বৃষ্টির আশঙ্কায় কৃষকের ঘুম হারাম

আপলোড তারিখঃ 2020-05-12 ইং
বৃষ্টির আশঙ্কায় কৃষকের ঘুম হারাম ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে চলছে ধান কাটা তানভীর সোহেল: দিনে রোদের আলোয় আলোকিত সোনালী পাঁকা ধানের খেত। সন্ধ্যা নামলেই আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা। রাত হলেই শুরু হয় ঝড় ও বৃষ্টি। এ ঝড়-বৃষ্টি যেন কৃষকের কষ্টের পাহাড় তৈরি করেছে। আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় এ বছর মোট ১৩ হাজার ৪৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন কৃষকেরা। গত বছরের তুলনায় এ বছর ধানের ফলন ও দামে ভালো পাওয়ায় খুশি কৃষকেরা। তবে, বৈরি আবহাওয়ার কারণে প্রতিদিন ধান কাটা আর বেঁধে ঘরে তোলা কাজ এ বছর যেন কৃষকের বিষ ফোঁড়া হয়ে উঠেছে। আলমডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১৩ হাজার ৪৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধানচাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও ধান ঘরে তোলা নিয়ে সংকটে রয়েছেন কৃষকেরা। ধান কাটা ও ঘরে তোলার মৌসুমের শুরু ও শেষের দিকে অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি হওয়া আশঙ্কা থাকে। এবারও বৈশাখের শুরু থেকেই হালকা মাঝারি ও ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক হাবিব মিয়া বলেন, ‘আকাশে মেঘ দেখে জানে পানি থাকে না। সমিতি থেকে কিস্তি তুলে পাঁচ বিঘা জমিতে ধানচাষ করেছি। যখন আকাশে মেঘ হয়, তখন জানে পানি থাকে না।’ ঘোলদাঁড়ি পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক আবুছদ্দিন জানান, ‘আমি দিনমজুরি করে সংসার চালাই। করোনাভাইরাসের কারণে কৃষিকাজ বন্ধ রয়েছে। বৌ-ছেলে-মেয়ে নিয়ে মহাবিপদে পড়েছি। এ রকম থাকলে কীভাবে কৃষিকাজ করব। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কাজ করতে যাওয়া যাচ্ছে না, পুলিশ বাধা দেয়। বৌ-ছেলে-মেয়ে নিয়ে ঘরে পড়ে মরার মতো অবস্থা।’ এরশাদপুর গ্রামের কয়েকজন কৃষক বলেন, বৈরি আবহাওয়ার কারণে ধান কাটায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। দিনে সূর্যের আলো, সন্ধ্যায় কালো মেঘ আর রাত হলেই বৃষ্টি শুরু হচ্ছে। মাঠের ধান পেঁকে ঝড়ে যাবার সম্ভবনা হয়ে গেছে। দ্রুত ধান কাটতে হবে। কিন্তু, ধান কাটলেই বৃষ্টির পানিতে ভিজছে। আবার দিনের সূর্যে শুকানো হলে আবারও রাতের বৃষ্টিতে ভিজছে। এ বছর কৃষকের বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জিন্নাত আলী বলেন, ‘এ বছর আলমডাঙ্গায় বোরো মৌসুমে ১৩ হাজার ৪৮ হেক্টর জমিতে ধানচাষ হয়েছে। তবে করোনাভাইরাসের কারণে ধান কাটা শ্রমিকদের ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে। তারা এক জেলা থেকে অন্য জেলা যেতে পারবে না। এদিকে মেঘ বৃষ্টি তো আছেই। সব মিলিয়ে ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিতায় মধ্যে আছি। আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের পাশে সব সময় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)