চুয়াডাঙ্গায় করোনা বিষয়ে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ম নজর রাখা হচ্ছে- ডিসি নজরুল ইসলাম সরকার

আপলোড তারিখঃ 2020-05-02 ইং
চুয়াডাঙ্গায় করোনা বিষয়ে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ম নজর রাখা হচ্ছে- ডিসি নজরুল ইসলাম সরকার ছবির ক্যাপশন:
মেহেরাব্বিন সানভী: করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, সেনাবাহিনী, জেলা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সব সরকারি-বেসরকারি বিভাগ কাজ করছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন বলছে, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়ে তীক্ষ্ম নজর রাখছে প্রশাসন। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় চুয়াডাঙ্গা জেলায় বিদেশ প্রত্যাগত এবং বিভিন্ন জেলা হতে আগত ব্যক্তিদের ১৪ দিন করে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হচ্ছে। বর্তমানে ভাইরাস সংক্রমিত অন্যান্য জেলা বিশেষ করে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ হতে এ জেলায় আসা ৪১২ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে, ৭ জন হোম আইসোলেশনে এবং ৭ জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। কোভিড-১৯ চিকিৎসায় জেলার প্রস্তুতি: ঈঙঠওউ-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য সরকারিভাবে ১৯৫টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। তাঁর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৮০টি বেড তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এ জেলার ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় রেখে ৩ হাজার ১০৪টি পিপিই এবং ১ হাজার ২৬১টি মাস্ক মজুদ রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ৩ হাজার ৮৪১টি পিপিই এবং ৫ হাজার ৭৮৪টি মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। করোনা আক্রান্ত রোগী পরিবহণ, জরুরি চিকিৎসায় স্থানান্তর এবং নমুনা সংগ্রহের জন্য ৪টি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে। জেলার সরকারি ত্রাণ সহায়তা পরিস্থিতি: করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা হিসেবে বরাদ্দপ্রাপ্ত ত্রাণ সহায়তার মধ্যে এ পর্যন্ত জিআর (চাল) ১২৮৩ মেট্রিক টন এবং জিআর (ক্যাশ) ৪৭ লাখ ৪৯ হাজার ৫ শ টাকা এবং শিশু খাদ্য ক্রয় বাবদ ১৫ লাখ টাকা বিশেষ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বরাদ্দ থেকে শনিবার ২ মে পর্যন্ত ৯৪ হাজার ৫ শ টি পরিবারের মধ্যে ৯ শ ৪৫ মে. টন চাল ও ৩২ লাখ ৩৮ হাজার ৯ শ টাকার ত্রাণসামগ্রী এবং ২ হাজার ৬১৯টি পরিবারের মধ্যে ৭ লাখ ১ হাজার ৫ শ টাকার শিশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলাসহ জেলা ত্রাণ ভাণ্ডারে বর্তমানে ৪৩৮ মে. টন জিআর (চাল), ১৫ লাখ ১০ হাজার ৬ শ জিআর (ক্যাশ) এবং শিশুখাদ্য ক্রয় বাবদ ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৫ শ টাকা মজুদ রয়েছে। তা ছাড়া জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মোবাইলে কল, এসএমএস এবং ফেসবুক মেসেঞ্জারে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিম্নবিত্ত এবং নিম্নমধ্যবিত্তের মধ্যে ২ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত ১ হাজার ৮ শ টি পরিবারকে তাদের বাড়িতে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জেলা, উপজেলা এবং পৌরসভায় মনিটরিং টিম গঠন করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ত্রাণ/খাদ্য সামগ্রী/শিশুখাদ্য বিতরণ কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে। করোনা সহায়তা তহবিল: জেলা প্রশাসন কর্তৃক জেলায় করোনা সহায়তা তহবিল খোলা হয়েছে। ইতিমধ্যে করোনা-সহায়তা তহবিলে তারা দেবী ফাউন্ডেশন ৫ লাখ টাকা, আত্মবিশ্বাস ১ লাখ টাকা, সবজি বিক্রেতা রহিদুল ইসলাম ৭ হাজার টাকা, বড়বাজার ক্ষুদ্র মৎসজীবী সমিতি ৫ হাজার টাকা, ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতি ২০ হাজার টাকা, হারুনর রশিদ ১০ হাজার টাকা, আব্দুস সামাদ ১০ হাজার টাকা এবং গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম ১০ হাজার টাকা জমা প্রদান করেছেন। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের করোনা-সহায়তা তহবিলে জাপান টোব্যাকো বাংলাদেশ ৪ শ প্যাকেট, বাংলাদেশ এক্সটেনশন এডুকেশন সার্ভিসেস (বিজ) ২ শ প্যাকেট, মাইটিভি ৫০ প্যাকেট, দেশ ট্রেড লিংক ৪০ প্যাকেট ত্রাণসামগ্রী প্রদান করেছে। এসব ত্রাণসামগ্রী জেলা প্রশাসনের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে বিতরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা: চুয়াডাঙ্গা জেলায় করোনাভাইরাস (ঈঙঠওউ-১৯)-এর প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জনসমাবেশ বন্ধকরণ, বাজার মনিটরিং এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণের নেতৃত্বে ১ এপ্রিল হতে ২ মে পর্যন্ত পরিচালিত মোবাইল কোর্টে ১ হাজার ১৪টি মামলায় ৯ লাখ ৫৯ হাজার ৬ শ টাকা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, চুয়াঙ্গায় করোনা বিষয়ে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ম নজর রাখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, সেনাবাহিনী, জেলা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সব সরকারি-বেসরকারি বিভাগ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। চুয়াডাঙ্গায় করোনা পরিস্তিতি মোটামুটি ভালো। নতুন আক্রান্ত নেই। জেলায় প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। বিদেশ এবং বাইরের জেলা থেকে আসা সবাইকে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হচ্ছে। ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে খাদ্য-সহায়তা প্রদানের তালিকা করা হচ্ছে নিয়মিত। তেমনি বিতরণ কার্যাক্রমও অব্যাহত আছে। জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার সবাইকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে এবং নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি মনে করি, অতিদ্রুতই আমরা এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠব। তবে আমাদের সরকারি নির্দেশনা মানতে হবে। সরকার সব প্রকার সহযোগিতা করছে। এখন আমাদেরও সরকারকে এই সংকটকালীন পরিস্থিতে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)