ডাক্তার ও নার্সদের বিশেষায়িত পোষাক ছাড়াই চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম
ঝিনাইদহ অফিস:
ঝিনাইদহের সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে করোনা প্রতিরোধে ডাক্তার ও নার্সদের বিশেষায়িত কোনো পোষাক নেই। ফলে চিকিৎসকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। জেলায় কোনো করোনা আক্রান্ত রোগী না থাকলেও সার্বক্ষণিক উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে চিকিৎসাকর্মীদের। কবে নাগাদ বিশেষায়িত পোষাক আসবে, তা নিশ্চিত করতে পারেননি হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. আইয়ুব আলী। এদিকে, ঝিনাইদহে নতুন করে ৫১ জন বিদেশফেরতসহ ৫৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল শনিবার পর্যন্ত সারা জেলায় মোট ৪৮৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হলো। এছাড়া কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ৩৭ জন বিদেশফেরতসহ মোট ১৮৯ জনকে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে বলা হয়েছে। এদিকে, জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাকর্মীদের কোনো ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। এর ফলে গত বৃহস্পতিবার ডিউটি শেষ করে বাড়িতে গিয়ে ঠাণ্ডা, কাশি ও জ্বরে অসুস্থ হয়ে পড়েন দুই চিকিৎসক। বর্তমানে তাঁদেরকে নিজ নিজ বাড়িতে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আয়ুব আলী বলেন, ‘আমরা শুধুমাত্র করোনা চিহ্নিত ব্যক্তি বাদে অন্যদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে দিচ্ছি না। শুধু মাস্ক ব্যবহার ও অন্যান্য স্যানিটাইজেশনের কথা বলছি। যে দুইজন চিকিৎসক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তাঁদেরকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে। সিজনাল চেঞ্জের কারণেও তাঁদের এই সমস্যা হতে পারে।’
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মেডিকেল অফিসার বলেন, ‘দেশের এমন পরিস্থিতিতেও কর্তৃপক্ষ কেন আমাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার ব্যবস্থা করছে না, সেটা বুঝতে পারছি না। আমাদের দুইজন সহকর্মী অসুস্থ হয়েছেন, আমরাও তো হতে পারি। যদি আমরা সুরক্ষিত না থাকি, তাহলে কেমন করে চিকিৎসাসেবা দেব? কর্তৃপক্ষের এমন অবহেলা চলতে থাকলে চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।’
