ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজে পিঠা উৎসবে ডিসি নজরুল ইসলাম সরকার
মেহেরাব্বিন সানভী:
সুন্দরী, খোপা, চিরুনি, ঝিনুক ও বিচিত্রা এগুলো পিঠার নাম। নামে যেমন বিচিত্র, দর্শন ও স্বাদেও তাই। তার চেয়েও বড় কথা, নির্ধারিত কোনো দাম নেই। পিঠা খাও, যেমন খুশি দাম দাও। বোঝায় যাচ্ছে কতটা উৎবমুখর ছিল এ পিঠা উৎসব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজে এ পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার।
পিঠা উৎসবের উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, দেশে পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবে পিঠার প্রচলন অনেক পুরোনো। দেশের মানুষের হৃদয়ে পিঠা তৈরি এক অনন্য শিল্পরূপ লাভ করেছে। কিন্তু প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে গড়ে উঠেছে ফাস্টফুডের দোকান। ফলে শিশু-কিশোরদের ঘরের খাবারের চেয়ে ফাস্টফুডের দিকে অনেক বেশি আগ্রহ থাকে। অথচ পিঠাই অনেক বেশি সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত। তিনি আরও বলেন, বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসের সঙ্গে মিশে আছে নিজস্ব খাদ্যাভ্যাস, যার একটি স্বতন্ত্র অনুষঙ্গ পিঠাপুলি। বিভিন্ন রকমের পিঠা-পুলি যুগ যুগ ধরে আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করেছে। কালের বিবর্তনে পিঠার ঐতিহ্য স্নান হয়ে আসছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে এ পিঠা উৎসবের আয়োজন অসাধারণ।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) কানাই লাল সরকার, সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ রেজাউল করিম, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সফিকুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম ইস্রাফিল, প্রফেসর শহিদুল ইসলাম, জাতীয় মহিলা সংস্থা চুয়াডাঙ্গার চেয়ারম্যান নাবিলা রুকসানা ছন্দা, সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পত্নী হেলেনা পারভীন রানী, উপাধ্যক্ষ পত্নী রওশন আরা খানম, সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. আব্দুর রশিদ, ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সুলতানা জান্নাতুল ফেরদৌস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শাহজাহান আলী, অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সাবিনা ইয়াসমিন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মামুনুর রশিদ, দর্শন বিভাগের বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সাজ্জাদ হোসেন, রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আসাবুল হক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মাসুদ পারভেজ, ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মাহমুদ কবিরসহ চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকবৃন্দ।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, মোট ছয়টি স্টল রয়েছে। প্রতিটি স্টলে ছিল উপচে পড়া ভিড়। কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ৭০ পদের পিঠা, বাংলা বিভাগের ২০০ পদ, অর্থনীতি বিভাগের ১০৩ পদ, দর্শন বিভাগের ১১০ পদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১০১ পদ এবং একাদশ-দ্বাদশের ২০০ পদের পিঠায় উৎসবস্থল মৌ মৌ গন্ধে ভরে ছিল।
