শিশুকন্যাকে নিয়ে পথে পথে ঘুরছেন দরিদ্র ঘরের জেসমিন
দর্শনা অফিস:
আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে প্রকাশ্য ঘুরছেন যৌতুক লোভী তোতা। এদিকে বিপদে পড়েছেন হতদরিদ্র ঘরের কন্যা তোতার প্রথম স্ত্রী জেসমিন খাতুন ও চার বছরের শিশুকন্যা তৃষ্ণা খাতুন। পারিবারিক সালিশ, গ্রাম্য সালিশে বিচার না পাওয়ায় পথে পথে ঘুরেছেস হতদরিদ্র জেসমিন ও তাঁর মেয়ে। অবশেষে তিনি সঠিক বিচার পাওয়ার আশায় আদালতের স্মরণাপন্ন হয়ে তোতার বিরুদ্ধে যৌতুক, নারী নির্যাতনসহ তিনটি মামলা করেছেন জেসমিন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার আকন্দবাড়িয়া গ্রামের জামাত আলীর কন্যা জেসমিনের সঙ্গে ঝিনাইদহের বকসি পাড়ার গোলাম মোস্তফার ছেলে তোতা মিয়ার পারিবারিকভাবে এক লাখ টাকা দেনমোহরে বিবাহ হয়। বিবাহের পর তাঁদের সংসারে আসে তৃষ্ণা (৪) নামের ফুটফুটে এক কন্যাসন্তান। বিয়ের পর থেকে তোতা বিভিন্ন সময় জেসমিনের দারিদ্র্য পিতা-মাতার কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা নেন। মেয়ের সংসারের সুখের জন্য প্রায় দুই লাখ টাকার জিনিসপত্র বিভিন্ন সময় দেন জেসমিনের পিতা। পরে আট মাস আগে দেড় লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে জেসমিনকে মারধর করে পিতার বাড়ি আকন্দবাড়িয়ায় পাঠিয়ে দেন তোতা। এর কিছুদিন পরে গত বছরের ৪ নভেম্বর তোতা মিয়া গোপনে ঝিনাইদহ জেলার একই থানার এলাহী মিয়ার কন্যা বৈশাখী খাতুনকে বিবাহ করে ঘর-সংসার করছেন। এদিকে, জেসমিন খাতুন তাঁর পিতার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বললে তাঁকে বিভিন্ন সময় তোতা হুমকি-ধামকি দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন জেসমিন। এমতাবস্থায় জেসমিন খাতুন বিচারের আসায় বিভিন্ন মহলে গিয়ে কোনো লাভ না হওয়ায় নিজে বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গার বিজ্ঞ আমলী আদালতে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারা, স্ত্রী ও সালিশসভার অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করায় মুসলিম পরিবার আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর ৬(৫) ধারা, ও বিজ্ঞ চুয়াডাঙ্গা সহকারী জজ পারিবারিক আদালতে দেনমোহরের বকেয়া এক লাখ টাকা, স্ত্রী ও নাবালিকা শিশু কন্যা সন্তানের খোরপোশ বাবদ মোট তিনটি মামলা করেছেস।
এদিকে, মোবাইলের মাধ্যমে তোতা বিভিন্ন সময় এসব মামলা তুলে নিতে বলছে এবং না নিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন জেসমিন।
