মহতী উদ্যোগ : অন্যের জমিতে শ্রম দিয়ে দরিদ্র মানুষের পাশে আলমডাঙ্গার কলেজপড়ুয়া ৬০ যুবক

আপলোড তারিখঃ 2020-05-12 ইং
মহতী উদ্যোগ : অন্যের জমিতে শ্রম দিয়ে দরিদ্র মানুষের পাশে আলমডাঙ্গার কলেজপড়ুয়া ৬০ যুবক ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা অফিস: আলমডাঙ্গা উপজেলার ভোলারদাড়ী গ্রামে করোনাভাইরাস সংকটকালে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৬০ যুবক মহতী উদ্যোগ নিয়ে দাঁড়িয়েছেন অসহায় মানুষের পাশে। অন্যের পান, কলা, ভুট্টা ও ধানখেতে শ্রম বিক্রি করে সেই উপার্জনের টাকা নিয়ে ভোলারদাড়ী, নাগদাহ ও বেনাগাড়ী গ্রামের দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। প্রায় এক মাস ধরে তাঁরা অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে দুই বেলা খাবার তুলে দিচ্ছেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাঁদের অনেকে ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরে কৃষিকাজে শ্রম দিচ্ছেন এবং সেই খাতে উপার্জিত টাকা দিয়ে মানুষের সাহায্য করছেন বলে জানা গেছে। মিঠুন রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। এরপর ৮-১০ জন বন্ধু গ্রামে জীবাণুনাশক স্প্রে করতাম, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারে উৎসাহিত করতাম। সেই সময়েই গ্রাম লকডাউন করি। কিন্তু শুধু এই কাজগুলোতেই করোনাভাইরাস মোকাবিলায় যথেষ্ট মনে হয়নি। গ্রামের দরিদ্র মানুষের কষ্ট ভাবিয়ে তোলে। এক সন্ধ্যায় কয়েক বন্ধু যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, কলেজপড়ুয়া গ্রামের সব যুবককে ডেকে একত্র করি। সকলে একমত হই কিছু একটা করতে হবে। এই ভাবনা থেকে ৬০ জন শিক্ষিত যুবক নিয়ে গঠন করা হলো ভোলারদাইড় যুব সংঘ। সিদ্ধান্ত নিলাম ৬০ জন শ্রম বিক্রিলব্ধ টাকা নিয়ে দরিদ্রদের পাশে দাঁড়াব।’ সোহেল রানা জানান, প্রতিদিন ৬০ জন শ্রম দেন না, ৩০-৩৫ জন করে শ্রম দেন। ভোরে গ্রামের সহর আলীর দোকানের সামনে উপস্থিত হতে হয়। সোহেলের কথা শেষ না হতেই মাহিন বলতে থাকেন, ‘সব কাজ তো সকলে পারে না। তাই উপস্থিত যুবকদের কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করে কোনো গ্রুপ ভুট্টাক্ষেতে, কোনো গ্রুপ পান বরজে আবার কোনো গ্রুপ ধান কাটতে যায়।’ রিমন জানান, তাঁরা নিজেদের উপার্জিত টাকায় চাল, আটা, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজ ও সাবান কিনে গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন। আপনাদের দেখে অন্য যুবকরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন কি না, এ প্রশ্নের উত্তরে শোভন জানান, তাঁদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে পাশের পাইকপাড়া গ্রামের কয়েকজন যুবক নিজ গ্রামে অনুরূপ কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন। শাহান আতিক জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয় পর্যন্ত তাঁরা যেকোনো কাজ করে সহায়তা দেবেন। কিন্তু এলাকায় ভুট্টাখেত, পানবরজের কাজ শেষ হয়ে গেছে। সাত সপ্তাহর মধ্যে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শেষ হয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে এ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়বে। নাগদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ছাত্রসমাজের এমন ভালো কাজ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা দেবে। আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন আলী বলেন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এই যুবকরা দেশপ্রেম ও আর্তমানবতার সেবায় উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। দেশের প্রতিটি সংকটে তাঁদের কর্মকাণ্ড উদাহরণ হয়ে জাতিকে সাহস জোগাবে ইনশাল্লাহ।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)