ছবির ক্যাপশন:
মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে নতুন বই দিয়ে শুরু বই উৎসব : চুয়াডাঙ্গায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমপি ছেলুন জোয়ার্দ্দার
সমীকরণ প্রতিবেদন:
শীতের সকালে মিষ্টি রোদে হাতে হাতে নতুন বই। চোখে মুখে খুশির ঝলক। নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মাতোয়ারা ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। নতুন ক্লাসের নতুন পাঠ্যবই পেয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে লাখো শিশু শিক্ষার্থী। নতুন বছরের প্রথম দিনে সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হল পাঠ্যপুস্তক উৎসব।
চুয়াডাঙ্গা:
সারা দেশের মতো চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্কুলে নতুন বইয়ের উৎসব পালিত হয়েছে। উৎসবের মাধ্যমে নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনটিতে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যের নতুন বই তুলে দেওয়া হয়েছে। বছরের প্রথম দিনই প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী এবং মাধ্যমিক ও দাখিল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নতুন বই নিয়ে ঘরে ফিরেছে। এ বছর জেলায় প্রায় ২৫ লাখ নতুন বই বিতরণ করা হয়। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের এম এ বারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা অফিসার নিখিল রঞ্জন চক্রবর্তী ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন বলেন, ‘নতুন বছরের প্রথম দিন আজ। বরাবরের মতো এবারও পহেলা জানুয়ারি সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যে বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ পৃথিবীর বুকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। কেননা, পৃথিবীর কোনো দেশে বছরের প্রথম দিনে উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার নজির নেই।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে পাঠ্যপুস্তক উৎসব। শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যে নতুন বই তুলে দিয়ে এ উৎসব পালন করা হচ্ছে।
এদিকে, শহরের চুয়াডাঙ্গা ভি জে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, নতুন বই হাতে পেয়েই উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। স্কুলের এক কোনে বসেই কেউ কেউ দেখে নিচ্ছে বইয়ের ছবিগুলো। আবার কেউ নাকের ডগায় নিয়ে নতুন বইয়ের গন্ধ শুকছেন। নতুন বই পড়ার সেকি বাধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস। সকাল থেকেই ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা সীমাহীন আনন্দ নিয়ে উল্লাস করতে করতে বুকের সঙ্গে নতুন বই নিয়ে ছোটাছুটি করছে। ছোট্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আনন্দে মেতেছে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরাও। বছরের প্রথম দিন নতুন বই হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চাহিদা অনুযায়ী ৭ লাখ ১০ হাজার ৭৪৮টি বই বিতরণ করা হয়েছে। যা বিতরণের অনেক আগেই বিদ্যালয়গুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় (১ম-৫ম) ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৯৫৮টি ও প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৪ হাজার ৭৯০টি।
এদিকে, মাধ্যমিক স্তুরে মাধ্যমিক, দাখিল, ইবতেদায়ী, এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনাল পর্যায়ে চাহিদার শতভাগ হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের। মাধ্যমিকে (বাংলা ভার্সন) ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ৭০০টি, মাধ্যমিক (ইংরেজি ভার্সন) ১ হাজার ৩৭০টি, দাখিলের চাহিদার ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৩৫টি, ইবতেদায়ি চাহিদার ৮৮ হাজার ৮৬০টি, এসএসসি ভোকেশনালের চাহিদার ৩৫ হাজার ৬৩৭টি, দাখিল ভোকেশনাল ১ হাজার ১২০টি ও ট্রেড বই ১৭ হাজার ২৭৯টি বই বিতরণ করা হয়েছে।
আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গা উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯২ হাজার ১২১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯ লাখ ১০ হাজার ৮৬৮টি বই বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল বারী বলেন, উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ে ২৭ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে ৪ লাখ ৪৮ হাজার বই প্রদান করা হয়। মাদ্রাসার ৯ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীকে ১ লাখ ৫০ হাজার বই ও মাদ্রাসার ইবতেদায়ি শাখার ৯ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে ৬৭ হাজার ৬০০টি বই প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬৫৭ শিক্ষার্থীর জন্য ৫ হাজার ৮১৫টি বই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুজ্জোহা বলেন, উপজেলার ১৪৫টি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ৩৭ হাজার ৯৮৯ শিক্ষার্থীর জন্য ১ লাখ ৯০ হাজার ৪৫৩টি বই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে দেওয়া হয়েছে। বই বিতরণ উপলক্ষে মাদ্রাসা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মাঠে জমে ওঠে বই উৎসব। গতকাল বুধবার আলমডাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের হলরুমে বই বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিটন আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমুন আহম্মেদ ডন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল বারী, প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আনিসুজ্জামান। উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ইমরুল হকের উপস্থাপনায় এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক হাসিনুর রহমান, রওশনারা খাতুন, মজনুর রহমান প্রমুখ। অন্যদিক. কুমারি ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিটন আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান সালমুন আহম্মেদ ডন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল বারী, একাডেমিক সুপারভাইজার ইমরুল হক ও প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব রাবিবুস সালেহীন। এ সময় প্রধান অতিথি বলেন, ‘আজ বই বিতরণ যেন অন্য রকম এক উত্তেজনা।’ উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন বই তুলে দেন শিক্ষার্থীদের হাতে। অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর ছেলেবেলার শিক্ষাজীবনের কথা তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আগে বড় ভাইয়ের পুরোনো বই পড়ত ছোট ভাইয়েরা। সময়ের সঙ্গে এখন এই ধারার পরিবর্তন হয়েছে। প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের হাতে আসছে নতুন বই। এই বই পড়ে তারা দেশ ও জাতির ঐতিহ্য-ইতিহাস জানবে।’ নতুন বইয়ের গন্ধে ফুলের মতো ফুটে ওঠে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সরকারের অনেক ভালো কাজের মধ্যে বই বিতরণ কর্মসূচি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ এক অভিনব এবং বিস্ময়কর ব্যাপার বলেও মনে করেন উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। তাঁর আশা, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি এগিয়ে যাবে। বই বিতরণ শুরু হলে উৎসবে মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। সেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের এলাকাতেও। সময়ের ফ্রেমে বেঁধে রাখার মতো ১ জানুয়ারির ‘বই উৎসব’ অনুাষ্ঠত হয়।
দর্শনা:
বছরের প্রথম দিনে দর্শনা পৌর এলাকার সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় দর্শনা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে এসব নতুন বই তুলে দেওয়া হয়। দর্শনা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উত্তম কুমার দেবনাথের সভাপতিত্বে বই বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দর্শনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আওয়াল হোসেন, সহসভাপতি কামরুজ্জামান যুদ্ধ, ময়না খাতুন, কামাল হোসেন ও মনির হোসেন। শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নাহিদ পারভেজ জনি, আশরাফ আলী রোকন ও কুলছুম বেগম। বই বিতরণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শিক্ষক রেজাউল ইসলাম।
কার্পাসডাঙ্গা:
দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ও নাটুদাহ ইউনিয়নের বিদ্যালয়গুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশে বই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন বছরের প্রথম দিনেই নতুন বইয়ের গন্ধে শিক্ষার্থীদের মন আনন্দে ভরে উঠে। তারা নতুন বই হাতে পেয়ে হৈ-হুল্লড় করতে থাকে। কার্পাসডাঙ্গার কানাইডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদাউসের সভাপতিত্বে বই উৎসবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাইডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও নাটুদাহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম, সানোয়ার হোসেন মণ্টু, শিক্ষক আ.হামিদ, মাসুম রেজা প্রমুখ। জাহাজপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই উৎসবে বিদ্যালয়টির সভাপতি আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা জিন্নাত আলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুজ্জামান লাল্টু। নাটুদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আ.মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটুদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ.মান্নান। জগন্নাথপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আ. গাফফারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আওয়ামী লীগের নেতা আ.হালিম। তালসারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সহিদুল মাস্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটুদাহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হামিদুল্লাহ বিশ্বাস। কার্পাসডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা রির্সোস সেন্টারের ইন্সট্রাকক্টর হাবিবুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আবু সাইদ।
জীবননগর:
জীবননগর উপজেলায় বই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে জীবননগর উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বই বিতরণ করা হয়। জীবননগর দৌলৎগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে বই উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি হাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম, পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ইশা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েশা সুলতানা লাকী, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দীনেশ চন্দ্র পাল প্রমুখ। একই সঙ্গে উপজেলার পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শাপলাকলি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জীবননগর সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়সহ প্রতিটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণের মাধ্যমে বই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বছরের শুরুতে নতুন বই হাতে পেয়ে শাপলাকলি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বই উৎসবের বর্ণাঢ্য র্যালি বের করে।
হাসাদাহ:
জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ও রায়পুর ইউনিয়নের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালের দিকে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠারে শিক্ষককেরা উপস্থিত থেকে এসব বই বিতরণ করেন। হাসাদাহ বহুমুখি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, মডেল কামিল মাদ্রাসা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাসাদাহ মাঝপাড়া মক্তব, মাধবপুর বিসিকেএমপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রায়পুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নিধিকুণ্ড-বাড়ান্দী দাখিল মাদ্রাসা, রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নতুন চাকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিহুদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
