ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ
প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ:
দাওয়াত খাওয়াকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ সময় উভয়পক্ষই ১৫-২০টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা হলেন হাফিজুর রহমান, মিলন, মহর আলী, আসাদুল ইসলাম ও আব্দুল মান্নান মনা। এদের মধ্যে গুরুতর আহত আসাদুলকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘর্ষ এড়াতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার শিমলা-রোকনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের নেতা নাছির চৌধুরীর সঙ্গে তারই ভাতিজা আওয়ামী লীগের কর্মী মিনি মালিথার বিরোধ ছিল। গ্রামে দাওয়াত খাওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার আগের দিন পুকুরিয়া গ্রামের ছমিরন নেছাকে মারধর করে নাছির চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা। এরই জের ধরে রোববার সকালে নাছির চেয়ারম্যানের লোকজন আবারও মিনি মালিথার সমর্থক হাফিজুর রহমানের ওপর হামলা করে। এ সময় উভয় গ্রুপই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে ১৫-২০টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
ইউপি চেয়ারম্যান নাছির চৌধুরী জানান, ‘রোববার সকালে মিনি মালিথা ও মঞ্জুর নেতৃতে তার লোকজন আসাদুল ও আব্দুল মান্নান মনাকে মারধর করে। পরে আমরা সেখানে গেলে তারা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।’
অপর পক্ষের মিনি মালিথা জানান, গত দুই দিন আগেও বাবুল খা’কে না পেয়ে তাঁর স্ত্রীকে মারধর করেন নাছির চৌধুরী। আবার রোববার সকালে হাফিজুর রহমানকে মারধর করেন। এ নিয়ে নির্যাতিতরা প্রতিরোধ করতে গেলে বোমার বিস্ফোরণ ঘটান নাছির চেয়ারম্যান ও তার সমর্থকরা। এ সময় হাফিজুর ও মিলন নামের দুইজন আহত হয়েছেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল খায়ের বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত। পুলিশ আসার পরই দুই পক্ষই সরে পড়েছে। তবে তারা আসার আগে বিস্ফোরণ হয়েছে কি না, তার কোনো আলামত এখনো পাইনি বলে জানান তিনি। পরে সেখানে র্যাব, ডিএসবি পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত হয়।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মতলেবুর রহমান জানান, রোববার সকালে ওই এলাকায় সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। তবে বোমা বিস্ফোরনের আলামত না পেলেও পটকাবাজী ফোটাতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ঘটনায় কোনো আটক নেই বা এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানাতে কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়ের রয়েছে।
