ছবির ক্যাপশন:
ঢাকা সিটি নির্বাচনের অনিয়ম তুলে ধরবেন বিএনপির দুই প্রার্থী
সমীকরণ প্রতিবেদন:
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ‘কারচুপির ফল’ প্রত্যাখান করে গতকাল ঢাকায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করেছে বিএনপি। হরতালের সমর্থনে রাজধানীর কোথাও পিকেটিং দেখা যায়নি। তবে পরিবহন চলাচল ছিল সীমিত। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সকাল থেকে অবস্থান নিয়ে নেতাকর্মীরা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সিটি নির্বাচনে বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন এই বিক্ষোভে অংশ নেন। হরতাল পালন শেষে বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিক্ষোভ-সমাবেশের কর্মসূচির ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামীকাল মঙ্গলবার রাজধানীর থানায় থানায় এই বিক্ষোভ হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা হরতাল আহ্বান করেছিলাম ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যে প্রহসন করা হয়েছে, তামাশা করা হয়েছে তার প্রতিবাদে, নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে। আমরা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল বাতিল, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগরের থানায় থানায় বিক্ষোভ-সমাবেশের কর্মসূচি পালন করব।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ‘ভোট কারচুপি, জালিয়াতি, ত্রাস সৃষ্টি, এজেন্টদের বের করে দেয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন’সহ নানা ঘটনার তথ্য-প্রমাণ আগামীকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে তুলে ধরবেন ধানের শীষের দুই প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন। হরতালে সমর্থনে ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে নেতাকর্মীরা পিকেটিং করার সময় তিন থেকে চারজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে উল্লেখ করে তাদের মুক্তির দাবিও জানান তিনি। স্বল্প সময়ের নোটিশে হরতাল সফলভাবে পালনের জন্য ঢাকাবাসীকে অভিনন্দনও জানান বিএনপি মহাসচিব। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে ধানের শীষের দুই মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দলের কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, শামা ওবায়েদ, আজিজুল বারী হেলাল, আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, হারুনুর রশীদ, শফিউল বারী বাবু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, আনোয়ার হোসেন, সুলতানা আহমেদ, আবুল কালাম আজাদ, ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সকালে হরতালের সমর্থনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী সকাল ৬টা থেকে বিএনপির কার্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়। বেলা বৃদ্ধির সাথে সাথে কর্মীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।
রুহুল কবির রিজভী সকালে সাংবাদিকদের বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে যে ভোট জালিয়াতি হয়ে গেল, তার প্রতিবাদ জানাতেই আমাদের এ কর্মসূচি। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সরকার আটক করে রেখেছে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি এই অন্যায়ের দুই বছর পূর্ণ হবে। আমরা এরও প্রতিবাদ করছি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকালে সাড়ে ৯টায় নয়াপল্টনে আসেন। তার সাথে কার্যালয়ের ভেতরে ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, তাইফুল ইসলাম টিপু ও বেলাল আহমেদসহ অফিস কর্মীরা। বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে আসেন দক্ষিণ সিটিতে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন। তিনি এসেই বিক্ষোভরত নেতাকর্মীদের মধ্যে বসে যান। অনেকে তাকে নেতাদের সাথে চেয়ারে বসতে বললেও তিনি বসেননি। কর্মীদের পাশে বসে নিজেই স্লোগানের নেতৃত্ব দেন। তার সাথে শতাধিক নেতাকর্মী ফুটপাথে বসে বিক্ষোভ করেছেন। তারা ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’, ‘আজকের হরতাল, চলছে, চলবে’, দাবি আদায়ের হরতাল চলছে চলবে’, ‘ভোট চোর ভোট চোর, শেখ হাসিনার ভোট চোর’, ‘সংগ্রাম, সংগ্রাম, রাজপথে সংগ্রাম চলছে, চলবে’, ‘প্রহসনের নির্বাচন মানি না, মানবো না’ প্রভৃতি স্লোগান দেয়। ১২টার কিছু আগে মতিঝিলের সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহিদুর রহমান সোহাগ এসে তাদের ফুটপাথ থেকে তুলে দেন। তিনি বিএনপি নেতাদের বলেন, আপনারা ১২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি করতে পারবেন। আপনাদের কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। দুপুর ১২টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভরত ঢাকা দক্ষিণের প্রার্থী ইশরাকসহ নেতাকর্মীদের পুলিশ তুলে দেয়। বেলা ২টায় আবার তারা সেখানে সমবেত হয়ে হরতালের সমর্থনে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। ঢাকা উত্তরের প্রার্থী তাবিথ আউয়ালও এসে তাতে অংশ নেন। তিনি দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে স্লোগানে অংশ নেন। নেতাকর্মীদের সাথে বসে স্লোগানের নেতৃত্ব দেন ইশরাক হোসেন। সেখানে ইশরাক বলেন, সিটি নির্বাচন হয়নি, এটা নির্বাচনের নামে তামাশা হয়েছে। ভোট কারচুপির প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে জনগণ হরতালকে বেছে নিয়েছে।
তাবিথ আউয়াল বলেন, এই মুহূর্তে আমরা জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়ে আছি, জনগণের সাথে দাঁড়িয়ে আছি। জনগণ দাবি তুলেছে যে, উনাদের পক্ষে এবং উনারা এই নির্বাচনের প্রক্রিয়াতে সন্তুষ্ট না। এর প্রতিবাদে হরতাল হচ্ছে। এ সময় ফুটপাথে বসা শতাধিক নেতাকর্মীর সাথে ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, শামা ওবায়েদ, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, নিপুণ রায় চৌধুরী, শফিউল বারী বাবু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সুলতানা আহমেদ।
হরতালে যাত্রী ছিল না দূরপাল্লার বাসে: ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের ফলাফল বর্জন করে ডাকা বিএনপির হরতালে দূরপাল্লার বাসে যাত্রীর দেখা পাওয়া যায়নি। যাত্রীর অভাবে রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলো থেকে বেশির ভাগ বাস ছেড়ে যায়নি। এ ছাড়াও ছেড়ে যাওয়া বাসগুলোতে আশানুরূপ যাত্রী ছিল না। দুপুরে গাবতলীতে হানিফ পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা মফিজ উদ্দিন বলেন, কোনো ঘোষণা ছাড়া হঠাৎ এই হরতালের কারণে আমাদের টিকিট বিক্রি কমে গেছে। সাধারণত সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে প্রায় ৩০টি বাস ছেড়ে যায়। প্রতিটি বাসে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন পর্যন্ত যাত্রী থাকে। তবে হরতালের কারণে যাত্রীর সংখ্যা অনেক কম। ছেড়ে যাওয়া বাসগুলোতে ২০ জনের বেশি যাত্রী পাইনি। যাত্রীর অভাবে পাঁচটি বাসের ট্রিপ বাদ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রাজধানীতে গাড়ি কম থাকায় যাত্রীরা গাবতলী পর্যন্ত আসতে পারছে না। এমন চিত্র পাওয়া গেছে রাজধানীর মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালেও। এনা পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা লিটন কুমার বলেন, হরতালের কারণে যাত্রী নেই। তবে যাত্রী না থাকলেও খালি বাস চলার নির্দেশ আছে। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে গতকাল ভোর থেকে কয়েকটি বাস ছেড়ে গেছে। তবে এতে যাত্রী ছিল খুবই কম। এ কারণে এই টার্মিনাল থেকে বেশ কিছু বাস ছেড়ে যায়নি।
