ছবির ক্যাপশন:
দর্শনা অফিস:
বাংলা নাটকে ‘অনির্বাণ থিয়েটার’-এর ৩৬ বছর পূর্তিতে দর্শনায় শুরু হচ্ছে ‘গাহি সাম্যের গান-/যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান/যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-ক্রীশ্চান’ শীর্ষক ‘অনির্বাণ-এর তিন যুগ পূর্তি উৎসব’। স্থানীয় ডাকবাংলো চত্বরে ২১ ফেব্রুয়ারি এ বর্ণাঢ্য উৎসবের পর্দা উঠবে, চলবে টানা ৮ দিন। প্রদর্শিত হবে দেশ-দেশের বাইরের নাটক, সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি। এ ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে শিশুদের চিত্রাংকন, বর্ণলিখন ও শব্দলিখন প্রতিযোগিতা। প্রতিদিন বিকেলে স্কুল ও কলেজের পরিশেনায় থাকছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ২৭ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে একটি সেমিনার।
জানা গেছে, ২১ ফেব্রয়ারি উৎসবের উদ্বোধনী দিন মঞ্চায়িত হবে বিবর্তন যশোর পরিবেশিত নাটক ‘পাঁইচো চোরের কেচ্ছা’, ওই দিন উন্মুক্ত নাটক পরিবেশিত হবে। ২২-২৭ তারিখ পর্যন্ত নাটক পরিবেশিত হবে দর্শনীর বিনিময়ে। দ্বিতীয় দিন অনির্বাণ থিয়েটারের নাটক ‘জিষ্ণু যারা’, তৃতীয় দিন পশ্চিম বাংলার অঙ্গন বেলঘরিয়ায় নাটক ‘ঞড়স এন্ড ঔবৎৎু’, চতুর্থ তিন কলকাতার পূর্ব-পশ্চিমের নাটক ‘পটলবাবু ফিল্ম স্টার’, পঞ্চম দিন চুয়াডাঙ্গার অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের নাটক ‘নীল সুন্দরীয়া’, ষষ্ঠ দিন ঢাকার শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্রের নাটক ‘তৃতীয় একজন’, সপ্তম দিন প্রাঙ্গনেমোরের নাটক ‘কন্ডেমড সেল’ এবং সমাপনী দিনে সময় সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর নাটক ‘ভাগের মানুষ’ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়াও প্রতিদিনই থাকছে স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি অনুষ্ঠান। থাকছে উৎসব স্থলেই ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’।
অনুষ্ঠেয় উৎসব সম্পর্কে নাট্যজন আনোয়ার হোসেন জানান, ‘ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে অনির্বাণ থিয়েটারের উৎসব আয়োজন ২৮ বছর অতিক্রম করেছে। ভিন্ন ভিন্ন নাম ও শিরোনামে আমরা উৎসব উয়োজন করি। সংগঠনের ৩৬ বছর পূর্ণ হওয়ায় এবারের উৎসবের শিরোনাম করা হয়েছে ৩ যুগ পূর্তি উৎসব। বিগত ৩৬ বছরে অনির্বাণ ৪৫টি নাটক নির্মাণ করেছে ও দর্শকের নিকট উপস্থাপন করেছে। শুরুতে নাটক নিয়ে ভাবনা এতটা গভীর না হলেও ধীরে ধীরে নাটকের ভাবনায় আমরা নাটকের একটি স্বতন্ত্র ভাষা নির্মাণের চেষ্টা করে যাচ্ছি। অনির্বাণ থিয়েটার নাটক নিয়ে দেশে ও দেশের বাইরে প্রতিনিয়ত প্রদর্শন করছে এবং প্রশংসাও অর্জন করেছে।’
এবারের উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ২৭ ফেব্রুয়ারি উৎসবের মধ্যে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হবে। সেমিনারের বিষয় ‘ঢাকার বাহিরে নাট্যচর্চার সমস্যা ও সম্ভাবনা’। দেশের বিভিন্ন নাট্যজন সেমিনারে আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে। সেমিনারের আলোচনার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে নাট্যচর্চার সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়টি উঠে আসবে এবং সবাই আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন, এমনটিই আশা করছে অনির্বাণ থিয়েটার কর্তৃপক্ষ।
