স্টেশন ও ট্রেনে বেড়েছে পকেটমার-ছিনতাইকারীর দৌরাত্ম্য

আপলোড তারিখঃ 2020-02-04 ইং
স্টেশন ও ট্রেনে বেড়েছে পকেটমার-ছিনতাইকারীর দৌরাত্ম্য ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা ও আশপাশ রেলস্টেশনের প্লাটফর্মে ট্রেনযাত্রীদের ভোগান্তি চরমে আলমডাঙ্গা অফিস: খুলনা থেকে রাজশাহী আসা-যাওয়া ট্রেনগুলোতে আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনসহ আশপাশের বিভিন্ন স্টেশনে বেপরোয়া হারে বৃদ্ধি পেয়েছে পকেটমার ও ছিনতাইকারী সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেটের সদস্যদের হাত থেকে রক্ষা পেতে রেলের ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন সাধারণ ট্রেনযাত্রীরা। জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা ও আশপাশ এলাকা থেকে প্রতিদিন ট্রেনযোগে কয়েক শ লোক রোগী নিয়ে রাজশাহী যাতায়াত করেন। ডাক্তার দেখানোর জন্য গরু, ছাগল, জমি-জায়গা বিক্রি করে টাকা জোগারের পর এসব রোগীর আত্মীয়-স্বজনেরা রোগী নিয়ে রাজশাহী যান। আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা ও পোড়াদাহ রেলস্টেশনে বেশ কিছুদিন ধরে পকেটমার সিন্ডিকেটের সদস্য বেপোরোয়া ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দামি প্যান্ট-শাার্ট-জুতা পড়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে তারা দাঁড়িয়ে থাকে। দেখলে মনে হয় যেন কোনো বড় কর্মকর্তা। ট্রেন থামার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী নামা-উঠার ভিড়ে যাত্রীদের পকেট, ব্যাগ থেকে নিমিশেই টাকা-সোনার গয়না হাতিয়ে নেয় এসব সিন্ডিকেটের সদস্যরা। গত রোববার চুয়াডাঙ্গা থেকে রাজশাহী যাওয়ার জন্য কপোতাক্ষ ট্রেনে ওঠার সময় এক অসুস্থ যাত্রীর ১০ হাজার টাকা ও একটি স্বর্ণের আংটি তাঁর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে কৌশলে হাতিয়ে নেয় পকেটমার সিন্ডিকেটের সদস্যরা। পরে যাত্রীর সঙ্গে থাকা দুই ব্যক্তি দুজন পকেটমারকে আটক করে ট্রেন থেকে নামিয়ে আলমডাঙ্গা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেন। এদিকে, গত রোববার চুয়াডাঙ্গার এক সরকারি চাকরিজীবীর অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি রাজশাহী যাওয়ার জন্য চুয়াডাঙ্গা স্টেশন থেকে কপোতাক্ষ ট্রেনে ওঠেন। ট্রেনে ওঠার সময় ট্রেনের দরজায় সামনে তিনটি লোককে জটলা করতে দেখা যায়। অনেকে তাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার পরও তারা আবার দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়। ওই সরকারি চাকরিজীবীর অসুস্থ স্ত্রী ট্রেনে ওঠার পর সিটে বসে ব্যাগে হাত দিয়ে বুঝতে পারেন ব্যাগের চেইন খোলা, ভেতরে টাকার ছোট পার্সটি নেই। তাদের আর ডাক্তারের কাছে যাওয়া হয় না। এ সময় পাশের যাত্রীরা দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা সেই তিনজনের দুজনকে ধরে আলমডাঙ্গা স্টেশনে নামান এবং থানা-পুলিশের হাতে তুলে দেন। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে কোর্ট স্টাফের স্ত্রীর ব্যাগ থেকে মেরে নেওয়া টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। কদিন আগে আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলাম আজম ও তাঁর স্ত্রী খুলনা যাওয়ার জন্য সাগরদাড়ী ট্রেনে ওঠার সময় হামিদুল আজমের পকেট কেটে কৌশলে প্রায় ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় পকেটমারেরা। তাঁদের আর খুলনা যাওয়া হয় না। এরপর তাঁরা পোড়াদহ রেলপুলিশকে ঘটনা খুলে বললে রেলপুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাগরদাড়ী ট্রেনটি রাজশাহী রেলপুলিশ কন্ট্রোল করে। পরে রাজশাহী পুলিশকে ঘটনাটি জানানো হলে তারা টাকা উদ্ধারের আশ্বাস দিলেও তা আর উদ্ধার হয়নি। এ ছাড়াও জানা গেছে, গত মাসে আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনে অন্তত ১৫-২০ জন ব্যক্তির পকেট কেটে টাকা ও ব্যাগ কেড়ে নিয়ে চলে গেছে পকেটমার ও ছিনতাইকারীরা। এমনকি মেয়েদের গলার হার, কানের দ্লুও ছিনিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এভাবে প্রতিদিনই কারো না কারো পকেট কেটে চলেছে পকেটমারেরা। সংবদ্ধ এই পকেটমার-ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে কি কতৃপক্ষের কিছুই করার নেই, এ প্রশ্ন এখন সাধারণ ট্রেনযাত্রীদের। এ বিষয়ে রেলের ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপসহ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় দাবি জানান ট্রেনযাত্রীরা।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)