ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম
মেহেরাব্বিন সানভী:
চুয়াডাঙ্গা জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। সভার শুরুতে বিগত সভার কার্যবিবরণী উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ ইয়াহ্ ইয়া খান।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘২০২০ সাল বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর। এ বছর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক আমাদের বছরটিকে সফল করতে হবে। নিজ উদ্যোগেও কাজ করতে হবে।’ জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘সমাজ থেকে সব প্রকার অপশক্তি রোধে আমাদের কাজ করতে হবে। নতুন প্রজন্ম যাতে বাল্যবিবাহ ও মাদকের গ্রাসে না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাংলাদেশকে উন্নত করতে হলে আগামী প্রজন্মের সহযোগিতার প্রয়োজন। আগামী প্রজন্ম ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করবে। দেশের প্রবৃদ্ধি যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও দিন দিন উন্নত হচ্ছে। দেশের এই অগ্রযাত্রার ধারাকে অব্যাহত রাখতে আমাদের মানবিক গুণাবলীর উন্নয়নে জোর দিতে হবে।’
আলোচনা সভা চলাকালে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বিভিন্ন দপ্তরের নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে বলেন, ‘প্রত্যেক দপ্তরকে কাজ করতে হবে। সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, কোনোক্রমেই দায়িত্ব অবহেলা করা যাবে না।’ তিনি এলজিইডির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সব থেকে বেশি কাজ এলজিইডির। তাদের কাছে বেশি রাস্তা। এলজিইডি ঠিকাঠাক কাজ করলে আমরা ভালো ভাবে রাস্তায় চলতে পারবো।’ কৃষি সম্প্রসারণকে নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ভেজাল সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করতে চাষিদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। একটি ফ্রেস ও ভেজালমুক্ত সবজির হাট বসানোর উদ্যোগ নিতে হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, খোঁজ রাখতে হবে। দেখতে হবে। বাজারগুলোর দিকে নজর রাখতে হবে। এ সময় তিনি সরোজগঞ্জ বাজারের খেজুরের গুড়ে যেন ভেজাল না থাকে সেদিকে খেয়াল রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।
পরিসংখ্যান ব্রুরোর কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, জনশুমারি হবে। খেয়াল রাখতে হবে মাঠকর্মীরা যেন মাঠে যেয়ে কাজ করে। বসে বসে কোনো প্রকার তথ্য না দেয়। উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভাগুলোর উদ্দেশ্যে বলেন, স্থানীয় সরকারের ক্ষেত্রে এ দুটি প্রতিষ্ঠান অতীব গুরুত্বপূর্ণ। সব কাজ এমনভাবে করতে হবে যেন, মুজিববর্ষ সফল হয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী প্রজন্ম আপনাদের কাছে। নিয়মিত তদারকি করবেন। দেশের ভবিষ্যৎকে তৈরি করুন।’ এ সময় তিনি বিভিন্নদপ্তরের প্রতি বিভিন্ন প্রকার নির্দেশনা দেন।
জেলা পুলিশ সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ বলেন, ‘বিগত মাসে জেলায় তেমন কোনো আলোচিত ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ প্রশাসন সর্বদা সচেষ্ট। চুয়াডাঙ্গা জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের নানা সমস্যা নিয়ে কথা বলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামিম কবির। তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালটি বর্তমানে ১০০ শয্যা নিয়ে তিন-চারগুণ বেশি রোগীদের সেবা দিচ্ছে। তার সঙ্গে রয়েছে জনবল-সংকট। জনবল রয়েছে ৫০ শয্যার। তাই চাইলেও নবনির্মিত ১৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি চালু করা যাচ্ছে না। পরিচ্ছন্নতাকর্মী, আয়া ও ওয়ার্ডবয় মিলিয়ে ৩০ জনকে নিয়োগ করা হলে নতুন হাসপাতালের কার্যক্রম চালু করা যাবে। আপাতত কয়েকটি বিভাগ নতুন ভবনে স্থানান্তরিত করা হলে রোগীদের মাত্রাতিরিক্ত চাপ অনেকাংশেই কমে আসবে।
চুয়াডাঙ্গা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, চুয়াডাঙ্গার গ্রামীণ সড়কসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। শিগগিরই আরও কয়েকটি উন্নয়নকাজের বরাদ্দ পাওয়া যাবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, মাথাভাঙ্গা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। পুরোদমে কাজ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘জেলার সব নদী ও খাল পুনঃখননের কাজ হাতে নিয়েছি। সম্প্রতি নবগঙ্গাসহ ১ম পর্যায়ে চারটি শাখানদীর পুনঃখননকাজ শুরু করা হয়েছে। ২য় পর্যায়ে সব কটির কাজ শুরু হবে। এছাড়াও আলমডাঙ্গায় অবৈধ দখলদারদের থেকে নদীর জমি উদ্ধারের অভিযান হয়েছে। উদ্ধারকৃত স্থানে বৃক্ষ রোপণ করা হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাঁর বিভাগীয় কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান।
এ সময় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিটন আলী, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস, দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু, জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, এনএসআইয়ের উপপরিচালক জামিল সিদ্দিকসহ চুয়াডাঙ্গা জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে দাপ্তরিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড উপস্থাপন ও সমন্বয় করেন। পরে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দুটি গ্রুপে আলোকসজ্জ্বার জন্য তিনটি করে মোট ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কৃারপ্রাপ্তরা হলেন সরকারি পর্যায়ে ১ম পানি উন্নয়ন বোর্ড, ২য় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও ৩য় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। বেসরকারিভাবে ১ম জামান গ্রুপ, ২য় বিগ বাজার ও ৩য় সনো টাওয়ার চুয়াডাঙ্গা।
