ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মিলনমেলায় জেলা আ.লীগ নেতারা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপুর আয়োজনে তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘মানুষ মানুষের জন্য, অতীতকে ভুলি নাই, আগামী দিনের প্রত্যয়ে’ এ স্লোগানে গতকাল রোববার বেলা তিনটায় শহরের পান্না সিনেমা হল প্রাঙ্গণে এ মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসাদুল হক বিশ্বাস বলেন, ‘পরিবারভিত্তিক দল আওয়ামী লীগ নয়। আওয়ামী লীগ হচ্ছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের গণতন্ত্রের দল। আওয়ামী লীগ জনগনের কথা বলে। আওয়ামী লীগ বাঙালীকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। বাংলাদেশ একুশ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ, এক চল্লিশ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। আজকে আমার সন্তান জিপু চৌধুরী এ আয়োজন করেছে। গত চার বছর ধরে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে, পায়ে হেঁটে, সাইকেল চালিয়ে বিভিন্নভাবে আপনাদের সেবা করে যাচ্ছে। পৌরবাসীর উন্নয়নের জন্য জিপু মন-প্রাণ উৎসর্গ করে কাজ করছে। এখন যেমন শত শত কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে এসে সে চুয়াডাঙ্গার উন্নয়নে কাজ করছে, আগামী দিন যাতে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থাকে সেই জন্য তাঁর অভিভাবক হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, আমরা আগামী দিনেও জিপুকে মেয়র হিসেবে দেখতে চাই।’ এ সময় আসাদুল হক বিশ্বাস সবাইকে হাত তুলে বলতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আগামী দিনে উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে জিপুকে মেয়র হিসেবে পুনরায় ভোট দেব।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটি ও এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি, বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, ‘আমরা মেয়র সাহেবের কাছে বেশি কিছু চাই না। আমরা মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে চাই। ড্রেনেজ ব্যবস্থাটিকে ভালো চাই। আমরা ভালো রাস্তা চাই। রাস্তায় লাইট চাই, যাতে রাতে চলতে সমস্যা না হয়। গত চার বছরে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভাকে আপনি অনেক উন্নয়ন করেছেন। বড় বড় কাজ করেছেন। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা আপনাকে পুনরায় মেয়র হিসেবে চাই। সুখে-দুঃখে আপনার কাছে গেলে আমরা যেন আপনাকে পাই। আমরা আপনাকে পেয়েছি, আপনি অফিস করেন নিয়মিত, আপনি কমপক্ষে দিনে এক ঘণ্টার জন্য অফিস করবেন। যেকোনো কাজে আপনি সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন। এখন ডিজিটাল যুগ, একটা হটলাইন নাম্বার করবেন, যেখানে যেকোনো বিষয়ের অভিযোগ করা যাবে। এমন ব্যবস্থা করবেন, যেন অভিযোগের ২৪ ঘণ্টার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। আমরা চুয়াডাঙ্গার উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে চাই।’ বক্তব্যের একপর্যায়ে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলেন, ‘যদি জিপু আমাদের দাবি পূরণ করে, তাহলে আমরা জিপুকে আবার ভোট দেবো কিনা?’ এ সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা তাঁর কথার সঙ্গে একমত হয়ে স্বাড়ম্বরে হ্যাঁ উচ্চারণ করেন।
এ সময় মেয়র জিপুর উদ্দেশে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, ‘আপনি বলেছেন, মুজিববর্ষে আপনি চমক দেখাবেন। আমরা সবাই আপনার চমকের অংশীদার হতে চাই। আপনার পাশে আমরা আছি। সবাইকে পাশে নিয়ে আপনি সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটা পরিবারের ভয়ে আমরা কথা বলতাম না। কেউ একজন কোনো সময় নৌকা নিজের জন্য আবার কোনো সময় নিজের ভাইয়ের জন্য চেষ্টা করেছে। আমরা চুয়াডাঙ্গাবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, সেই সময় বেশি দূরে নয়, আপনি যে অপকর্ম করেছেন, চুয়াডাঙ্গার মানুষ আপনার কাছ থেকে তার হিসেব নেবে।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ডা. মাহববুব হোসেন মেহেদী বলেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আওয়ামী লীগ সরকার যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই সন্ত্রাস ও দুর্নীতিকে নির্মূল করার চেষ্টা করেছে। চুয়াডাঙ্গা জেলাকে উন্নত জেলায় রূপ দিতে হলে, বিজ্ঞান শিক্ষা ও শিল্প বিস্তারের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা জেলার উন্নয়ন করতে হবে। চুয়াডাঙ্গাতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল, মেডিকেল কলেজ, প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ডিপ্লোমা স্বাস্থ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ গড়ে তুলতে হবে। সৃজনশীল কর্মের মাধ্যমে এই জেলায় বেকারত্ব ও দারিদ্রতাকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু বলেন, ‘আমি এক দিন আপনাদের কাছে গিয়ে ভোট চেয়েছিলাম। আপনারা ভোট দিয়েছিলেন, তাই আমি মেয়র। আজকে আমার চেয়ার আছে, আপনাদের জন্য। আমি যেদিন প্রথম চেয়ারে বসেছি, সেদিন থেকে আমার রুমের দরজা সব সময় খোলা রেখেছি। যাতে আপনারা সব সময় আমার কাছে আসতে পারেন, আমার সঙ্গে কথা বলতে পারেন। আপনারা যখন যা বলেছেন, আমি সেভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমি সব সময় ভেবেছি, আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই, আমি আপনাদের জন্য কিছু করতে চাই। কয়েকদিন আগে একটি টেলিভিশনের টকশোতে আমাকে প্রশ্ন করল, আপনাদের সম্মানি দিয়ে গাড়ী-বাড়ি কীভাবে হয়। আমি উত্তরে বলেছিলাম, সবার কথা জানি না, তবে নির্বাচনের সময় আমি যে হলফনামা দিয়েছি, এখনো তেমনি আছে আমার সম্পদ। আমি বিশ্বাস করি, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ। আমি আপনাদের জিপু ছিলাম, আমি আপনাদের জিপু থাকতে চাই। আমি ঘন ঘন ঢাকায় যায়। কিছু বাঁধা আছে যা সম্পর্কে আমি বলতে চাই না, তারপরও আমি শত কষ্টকে উপেক্ষা হলেও আমি চুয়াডাঙ্গা পৌরবাসীর জন্য নতুন নতুন প্রজেক্ট এনে কাজ করছি। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা বাংলাদেশের মধ্যে রোল মডেল হবে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আমার বাবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আমি এ হাসপাতালের উন্নয়নেও কাজ করছি। নানাভাবে সহযোগিতা দিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়েছি, নিজে কাজ করেছি। আরও বেশ কিছু পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে নতুন এক শ শয্যার ভবনটি অচিরেই চালু করা হবে। মুজিববর্ষে চুয়াডাঙ্গাবাসীর জন্য অপেক্ষা করছে বেশ কিছু চমক। আপনা খুব শিগগিরই তা টের পাবেন। আমি প্রাণপনে চেষ্টা করছি, চুয়াডাঙ্গার উন্নয়নে কাজ করার জন্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাড. আশরাফ আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক ও আইলহাঁস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. আব্দুল মালেক, সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক অ্যাড. শফিকুল ইসলাম শফি, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক জোয়ার্দ্দার, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কবির, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক মতিয়ার রহমান মতি ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ। চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য মাহাবুল ইসলাম সেলিমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, বিভিন্ন অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ প্রায় তিন হাজার তৃণমূল নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