মেহেরপুর:
সারা দেশের ন্যায় নতুন বছরের প্রথম দিনে আনন্দঘন পরিবেশে মেহেরপুরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে নতুন বছরের নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে। মেহেরপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে মেহেরপুর জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক পর্যায়ের বই উৎসবের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার মোমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে প্রাথমিক পর্যায়ের বই উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ভিডিওতে বক্তব্যের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ের বই উৎসবের ঘোষণা করেন। জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনির সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলী, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. ইয়ারুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুল আলম ও ভাইস চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফজলুর রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আপিল উদ্দিন, পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস প্রমুখ। পরে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের মেহেরপুর জেলায় বই উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। এবার মেহেরপুর জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮০ হাজার ৭৩৯ শিক্ষার্থীদের হাতে ৪ লাখ ১২ হাজার ৭২৫ বই এবং ম্যাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬২ হাজার ৬৮৩ শিক্ষার্থীদের হাতে ৮ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪০টি বই তুলে দেওয়া হবে। অপর দিকে, মেহেরপুরে রংতুলি ডিলিজেন্ট একাডেমি স্কুলে বই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে স্কুল প্রাঙ্গনে আনুষ্ঠানিকভাবে শিশুদের হাতে নতুন বছরের বই বিনামূল্যে তুলে দেওয়া হয়। বই উৎসব অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের পরিচালক মিজানুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন। বিশেষ অতিথি ছিলেন হোটেল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ ইকবাল শিমন, বিদ্যালয়ের পরিচালক রাশেদ খান ও জহিরুল ইসলাম। বই উৎসব অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইয়াহিয়া।
আমঝুপি:
মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপির ইউনিয়নের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে আমঝুপি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে নতুন বই বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আমঝুপি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন আহম্মেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহমেদ আলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আমঝুপি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ও আমঝুপি আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আব্দুল হামিদ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হাফিজুজ্জামান, সহকারী শিক্ষক রাফিউল ইসলাম, শরিফ আহম্মেদ, বশির আহম্মেদ ও ফারাহ হোসেন লিটন। আমঝুপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন বই বিতরণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আমঝুপি ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন আহম্মেদ। সভাপতিত্ব করেন আবুল হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন রোকনুজ্জামান। আমঝুপি সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে নতুন বই বিতরণে প্রধান অতিথি ছিলেন মেহেরপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আমঝুপি ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন আহম্মেদ। সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুলতানা পারভীন। আমঝুপি গন্ধরাজপুর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন বই বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওমর ফারুক লিটন। প্রধান অতিথি ছিলেন হেলাল উদ্দীন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কিতাব আলী।
ঝিনাইদহ:
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার কালিকাপুর জামে মসজিদ প্রাক-প্রাথমিক কেন্দ্রে বই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাইন্ডেশনের উপপরিচালক মো. আব্দুল হামিদ খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফিল্ড অফিসার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও কেন্দ্র সভাপতি মো. আক্কাস আলী। বই বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলাম প্রচার-প্রসারে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিটি কাজ আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পন্ন করে যাচ্ছেন। তার ধারাবাহিকতায় মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের সব শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বছরের প্রথম দিনে নতুন বই তুলে দিতে সক্ষম হয়েছে।’ এদিকে বই উৎসবের মধ্যে দিয়ে ঝিনাইদহের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন বই বিতরণ করা হয়। গতকাল বুধবার সকালে ঝিনাইদহ সরকারি উচ্চবালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আরিফ-উজ-জামান, সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লক্ষী রানী পোদ্দার, সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ আব্দুল মালেকসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। নতুন বই পেয়ে খুশি শিক্ষার্থীরা। তাঁদের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ। শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা জানান, এ বছর জেলার ৬ উপজেলায় ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৬ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার ৪৩৪টি বই বিতরণ করা হবে।
