ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহ অফিস:
তিন দিনে মাথায় শৈলকূপায় আরও একজন খুন হয়েছেন। গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) শৈলকূপার শেখপাড়া গ্রামে আরাফাত রহমান বিশ্বাস নামের এক ইউভার্সিটি ছাত্র নিহত হন। সেই রেশ কাটতে না কাটতে উপজেলার সুবিদ্দা গোবিন্দপুর গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোয়াদ আলী (৪৫) নামে এক মুদি দোকানিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার (৩ মে) সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জোয়াদ আলী ওই গ্রামের দলিল উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, জোয়াদ আলী বাড়ির সামনে দোকান দিয়ে ব্যবসা করতেন। শনিবার রাতে কে বা কারা তাঁর দোকানের সামনে মলত্যাগ করে। সকালে দোকান খুলতে এসে দেখে শোরগোল শুরু করেন। সেময় প্রতিবেশী হায়দার ও ইউপি মেম্বার খেলাফৎ মোল্লার সঙ্গে তাঁর বাগবিতণ্ডা হয়। উভয় গ্রুপই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থক বলে জানা গেছে। নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেন, সামাজিক বিরোধের জের ধরে জোয়াদ আলীর ওপর হামলার ইস্যু খুঁজছিলেন ইউপি সদস্য খেলাফত। এ বিষয়ে শনিবার (২ মে) রাতে মিটিং করে পরিকল্পনা অনুযায়ী রোববার ভোর রাতে মুদি দোকানের সামনে মলত্যাগ করে রাখেন তাঁরা। রোববার সকালে জোয়াদ আলী দোকানের সামনে মল দেখে উত্তেজিত হয়ে চেচামেচি শুরু করে। এ সময় সামাজিক প্রতিপক্ষ খেলাফত মেম্বারের নেতৃত্বে জাফর, হাবিব, ওয়াজেদ, হাফিজ, শরিফুল, জিন্নাহ, ইকরাম, আছালত, হায়দারসহ ১০/১৫ লোকজন হামলা চালায়। মারপিট করার ফলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলুর রহমান জানান, নিহতের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এদিকে শেখপাড়ার ইউনিভার্সিটির ছাত্র আরাফাত রহমান হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামিদের এখনো পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মামলার বাদি।
