ছবির ক্যাপশন:
মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে পুকুর কাটার নামে অবৈধভাবে
জীবননগর অফিস:
জীবননগর মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে পুকুর কেটে অবধৈভাবে উত্তোলিত বালু বিক্রির টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. খালেক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোলাম রসুল।
জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুকুর খননের নামে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তা ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, এ বালু বিক্রির টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছেন মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. খালেক এবং মনোহরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোলাম রসুল। জনসম্মুখে এ অবৈধ বালু উত্তোলল করে ব্যবসা চললেও নীরব ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন। প্রশাসন ও ভূমি অফিসের কোনো অনুমতি না নিয়েই মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক বেশ কয়েক দিন ধরেই বিদ্যালয়ে পুকুর কাটার নামে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে মা-বাবা ইট ভাটাসহ বিভিন্ন ভাটায় বিক্রি করেছেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু ট্রাকে করে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, প্রশাসনের অনুমতি না নিয়েই মনোহরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে এসব বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ভেকু মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যবসা করছেন মনোহরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোলাম রসুল এবং মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. খালেক। প্রতিদিন প্রতি ট্রাক ১ হাজার টাকা দরে ৮০ থেকে ১০০ ট্রাক বালু বিক্রি করা হচ্ছ। এলাকাবাসী মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুকুর কাটার নামে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং বালু-ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. খালেকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘স্কুলের মাঠ থেকে যে বালু তুলে বিক্রয় করা হচ্ছে, তার সঙ্গে আমি জড়িত না। এ বিষয়টি আমি শোনার পর যারা উত্তোলন করছে, তাদের নিষেধ করেছি এবং বালু তোলা বন্ধ করে দিয়েছি।’ তবে মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোলাম রসুলের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও ফোনটি রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমি শুনেছি। যারা এ কাজটি করেছেন, সরেজমিনে তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
