ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা অফিস:
করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। শুধুমাত্র চিকিৎসালয়, ফার্মেসি, কাঁচাবাজর, মুদিখানার দোকান ছাড়া সব প্রকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। বন্ধ রয়েছে হোটেল ও মিষ্টির দোকান। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে ডেইরি খামারিরা। এর মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলা শহরের প্রায় অর্ধশত মিষ্টির দোকানসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজারে অবস্থিত দুই শতাধিক মিষ্টির দোকান বন্ধ। যে কারণে কম দামে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন খামারিরা। অনেক সময় কম দামেও দুধ বিক্রি না হওয়ায় ফেলে দিতে হচ্ছে তাঁদের।
আলমডাঙ্গার কুমারী গ্রামের খামারি রানা মণ্ডল জানান, ‘করোনাভাইরাসের কারণে বড় কোনো প্রতিষ্ঠান দুধ নিচ্ছে না। মিষ্টির দোকান ও হোটেলগুলোও বন্ধ। অল্প দামেও দুধ বিক্রি সম্ভব হচ্ছে না। এখানে দুধ সংরক্ষণ করে রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই প্রায়ই দুধ বিক্রি করতে না পেরে ফেলে দিতে হচ্ছে। বর্তমানে আমার খামারে দুধ না দুইয়ে বাছুরকে দিয়ে সবই খাওয়ানো হচ্ছে। অতিরিক্ত দুধ খেয়ে বাছুরের পেট খারাপ হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে খামারিরা পথে বসে যাবেন।’ কলেজপাড়ার খামারি জেহুন আলী সেণ্টু বলেন, ‘আমার খামারে ছয়টি গাভী রয়েছে। দুধ বিক্রি করতে পারলে প্রতিদিন সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা আসত। কিন্তু এত দুধ কোথায় বিক্রি করব? মিষ্টির দোকান বন্ধ।’
অন্যদিকে, বিভিন্ন খামারের মালিকেরা তাঁদের খামারের পশুদের জন্য খাবার কিনতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন। বর্তমানে যানবাহন চলাচল না করাতে পশুখাদ্যের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে লোকশানের বোঝা মাথায় নিয়ে খামার বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবেনা বলে জানিয়েছেন আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন খামারের মালিকেরা।
আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ হেল কাফি জানান, ‘খামারিদের টিকিয়ে রাখার জন্য খামারিদের মধ্যে যাদের ব্যাংক লোন রয়েছে, তাঁদের ঋণের সুদ মওকুফের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
