ছবির ক্যাপশন:
বদলে গেছে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের দৃশ্যপট
রুদ্র রাসেল:
ফুল সৌন্দর্যের প্রতীক। তবে সেটি যদি হয় পরিপাটি ও পরিচ্ছন্ন একটি পূর্ণাঙ্গ ফুলের বাগান, তাহলে তো কোনো কথায় নেই। আর এমনি নজর কাড়া ফুলের বাগানের সৌন্দর্যে বদলে গেছে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের দৃশ্যপট। হাসপাতালে এখন দেখা মেলে নানা রকম বাহারি দেশি-বিদেশি নয়নাভিরাম মনমুগ্ধকর ফুলের সমারোহ। অনেকে উৎফুল্ল চিত্তে ফুলের বাগান ঘুরছেন আবার অনেকেই ব্যস্ত রঙিন ফুলের সঙ্গে ছবি তুলতে।
জানা যায়, ডা. শামীম কবির চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা পদে যোগদান করেন ২০১৭ সালের অক্টোবরে। এরপর থেকেই ব্যাপক পরিবর্তন আসতে থাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের পরিবেশে। সবার সহযোগিতায় ধীরে ধীরে হাসপাতালকে তিনি পরিণত করেন ফুলের বাগানে। তিনি কখনো হাসপাতালের সব চিকিৎসকের কাছ থেকে চাঁদা তুলে আবার কখনো-বা নিজ উদ্যোগেই ফুলের চারা কিনে রোপণ করতেন হাসপাতালের চারপাশে। এখন সেই হাসপাতাল পরিণত হয়েছে ফুলের বাগানে। বর্তমানে হাসপাতালে শোভা পাচ্ছে ৪৫ রকমেরও বেশি দেশি-বিদেশি ফুলের গাছ। এ ছাড়া বাগানে রয়েছে আম, পেয়ারা, পেঁপে, কুলসহ বিভন্ন রকম ফলের গাছও।
হাসপাতালের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই দুই পাশে চোখ পড়বে নানা রঙের ফুল। জরুরি বিভাগ থেকে বাইরে বের হয়ে ডান পাশে তাকালেই পবেন মুগ্ধতা। ফুলের বাগানে হরেক রকমের ফুলের সাথে দেখা মিলবে বিভিন্ন ফলদ বৃক্ষের। হাসপাতালের চারপাশ ঘুরে দেখে মনে হবে যেন ছোট একটি পার্ক। রোগীরা খানিকটা উঠে দাঁড়াতে পারলে ছুটে যাচ্ছেন ফুলের বাগানে। যেন ফুলের বাগানে এলেই ভালো হয়ে যায় তাদের মন। প্রতিদিনই সকাল আর বিকেলে রোগীরা ভিড় জমাচ্ছেন বাগানে। এ ছাড়া অন্যরাও এসে সময় কাটাচ্ছেন সেখানে।
আব্দুল রফিক শিক্ষকতা করেন। তাঁর ছেলে শিশির আহম্মেদকে ভর্তি করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে। তিনি প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালের দৃষ্টিনন্দন এ ফুলের বাগান ঘুরে ঘুরে দেখেন। আব্দুল রফিকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, শিশু ওয়ার্ডের বিছানায় শিশির (ছেলে) সব সময় চুপচাপ থাকে। বাগানের কাছে আসলে ওর মুখে হাসি ফোটে। যদিও তিন তলা থেকে নিচে নামা একটু কষ্টকর, তবুও বাগানে এলে শিশির খুব খুশি হয়।
কথা হয় বাগানে ঘুরতে আসা আরেক রোগীর স্বজন মোমেনা বেগমের সঙ্গে। তাঁর স্বামী ৬ দিন ধরে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি। তিনি সকাল-বিকেলে সুযোগ পেলেই স্বামীকে নিয়ে ফুলের বাগানে ঘুরতে আসেন। দৃষ্টিনন্দন এ বাগানের পাশে যতক্ষণ থাকেন, ততক্ষণ তাঁদের বেশ ভালো লাগে বলে জানান তিনি।
হাসপাতালের দৃষ্টিনন্দন এই ফুলের বাগান দেখে আব্দুল রফিক ও মোমেনা বেগমের মতো আরও অনেক রোগী ও তাদের স্বজনেরা বেশ খুশি। তাঁদের মতে, ফুলের বাগানের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। আগের তুলনায় এখন হাসপাতালের পরিবেশ অনেক পরিচ্ছন্ন।
হাসপাতালে ফুলের বাগান করার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. শামীম কবির বলেন, ‘ফুল সব সময় মানুষের মনে আনন্দ দেয়। রোগীরা যতটা ওষুধে সুস্থ হয়ে, ততটাই সুস্থ হয়ে ওঠে মনের জোরে। সুন্দর পরিবেশ সবার মনই ভলো করে দেয়। সেই ভাবনা থেকেই হাসপাতালের চারপাশে বাগান করার কাজ শুরু করি। ভালো লাগে যখন রোগী, তাদের স্বজন, এমনকি আমার বন্ধুরাও ঘুরতে আসে হাসপাতালের এই ফুলের বাগানে।’ তিনি জানান, এ বাগান তৈরির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন হাসপাতালের সব চিকিৎসক, হাসপাতাল কমিটি, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
