ছবির ক্যাপশন:
‘পরিচ্ছন্ন গ্রাম-পরিচ্ছন্ন শহর’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভায় জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক:
১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে চুয়াডাঙ্গা জেলাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হবে। ‘পরিচ্ছন্ন গ্রাম-পরিচ্ছন্ন শহর’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এ কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘মুজিববর্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলাকে একটি পরিচ্ছন্ন জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এ জেলার প্রত্যেকটি গ্রাম-পাড়া-মহল্লা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে এখন থেকে। সবাই মিলে কাজ করলে এটি বাস্তবায়নে তেমন সমস্যা হবে না। আমরা সবাই চেষ্টা করলে এটি একটি সহজ কাজ হবে। সব সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকসহ জেলার সাধারণ মানুষকেও এ কাজের সঙ্গে সংযুক্ত হতে হবে। দায়িত্ব নিতে হবে সবাইকে। উন্নত দেশগুলো একদিনে উন্নত বা পরিচ্ছন্ন হয়নি। কাজের মাধ্যমে আমাদেরকেও এই অভিযান বাস্তবায়ন করতে হবে, টিকিয়ে রাখতে আগামীর জন্য। সময় এসছে আমাদেরও পরিবর্তন হওয়ার।’
এ সময় কথা প্রসঙ্গে রাস্তায় ইটভাটার মাটি নিয়ে যাওয়ার সময় অপরিচ্ছন্নতার কথা উঠলে তিনি বলেন, ‘কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাটি এমনভাবে নিয়ে যেতে হবে যেন রাস্তায় না পড়ে। পরিচ্ছন্ন রাস্তা চাই আমরা। যদি এর ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে তাদেরকে দিয়েই রাস্তা পরিষ্কার করানো হবে। ইতিমধ্যে একবার আমি এমন একটা পরিষ্কার করিয়েছি। আমাদের মাথায় রাখতে হবে, প্রত্যেককে দায়িত্ব নিতে হবে। প্রয়োজনে পরিবেশ আইন প্রয়োগ করা হবে।’ এ সময় তিনি আরও বলেন, নিজের বাড়ি থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সব কিছু পরিষ্কার রাখতে হবে। যে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, তা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) কানাই লাল সরকার বলেন, ‘এ শহর এ জেলা আমাদের। তাই এটিকে পরিষ্কার রাখার দায়িত্বও আমাদের। কাজে ফাঁকি না দিয়ে আমাদেরকে নিজ আঙিনা থেকে শুরু করে নিজের তত্বাবধানে থাকা সবকিছু পরিষ্কার রাখতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু বলেন, ‘সবার সহযোগিতা পেলে আমি প্রাণপনে চেষ্টা করব। সবোর্চ্চ দিয়ে কাজ করব। পৌরবাসীর সেবা করাই আমার লক্ষ্য। যেকোনো মূল্যে চুয়াডাঙ্গাকে পরিচ্ছন্ন জেলা ঘোষণা করার কাজ আমাদের করতেই হবে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল যেমন স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হয়েছে, ঠিক তেমনভাবে চেষ্টা করলে চুয়াডাঙ্গা জেলাকেও পরিচ্ছন্ন করা যাবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ ইয়াহ্ ইয়া খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মনিরা পারভীন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিটন আলী, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুনিম লিংকন, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন, দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু, জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানসহ চুয়াডাঙ্গা জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন সহকারী কমিশনার হাবিবুর রহমান।
সভায় আগামী ১৭ মার্চের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জেলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এক মহাপরিকল্পনা করা হয়। পরিল্পনায় শ্রেষ্ঠদের জন্য পুরষ্কারের পাশাপাশি কাজ না করলে শাস্তির ব্যবস্থার বিধানও রাখা হয়। দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাড়া-গ্রাম-মহল্লা থেকে ওয়ার্ড ইউনিয়ন ও উপজেলা এবং জেলার মাধ্যমে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বড় গ্রোথ সেন্টার চিহ্নিত করে, পরিষ্কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে সবার প্রতি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য রাখা হয়েছে পুরষ্কার। প্রতিমাসে সভা সেমিনারের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব মানুষের মধ্যে তুলে ধরাসহ নানাবিধ পরিকল্পনার মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা জেলাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জেলা ঘোষণা করা হবে।
