জীবননগরে যুবদলের কমিটি গঠন নিয়ে দুই গ্রুপের মুখোমুখী অবস্থান
জীবননগর অফিস:
সদ্য ঘোষিত জীবননগর উপজেলা যুবদলের কমিটি গঠন নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও মুখোমুখী অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিএনপি নেতা ডাবলুর ওষুধের দোকানের পাশে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে যুবদল নেতা ইকতাকে পুলিশ হেফাজতে নিলেও পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
জানা যায়, বিএনপি ডাবলুর নেতৃত্বে যুবদল নেতা শামীম, ইকতা বেশ কিছু নেতা-কর্মী জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। এমন সময় জীবননগর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ও সীমান্ত ইউপি চেয়ারম্যান মঈন সমর্থিত বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী সেখানে যেয়ে দাড়ালে বাধে বিপত্তি। একপর্যায়ে দুই গ্রুপের নেতা-কমীদের মধ্যে সদ্য ঘোষিত জীবননগর উপজেলা যুবদলের কমিটি গঠন নিয়ে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। এ সময় লাঠিসোটা নিয়ে দুই গ্রুপের লোকজন মুখোমুখী অবস্থান নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে রক্তক্ষয়ী কোনো সংঘর্ষের আগেই সেখানে জীবননগর থানা-পুলিশের একটি দল উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর আগে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুই গ্রুপের নেতা-কর্মীরা পালিয়ে গেলেই ঘটনাস্থল থেকে যুবদল নেতা ইকতাকে থানাহেফাজতে নেয় পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে জীবননগর শহরজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় ধরণের রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।
এবিষয়ে বিএনপি নেতা ডাবলুর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এবিষয়ে জীবননগর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ও সীমান্ত ইউপি চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দিন মঈন-এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জীবননগরের যুবদল নেতা সাইফুল তার এক আত্মীয়কে দেখতে রাতে হাসপাতালে যান। এ সময় হাসপাতালের সামনে আগে থেকে অবস্থান করা ডাবলু, ইকতা ও শামীম সাইফুলকে মারধর করেন। এ সংবাদ শোনার পর আমরা আহত সাইফুলকে নিয়ে ডাবলুর কাছে যায় এবং সাইফুলকে মারধরের কারণ জিজ্ঞাসা করি। এসময় তারা উল্টো আমাদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ঘটনাস্থলে পুলিশ ছুটে এলে, আমরা সেখান থেকে চলে আসি ।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সদ্য ঘোষিত জীবননগর উপজেলা যুবদলের কমিটি গঠন নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও মুখোমুখী অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে। তবে দুই গ্রুপের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটার আগেই খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ইকতা নামের একজনকে থানাহেফাজতে নেওয়া হয়। পরে ইকতাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
