ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় বাজার মনিটরিংকালে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় নিত্যপণ্যের বাজার সহনীয় রাখতে বাজার মনিটরিং করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার নিজে বাজার মনিটরিং করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক শহরের বড় বাজারের পাইকারি আড়ত, খুচরা বাজারসহ চালের আড়তগুলো মনিটরিং করেন। কথা বলেন ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে। ক্রেতাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, করোনার প্রভাবের কারণ দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা গত কয়েকদিনে চাল, ডাল, পেয়াজ, রসুন সবজিসহ সব পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। সবচেয়ে বেশি বাড়িয়েছেন চালের দাম। গত কয়েকদিনে কেজি প্রতি বাড়ানো হয়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, করোনার প্রভাবে এমনিতেই কিছু পণ্যের সঙ্কট আছে। তারপর গুজবে কান দিয়ে ক্রেতারাও ছুঁটছেন বাজারে। তাঁরা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য কেনার কারণে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠছে।
এ সময় জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার ব্যবসায়ীদের সর্তক করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির করা যাবে না। যাঁরা এমন অসাধুপায় অবলম্বন করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হবে। তিনি জানান, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এখন থেকে প্রতিদিন জেলা সদরসহ জেলার চারটি উপজেলাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বাজার মনিটরিং করবেন। কোনো অবস্থাতেই বাজার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে দেওয়া হবে না। যাঁরা এমন দেশবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকবেন, গোয়েন্দাদের মাধ্যমে তালিকা করে তাঁদের আইনের আওতায় নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক ক্রেতাদের উদ্দেশে বলেন, গুজবে কান দিবেন না। দেশে সব পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। অহেতুক গুজবে কান দিয়ে অতিরিক্ত পণ্য কিনতে বাজারে না আসারও আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ ইয়াহ্ ইয়া খান, অতিরক্ত পুলিশ সুপার আবু তারেক, এনডিসি সিব্বির আহমেদ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা মার্কেটিং অফিসার শহিদুল হক, সদর থানার ওসি (তদন্ত) লুৎফুল কবির ও জেলা দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি আব্দুল কাদের যোগলু।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান ডিঙ্গেদহ বাজারসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন বাজার মনিটরিং করেছেন। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেটও বিতরণ করেন তিনি। এ সময় তিনি মূল্য তালিকা না থাকা এবং অতিরিক্ত মূল্য রাখায় দুই দোকান মালিককে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা করেন। তিনি মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য রাখায় সেগুলি ধ্বংস করেন।
