীত সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে। কিন্ত দীর্ঘ প্রায় দুই মাস পর সরকারের নির্দেশে রোববার সকাল থেকে বিপনী-বিতানগুলো খুলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বেচাকেনা করার কথা থাকলেও তা মানছে না কেউ। ক্রেতা কিংবা বিক্রেতাদের হাতে গ্লাভস নেই। নেই মুখে মাস্ক। বিপনী-বিতানগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বালাই নেই। দীর্ঘদিন বন্ধের পর মনে হচ্ছে তারা মোক্ষম সময় পেয়ে গেছে। হুড়োহুড়ি, ঠেলাঠেলি আর গাদাগাদি করে চলাচল করছে মানুষ। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকেও রয়েছে মানুষের ঢল। ঝিনাইদহ শহরের কেপি বসু সড়ক গীতাঞ্জলি সড়ক, পোস্ট অফিস মোড় ও সাপ্তাহিক বাজারে মানুষের কোলাহল ছোখে পড়ার মতো। তবুও ঝিনাইদহের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে বিপথগামী মানুষকে সচেতনতা কার্যক্রম অব্যহত রেখেছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)