থামছে না মৃত্যুর মিছিল ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ১০, শনাক্ত ৩৯০ মোট মৃত্যু ১২০, মোট আক্রান্ত ৩,৭৭২

আপলোড তারিখঃ 2020-04-23 ইং
থামছে না মৃত্যুর মিছিল ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ১০, শনাক্ত ৩৯০ মোট মৃত্যু ১২০, মোট আক্রান্ত ৩,৭৭২ ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ প্রতিবেদন: দেশে থামছে না করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। গতকাল বুধবার পর্যন্ত ৫৮টি জেলায় ছড়িয়েছে কোভিড-১৯। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মারা গেছেন আরো ১০ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯০ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১২০ জন ও আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৭৭২ জন। দুর্গম পাহাড়েও ছড়িয়েছে করোনা। দেশের সবচেয়ে পূর্বের ও দুর্গম উপজেলা থানচিতে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গতকাল করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরো পাঁচজন। তাদের মধ্যে ময়মনসিংহে দুইজন, বরিশালে একজন, মেহেরপুরে একজন ও খুলনার একজন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় তিন হাজার ৯৬টি নমুনা পরীক্ষা করে এই ফল পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত করোনায় মোট শনাক্ত হলেন তিন হাজার ৭৭২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন পাঁচজন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হলেন ৯২ জন। গতকাল বুধবার বেলা ২টা ৩০ মিনিটে দেশের কোভিড-১৯ সম্পর্কিত সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিন অনলাইনে প্রচারিত হয়। সেখানে ভিডিও কনফারেন্সে এই তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছিল তিন হাজার ৫২টি। আগের দিনের কিছু নমুনা পরীক্ষা বাকি ছিল। তাই নমুনা পরীক্ষার হার আগের দিনের চেয়ে দশমিক এক শতাংশ বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের বিষয়ে অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের মধ্যে পুরুষ সাতজন এবং নারী তিনজন। তাদের মধ্যে সাতজন ঢাকার ভেতরে এবং ঢাকার বাইরের তিনজন রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের একজন করে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে তিনজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে তিনজন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দুইজন আছেন।’ আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা শহর এবং ঢাকা বিভাগের চার জেলায়ই রোগী বেশি বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, ‘শতকরা হিসেবে মোট আক্রান্তের বেশির ভাগই ঢাকা বিভাগের। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক ঢাকা শহরে, বাকি অর্ধেক নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা মিলিয়ে।’ ডা: নাসিমা বলেন, ঢাকার বাইরের জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫০৮ জনের মধ্যে সংক্রমণ পাওয়া গেছে নারায়ণগঞ্জ জেলায়। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৬৪ জন, বাকিরা বিভিন্ন উপজেলায়। নারায়ণগঞ্জ জেলায় এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৩৫ জন, সুস্থ হয়েছেন ১৬ জন। বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ১৫০ জনকে, এখন পর্যন্ত মোট আইসোলেশনের সংখ্যা ৯০০ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১৫ জন, এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৫৯৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন তিন হাজার ২৪০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৩২৭ জন। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ৭৮ হাজার ১১৯ জন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ছয় হাজার ৭৮ জন। ৫৮ জেলায় কোভিড-১৯, সর্বাধিক রোগী ঢাকা বিভাগে : করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ ছড়িয়েছে বাংলাদেশের ৫৮টি জেলায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে, সবচেয়ে কম আক্রান্ত খুলনায়। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তবে সংবাদ বুলেটিনে কোন জেলায় কত আক্রান্ত তার বিস্তারিত জানানো হয়নি। এজন্য রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) ওয়েবসাইট দেখতে বলেন ডা: নাসিমা। আইইডিসিআরের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলা, চট্টগ্রাম বিভাগের ৯, সিলেট বিভাগের ৪, রংপুর বিভাগের ৮, খুলনা বিভাগের ৮, ময়মনসিংহ বিভাগের ৪, বরিশাল বিভাগের ৫ এবং রাজশাহী বিভাগের ৭টি জেলায় কোভিড-১৯ রোগী পাওয়া গেছে। এখনো রোগী শনাক্ত হয়নি রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ভোলা, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, নাটোর জেলায়। আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ৫১০ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এক হাজার ২২৯ জন ঢাকা শহরের। ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ৫০৮ জন, গাজীপুরে ২৬৯ জন, কিশোরগঞ্জে ১৪৬ জন, নরসিংদীতে ১৩৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। দেশে মোট আক্রান্তের ৮৩ শতাংশই ঢাকা বিভাগের। এর মধ্যে ৪১ শতাংশ ঢাকার, ৪২ শতাংশ ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪২, সিলেটে ২০, রংপুরে ৬০, খুলনায় ২৪, ময়মনসিংহে ১৩২, বরিশালে ৭০ এবং রাজশাহী বিভাগে ২৫ জন রোগী পাওয়া গেছে। সবচেয়ে কম শূন্য দশমিক ৭১ শতাংশ রোগী খুলনা বিভাগে শনাক্ত হয়েছে। এই বিভাগের বাগেরহাট ও মাগুরায় একজন করে রোগী পাওয়া গেছে। সুনামগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায়ও একজন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়েও করোনা : বাংলাদেশের সবচেয়ে পুর্বের উপজেলা থানচিতে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রথম একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত ৩৮ বছরের ওই ব্যক্তি দুর্গম বড় মদক এলাকার। সিভিল সার্জন ডা: অং সুই প্ররু মারমা জানান, আক্রান্ত ব্যক্তি বান্দরবান সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে আছেন। আক্রান্তের ছোট ভাই যিনি নিজেও হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে আছেন। মোবাইল ফোনে তিনি জানান, গত ১০ এপ্রিল বড় মদকের বাড়িতে তার ভাইয়ের জ্বরের উপসর্গ দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘আমার ভাই বিদেশফেরত কিংবা করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত কারো সান্নিধ্যে ছিলেন না। তবে মার্চের মাঝামাঝিতে একদিনের জন্য তিনি বান্দরবান শহরের একটি হোটেলে ছিলেন।’ প্রথম জ্বর আসার পাঁচ দিন পর তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)