ছবির ক্যাপশন:
প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দুবাই ফেরত মিজানুর রহমান মিজান বাইরে ঘোরাঘুরি করছে, এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে অভিযানে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভূপালী সরকার। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও তাঁর সঙ্গে থাকা পুলিশের দুই সদস্যকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করতে উদ্যত হন প্রবাসী মিজানুর রহমান ও তাঁর দুই ভাই। গতকাল শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চাঁচড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ আসার আগেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান ওই গ্রামের মনতেজ শেখের ছেলে প্রবাসী মিজানুর রহমান মিজান ও তাঁর দুই ভাই জাহিদ ওরফে কালু ও সাইদ হোসেন।
গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, ৪-৫ দিন আগে দুবাই থেকে দেশে আসেন মিজান। তিনি আসার পর থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে না থেকে বাইরে ঘোরাঘুরি করতে থাকেন। এলাকার লোকজন তাঁকে বোঝালেও তিনি মানছেন না। অভিযানের সঙ্গে থাকা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন আলী বলেন, ‘আমরা দুইজন এসিল্যান্ড স্যারের সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতে যায়। এরপর বিদেশফেরত ওই ব্যক্তিসহ তাঁর দুই ভাই আমাদেরকে মারধর করার চেষ্টা করেন। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।’
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভূপালী সরকার বলেন, ‘মিজানুর রহমান বাড়ি আসার পর থেকে বাইরে ঘোরাঘুরি করছেন। এলাকাবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে আমি শুক্রবার শ্রীরামপুর চাঁচড়া গ্রামে যাই। সেখানে গিয়ে আমি মিজানুর রহমানকে বলি, আপনি বাইরে ঘোরাঘুরি করছেন কেন? তিনি তখন মসজিদে নামাজ পড়ার কথা বলেন। আমি তাঁকে বাড়িতে নামাজ পড়ার কথা বললে, তিনি সেটা মানেননি। তখন তাঁর দাবি অনুযায়ী সরকারি আদেশ পালনে দেশে ফেরার কাগজ দেখানোর অনুরোধ করি। তিনি কাগজ না দেখিয়ে অকথ্য ভাষা ব্যবহার করেন। আমাদেরকে এক প্রকার লাঞ্ছিত করেন। এরপর কাগজপত্র না দেখিয়ে খলিলুর রহমানকে তথ্যদাতা ভেবে তাঁকে আমাদের সামনে মারতে উদ্যত হন এবং পুলিশ ও আমার ওপর চড়াও হন।’ তিনি আরও জানান, ‘এ সময় ইউএনও স্যার ও কালীগঞ্জ থানার ওসিকে বিষয়টি জানালে থানা থেকে অতিরিক্ত ফোর্স আসার আগেই আসামিরা পালিয়ে যান। মোবাইল কোর্টে বিচার না হওয়ায় নিয়মিত মামলা করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়।’
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহা. মাহাফুজুর রহমান মিয়া বলেন, বর্তমানে আসামিরা পলাতক আছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
