ছবির ক্যাপশন:
গাংনী অফিস:
মেহেরপুরের গাংনী প্রেসক্লাবে সন্তানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী মৃত সাইফ আহমেদের পরিবার। বছরখানেক পর হঠাৎ বিদেশ বিভূঁইয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। এটি হত্যা না আত্মহত্যা, তার কারণ জানাসহ ক্ষতিপূরণ চেয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিচার দাবী করেন তাঁরা।
সাইফ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার পূর্ব মালসাদহ গ্রামের জামাত আলীর ছেলে। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর পরিবার জানায়, ২০১৭ সালের ১৪ আগস্ট গাংনীর পূর্ব মালসাদহ গ্রামের আজিজের ছেলে সাহেদ ও রফিকুলের ছেলে আশরাফুলের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর যান সাইফ। সিঙ্গাপুরস্থ সি.জি.ডাব্লিউ কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (ফাইভ) প্রাইভেট লিমিটেডে শ্রমিক পদে কাজ নেন তিনি। মোটা অঙ্কের বেতন পাওয়ায় সাইফ ও তাঁর পরিবারের লোকজন বেশ খুশিই ছিল। কিন্তু হঠাৎ ঘটে যায় বিপত্তি। ২০১৮ সালের ৯ নভেম্বর তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে বাড়িতে। তিনি আত্মহত্যার করেছেন বলে সিঙ্গাপুর থেকে জানানো হয় তাঁর পরিবারকে। তবে এ নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয় সাইফের পরিবারের। কারণ, কর্মক্ষেত্রের প্রধান অফিসের পানির টাংকি থেকে সাইফের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়, অথচ ছাদের সিঁড়িঘরের সমস্ত দরজা বন্ধ ছিল। সাইফের এ মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছে না তাঁর পরিবার। সাইফের মৃত্যুর পর সংশ্লিষ্ট কোম্পানি কোনো ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও মৃত্যুর কারণ না জানিয়ে মাত্র তিন লাখ টাকা দেয় তাঁর পরিবারকে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন চেয়ে দালাল ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ঘোরাঘুরি করেও কোনো ফল না পাওয়ায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন সাইফের পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, সিঙ্গাপুরে সাইফের হত্যাকাণ্ডের বাদী নিজেই বিষয়টি মীমাংসা করেছেন অথচ পরিবারের কাউকে জানানো হয়নি। এটি মূলত হত্যা না আত্মহত্যা, তার কারণ জানাসহ ক্ষতিপূরণ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিচার দাবী করেন সাইফের পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে গাংনী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলমসহ প্রেসক্লাবের বিভিন্ন সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
