ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ী সাইদুরের বিরুদ্ধে
সমীকরণ প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকা সত্ত্বেও নিয়ম ভেঙে নিজ মালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্সে করে রেফার্ড করা এক রোগীকে ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিরাময় ক্লিনিক মালিক ও অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ী সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার তাঁর বিরুদ্ধে সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার (আরএমও) কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক ও চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রিপন মোল্লাসহ শ্রমিক নেতৃবন্দ। শনিবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে রেফার্ড করা এক রোগীকে রাজশাহী নিয়ে যাওয়া নিয়ে এ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে নিয়মানুযায়ী, হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকাকালীন কোনো বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রোগী পরিবহন করতে পারবে না। কিন্তু নিয়মের কোনো রূপ তোয়াক্কা না করেই সাইদুর রহমান তাঁর ক্লিনিকের অ্যাম্বুলেন্সে করে ওই রোগীকে রাজশাহী নিয়ে যান।
জানা যায়, বেসরকারি ক্লিনিক মালিকেরা ফিটনেসবিহীন মাইক্রো কিনে কোনো রকম মেরামত ও রং করে লাল-নীল লাইট আর নিচে সাইরেন লাগিয়ে নাম মাত্র খরচে তৈরি করছেন এসব অ্যাম্বুলেন্স। এ ব্যবসায় গড়ে তুলেছেন নিজেদের একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন হাসপাতালে অবস্থানরত এক শ্রেণীর দালালেরা। তাঁরা কোনো মতে যদি জানতে পারেন হাসপাতালের কোনো রোগীকে রেফার্ড করা হয়েছে, তাহলে তাঁরা রোগীর পরিবারকে নানাভাবে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেন। এতে অ্যাম্বুলেন্স মালিকেরা তাদের কিছু কমিশন দেন। নিয়ম অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেনের ব্যবস্থা, এসি, প্রাথমিক চিকিৎসা উপকরণ এবং প্রশিক্ষিত ডাক্তার ও ওষুধের ব্যবস্থা থাকতে হয়। এ ছাড়াও রোগীর জন্য স্থায়ী শয্যা, অক্সিজেন সিলিন্ডার-মাস্ক, চিকিৎসক বসার ব্যবস্থা, স্ট্রেচার থাকাটাও জরুরি। অথচ এসবের কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করেন না বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকেরা।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক স্বপন, সাকুসহ অন্যান্য বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা অভিযোগ করে বলেন, ‘শনিবার সকালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে থাকা সত্ত্বেও সাইদুর হাসপাতালে এসে রাজশাহী রেফার্ড করা এক রোগীকে ভাগিয়ে তাঁর অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যান। বিষয়টি আমরা জানার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদককে জানাই। পরে সাইদুর বিষয়টি জানতে পারলে সরকারি চালকদের ফোন দিয়ে রোগীকে শহরের টাউন ফুটবল মাঠের সামনে থেকে নিয়ে যেতে বলেন। তবে রোগী হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ায় আমরা সরকারি চালকেরা তাঁকে নিয়ে যেতে অমত প্রকাশ করি।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রিপন মোল্লা বলেন, ‘সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকা সত্ত্বেও সাইদুর প্রভাব খাটিয়ে রোগী নিয়ে যাচ্ছেন, এটা নিয়ম বহির্ভূত। এরআগেও এমন অভিযোগ আছে সাইদুরের বিরুদ্ধে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকাকালীন কোনো বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রোগী পরিবহন করতে পারবে না। শনিবার সাইদুর নিয়ম ভেঙে রাজশাহী রোগী নিয়ে গেছেন, এটা অন্যায়। আমরা রোববার মাইক্রোস্ট্যান্ডের সভাপতিকে ডেকেছি। আমাদের চালকেরা সাইদুরের গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’
এ প্রসঙ্গে সাইদুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালের বাইরে থেকে একজন ব্যক্তি আমাকে রোগী ঠিক করে দিয়েছে। তাই নিয়ে গিয়েছি। পরে সরকারি চালকেরা বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালে আমি তাঁদেরকে ফোন করে রোগী নিয়ে যেতে বলি। তাঁরা রোগী নেবে না বলে জানালে আমি নিয়ে যাই।’
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, ‘হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকাকালীন কোনো বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রোগী নিয়ে যেতে পারবে না। তবে রোগীরা যদি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স যেতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সেটা ভিন্ন কথা। এ বিষয়ে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা আমাকে জানিয়েছে। রোববার উভয় পক্ষের সঙ্গে বসে এ বিষয়ে সিন্ধান্ত নেওয়া হবে।’
