ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গায় দখল হওয়া ভূমি উদ্ধারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অভিযান
ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক, (আলমডাঙ্গা):
আলমডাঙ্গায় দখল হওয়া ভূমি উদ্ধারে বাংলাদেশ রেলওয়ে দোকানসহ ২৫০টি বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে। গতকাল রোববার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশি জোনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুজ্জামান ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমজাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও উচ্ছেদ অভিযানে রেলওয়ে পুলিশসহ আলমডাঙ্গা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা পৌর এলাকায় রেলওয়ের প্রায় ৫ কিলোমিটার জায়গায় ৪ থেকে ৫ শতাধিক স্থাপনা নির্মাণ করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। এ সব স্থাপনা নির্মাণ করে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তাঁরা। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক ডিসিআর নেওয়া বৈধ-অবৈধ স্থাপনার তালিকা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। কয়েক মাস পূর্বে রেলওয়ে পাকশি জোনের পক্ষ থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশও দেওয়া হয়। এ ছাড়া তাদের পক্ষ থেকে জমি লিজের কাগজ সংগ্রহ এবং পূর্বের কাগজ নবায়নের নির্দেশও দেওয়া হয়।
তবে উচ্ছেদকৃত দোকানের মালিকেরা দাবি করছেন, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা ছোট পরিসরে ব্যবসা পরিচালনা করছি। ব্যবসার টাকায় আমরা সংসার চালাই। ইতিমধ্যে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কাগজ করা জন্য জানায়। কাগজ করার জন্য যোগাযোগ করা হলে তারা মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে।’ এ বিষয়ে ব্যবসায়ী শফিকুল, আবুল হাসান, জসিম বলেন, ‘অবাক করার বিষয়, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এই চলমান উচ্ছেদ অভিযানকে একটি পক্ষ বির্তকিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। রেলওয়ে উচ্ছেদের নামে বাণিজ্য গড়ে তুলেছে তারা। মোটা অঙ্কের টাকা দিলে বৈধ, আর দিতে না পারলে অবৈধ।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশি জোনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুজ্জামান বলেন, আলমডাঙ্গায় প্রায় ২৫০টি অবৈধ দখলের তালিকা করা হয়েছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘যাদের বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে লিজ দেওয়া হয়েছে, শুধু তাদের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে না। উচ্ছেদকৃত এই স্থানে যদি কেউ জায়গা দখলের চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আলমডাঙ্গায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জায়গা দখল করে ৫ শতাধিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। কিছু ব্যক্তিকে রেলওয়ে লিজ দিলেও ২৫০টি স্থাপনা অবৈধভাবে জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে। সকাল থেকে স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। তালিকা অনুযায়ী উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।’
