ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহ অফিস:
ঝিনাইদহের কৃষি ব্যাংকে ঋণ নিতে গেলে ঘুষের সঙ্গে ছিটে রুটি ও দেশী মুরগির গোস্ত দিতে হয়। তা না হলে মেলে না কৃষি ঋণ। ভুক্তভোগী সাতজন কৃষক কৃষি ব্যাংকের আঞ্চলিক অফিসে এমন একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। চিঠিতে তাঁরা ঘুষের টাকা ফেরত ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, তাঁরা ঋণ নিতে গেলে ব্যাংক ম্যানেজার রুবায়েত হাসান তাঁদেরকে আলোচনার জন্য ব্যাংকের আইও আশরাফুল ইসলাম, অসীম কুমার সাহা, সিদ্দিকুর রহমান ও আক্তারুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। কৃষকদের কাগজপত্র ও ঋণ নিতে সব শর্ত পূরণ করা হলেও ঋণ দিতে প্রথমে অপরগতা ও পরে ঘুষের প্রস্তাব দেন।
কৃষক ঠাণ্ডু মিয়া জানান, ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাবে রাজি হলে কৃষকদের বাড়িতে দাওয়াত করে ব্যাংকের আইওদের ছিটে রুটি ও দেশী মুরগীর গোস্ত দিয়ে আপ্যায়ন করতে হয়। তাঁদের অভিযোগ, যাঁরা ঘুষ ও আপ্যায়ন করতে পেরেছের, কেবল তাঁদেরই ঋণ দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগে যাঁরা স্বাক্ষর করেছেন, তাঁরা হলেন- ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বেতাই গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে ফজলুর হক, কুঠি দুর্গাপুর গ্রামের গোলাম রহমানের স্ত্রী মালেকা খাতুন, একই গ্রামের মৃত জুমাত আলীর ছেলে সামছুল হক, সিরাজ উদ্দিনে ছেলে সোহেল উদ্দিন, চান্দেরপোল গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে আবু তালেব, ঠান্ডু মিয়া, পটল বিশ্বাস ও রনজিৎ বিশ্বাস।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে একটি সিন্ডিকেট নামে বেনামে ঋণ নিয়ে দেদারছে সুদে ব্যবসা ও এনজিও চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ কৃষকেরা ঘুষ ছাড়া ঋণ পাচ্ছে না। এ ব্যাপারে কৃষি ব্যাংক আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তা এনায়েত করিম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, ব্যাংকে এ ধরনের অভিযোগের কথা শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
