ছবির ক্যাপশন:
গাংনী অফিস:
মেহেরপুরের গাংনীতে বিনা চিকিৎসায় পাতানী খাতুন (৭০) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন তাঁর স্বজনরা। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১টার দিকে গাংনী হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। পাতানী খাতুন গাংনী উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের মৃত আব্দুল ওহাবের স্ত্রী।
পাতানী খাতুনের ছেলে আওয়াল হোসেন বলেন, তাঁর মা উচ্চ রক্তচাপের রোগী। হঠাৎ মায়ের প্রেসার নেমে গেলে তাঁকে গাংনী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা রোগীর করোনা সংক্রমণ আছে সন্দেহে এক ঘণ্টারও বেশি চিকিৎসা না দিয়ে বসিয়ে রাখেন। অনেক অনুনয় বিনয়ের পর একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ইসিজি করতে বললে তিনি তা করে আনেন। অতঃপর তাঁর মাকে আবারও হাসপাতালে নিয়ে অক্সিজেন দেওয়ার মাত্র ১ মিনিট পরই খুলে নেওয়া হয়। এর পরপরই তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়। তিনি বিচারের দাবিতে লাশ নিয়ে শহীদ মিনারে অনশন করতে চেয়েছিলেন। তবে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত করে বিচারের আশ্বাস দিলে লাশ বাড়িতে নেওয়া হয়।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা ডা. রিয়াজুল আলম বলেন, রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পর অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। রোগীর স্বজনেরা কুষ্টিয়া নিতে গড়িমসি করায় তাঁর মৃত্যু হয়। গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা রহমান বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবগত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় তাঁরা লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দীন বলেন, রোগীর হার্টে সমস্যা ছিল বলে জানতে পেরেছি। প্রাথমিক চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে। পরে রেফার্ড করা হলে তাঁরা রোগী কুষ্টিয়া নিতে দেরি করায় ওই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তবে চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
