ছবির ক্যাপশন:
দর্শনা অফিস:
শিশুকন্যা সুমাইয়া খাতুনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার প্রতিবাদে ও ধর্ষক মোমিনুলের ফাঁসির দাবিতে সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টায় দর্শনা প্রেসক্লাবের সামনে দর্শনা থানা উলামা পরিষদের উদ্যোগে এ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
দর্শনা থানা উলামা পরিষদের সভাপতি হজরত মাওলানা মুফতি হাজি গোলাম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, হজরত মাওলানা মুফতি আব্দুর রাজ্জাক ও মাওলানা মুফতি জুনায়েত। হাজি গোলাম কিবরিয়ার তাঁর বক্তব্যে পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদসহ প্রশংসা করে বলেন, ‘গত শনিবার পারকৃষ্ণপুর গ্রামের শিশুকন্যা সুমাইয়াকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ ধর্ষক মোমিনুলকে আটক করতে সক্ষম হয়। মোমিনুলের নাম উচ্চারণ করলেই ঘৃণা হয়। আমরা তার দ্রুত ফাঁসি চাই। যদি ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হয়, তাহলে সমাজের দিকভ্রষ্ট যুবকেরা আরও উৎসাহিত হবে। এমন শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক কাজে কেউ উৎসাহিত না হয়।’ এ ছাড়া তিনি প্রশাসনের নিকট দাবি জানান, ইন্টারনেট থেকে খারাপ দিকগুলো তুলে নিতে হবে এবং সমাজ থেকে সব প্রকার মাদক দূর করতে হবে। বক্তাদের বক্তব্যের পরপরই মানববন্ধনে উপস্থিত দর্শনা থানা উলামা পরিষদের নেতা-কর্মীরা সুমাইয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার শিশুকন্যা সুমাইয়া খাতুনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ওই দিন রাত ১০টায় শিশু সুমাইয়ার লাশ উদ্ধারের ৫ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ ধর্ষণের অভিযোগে মোমিনুল নামের স্থানীয় এক চোরকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে আটক করতে সক্ষম হয়। ঘটনার পরদিন গত রোববার বিকেলে তাঁকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হয়। সেখানে ১৬৪ ধারায় তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এ সময় মোমিনুল তাঁর স্বীকারোক্তিতে জানান, সুমাইয়াকে শনিবার দুপুরে কৌশলে ইউনিয়ন পরিষদের সামনের একটি শিমখেতের ভেতর নিয়ে যান তিনি। এরপর প্রথমে মুখ বেঁধে সুমাইয়াকে ধর্ষণ এবং পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও ধর্ষকের শাস্তির দাবিতে ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পারকৃষ্ণপুরের প্রধান সড়কে নিহত স্কুলছাত্রী শিশু সুমাইয়ার স্কুলের সহপাঠীসহ এলাকার সর্বস্তরের জনগণ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। গতকাল শুক্রবার একই দাবিতে দর্শনা প্রেসক্লাবের সামনে দর্শনা থানা উলামা পরিষদের উদ্যোগে সমাবেশ ও দ্বিতীয়বারের মতো মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
