ব্রকলি চাষে স্বাবলম্বী রণজিৎ

আপলোড তারিখঃ 2020-03-01 ইং
ব্রকলি চাষে স্বাবলম্বী রণজিৎ ছবির ক্যাপশন:
প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ: বছর কয়েক আগেও পরের খেতে কাজ করতেন রণজিৎ। সে সময় তাঁর রোজগারের টাকায় পরিবারের সদস্যদের একদিকের চাহিদা মেটাতে পারলেও অন্যদিক থাকত অপূরণীয়। সংসারে অভাব তাঁকে পিছু ছাড়ত না। তাই বলে হতাশাকে কাছে ভিড়তে দেননি তিনি। দিন-রাত কৃষিতে হাড়ভাঙা পরিশ্রম আর সাধনা করে পাল্টে ফেলেছেন নিজেকে। এখন তাঁর খেতেই প্রতিদিন ৭-৮ জন শ্রমিক কাজ করছেন। কৃষিক্ষেত্রে পরিশ্রমের মাধ্যমে মাত্র ২০ বছরের ব্যবধানে তিনি হয়েছেন ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মধ্যে একজন স্বনির্ভর কৃষক। এ বছর অন্যান্য সবজির সঙ্গে তিনি প্রায় ২৪ শতক জমিতে সবুজ ফুলকপির মতো দেখতে ব্রকলি, আর লাল পাতাকপি (পার্পল) কেউ কেউ এটাকে রেড প্রিন্ট বলা হয়। এ দুটি চাষ করে এলাকায় বেশ আলোচনায় এসেছেন তিনি। সরেজমিনে কালীগঞ্জের ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের মাঠে গেলে দেখা যায়, দিগন্তজোড়া মাঠে নানা ধরনের শীতকালীন সবজির চাষ। কিন্তু এ গ্রামের মাঠের মধ্যে কৃষক রনজিতের খেতে চাষ করা হয়েছে ব্যতিক্রমী সবজি। তাঁর খেতে গেলে দেখা যায়, ব্রকলি আর অন্যপাশে লালচে রঙের পাতাকপি রেড প্রিন্ট চাষ করেছেন। খেতটি লাল আর সবুজে এক অপরুপ ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে। কৃষক রনজিৎ কুমার বিশ্বাস জানান, তাঁর বাবা-কাকারাও সবজির চাষ করতেন। তিনি নিজে বাবার দেওয়া মাত্র ১৮ শতক জমি পেয়েছেন। এতটুকু জমিতে চাষ করে খরচবাদে সংসারের সদ্যস্যদের দুই মাসের খাবারও আসত না। তাই পরের খেতে শ্রমিকের কাজ করতেন। তবে তাঁর বিশ্বাস ছিল পরিশ্রম করলে তিনিও এলাকার অন্য কৃষকদের মতো এক দিন সফল হতে পারবেন। এ বিশ্বাস থেকেই সংসারের একটিমাত্র গরু ছিল, তা বিক্রি করে ১৯৯৯ সালে ২ বিঘা জমি বন্ধক নিয়ে গাঁদা ফুলের চাষ করেন। প্রথম চেষ্টাতেই তিনি সফল হন। কেননা ওই বছর ফুলের দাম ছিল খানিকটা অবিশ্বাস্য আকাশ ছোয়া। তিনি দুই বিঘা জমির ফুল বিক্রির মাধ্যমে যাবতীয় খরচ বাদে প্রায় ১২ লাখ টাকা আয় করেন। এরপর থেকে শুরু তার সবজি চাষ। ফুল ও সবজি চাষ করে বর্তমানে তিনি ২২ বিঘা জমিতে চাষ করছেন। এর মধ্যে যশোর থেকে বীজ এনে মোট ২৪ শতক জমিতে ব্রকলি ও লাল রঙের পাতাকপি রেড প্রিন্টের চাষ করেছেন। মানবদেহের জন্য উপকারী এ দুই ধরনের সবজি কালীগঞ্জের জন্য প্রথম। একই ইউনিয়নের চাঁদবা গ্রামের চাষি মিজানুর রহমানও এক খণ্ড জমিতে ব্রকলির চাষ করেছেন। তিনি জানান, ব্রকলি এলাকায় প্রথম চাষ, তাই এ সবজি কীভাবে খেতে হয়, তা এ এলাকার মানুষ জানে না। তিনি বলেন, কালীগঞ্জ শহরের এক দিন তিনি কিছু ব্রকলি নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্ত খুব কম দামে তাঁকে তা বিক্রি করতে হয়েছে। এরপর হাটে আসা কাঁচামাল ব্যাবসায়ীদের নিকট থেকে জানতে পারেন ঢাকাতে এর খুব চাহিদা। শুধু সবজি হিসেবে নয়, সব চাইনিজ হোটেল ও বড় বড় রেস্তোরায় খাবারের সঙ্গে সালাদ হিসেবে পরিবেশন করা হয়। তিনি এ পর্যন্ত ব্রকলি ৩ চালান ঢাকায় পাঠিয়ে মোট ৭২ হাজার টাকা পেয়েছেন। খেতে এখনও যা আছে, তা থেকে আরও বেশ কিছু টাকা আসবে। কম খরচে বেশি লাভ, তাই আগামীতে তিনি ৫ বিঘা জমিতে ব্রকলি চাষ করবেন বলে আশা করছেন। ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, গোপিনাথপুর গ্রামের কৃষক রনজিৎ বিশ্বাস ও চাঁদবা গ্রামের মিজানুর রহমান এ এলাকাতে প্রথম ব্রকলি ও রেড প্রিন্টের চাষ করেছেন। প্রতিনিয়ত তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন। রনজিৎ ইতিমধ্যে ঢাকায় নিয়ে ব্রকলি বিক্রি করে বেশ পয়সা পেয়েছেন। কৃষক রনজিৎ বিশ্বাস ও মিজানুর রহমান দুজনই সফল কৃষক। কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের দুই পরিশ্রমী কৃষক রনজিৎ বিশ্বাস ও মিজানুর রহমান এ এলাকায় প্রথম অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর সবজি ব্রকলির চাষ করেছেন। তিনি বলেন, শুধু সবজি নয়, সালাদ হিসেবেও ব্রকলির চাহিদা রয়েছে। এ সবজিতে রয়েছে রোগ প্রতিরোধের উচ্চমাত্রার ক্ষমতা। এটি এক ধরনের ক্যানসারের বিরুদ্ধে কাজ করে। রক্তে কলেষ্ট্রল কমাতে সাহায্য করে। ওজন কমাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এছাড়াও ব্রকলিতে রয়েছে নানা ধরনের ভিটামিন, যা শরীরের সুস্থতার জন্য খুব প্রয়োজন। এ উপজেলায় ব্রকলির চাষ ব্যাপকভাবে শুরু হয়নি। তবে অসংখ্য কৃষক ব্রকলি সম্পর্কে তাঁদের কাছে খোঁজ নিচ্ছেন। ফলে ধরেই নেওয়া যায়, আগামী ব্রকলির চাষ বৃদ্ধি পাবে। লাভজনক ও শরীরের জন্য উপকারী, তাই ব্রকলি চাষে কৃষকদের তারা উৎসাহিত করছেন বলে জানান এই কৃষিবিদ।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)