ছবির ক্যাপশন:
বাজার মনিটরিংয়ে নিজেই মাঠে নামলেন ডিসি সরোজ কুমার
ঝিনাইদহ অফিস:
করোনাভাইরাসের প্রভাবে বেশ ক’দিন ধরেই সাধারণ মানুষ ঘরে মজুদ করা ধরেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। সেই তালিকায় চাল, তেল, আটা, পেঁয়াজ, রসুন ও ডালকে প্রাধান্য দিয়ে অতিরিক্ত পরিমাণ কিনতে শুরু করেছেন। ঝিনাইদহতেও এই প্রভাবে অস্থির হয়ে ওঠে বাজার। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ার করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নামানো হয় ভ্রাম্যমাণ টিম। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও বেশ কিছু উপজেলায় অভিযান চালায়। তাতেও কাজ হচ্ছে না। বরং সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অসৎ ব্যবসায়ীরা সুযোগ ধরতে চাল, পেঁয়াজ, রসুন ও ডালের দাম বাড়িয়ে দেন। এই অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য গতকাল শনিবার ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ নিজেই মাঠে নেমেছেন। জেলা প্রশাসনের ১০টি টিম বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে চাল ও পেঁয়াজের দাম। প্রতি চালের বস্তায় দেড় শ থেকে চার শ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে মোটা চালের বাজার এখন অস্থির। ৩০ টাকার পেঁয়াজ এখন উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। বাজারের আগুনে মানুষ হাঁসফাঁস করতে থাকে। প্রশাসনিক কোনো পদক্ষেপ ব্যবসায়ীদের মন গলাতে পারছে না। তাঁদের ভাষ্য, চাহিদা বেশি থাকায় সরবরাহ কম। ঝিনাইদহ কেসি কলেজের পাশে চয়ন খাদ্য ভাণ্ডারের মালিক দীপক সাহা দুষলেন চাল কল মালিকদের। তিনি বলেন, চালের দাম মূলত চাল কল মালিকরাই বৃদ্ধি করেছেন। মা এন্টারপ্রাইজের মালিক স্বপন কুমার সাহা বলেন, বেশি বেশি করে চাল কেনার কারণে বাজারে চাপ পড়ছে। এতে মিলাররা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। রহমান এন্টারপ্রাইজের মালিক মজিবর রহমান জানালেন, আগে যাঁরা এক বস্তা করে চাল কিনতেন, তাঁরা এখন ৪-৫ বস্তা করে কিনছেন।
চাল ব্যবসায়ীদের ঢালাও অভিযোগ অস্বীকার করে মিল মালিক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, এখন ধানের সঙ্কট রয়েছে। মিলে কোনো ধান নেই। নেই বাজারেও। বেশি চাপ পড়ার কারণে বেশি টাকা দিয়ে ধান কিনতে হচ্ছে। এতেই চালের দাম বেড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই মূহুর্তে সরকার উন্মুক্ত বাজারে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করতে পারে। তাহলে বাজার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
