বাতিল হচ্ছে পিইসি!

আপলোড তারিখঃ 2019-12-25 ইং
বাতিল হচ্ছে পিইসি! ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ প্রতিবেদন: প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) থাকবে, কী থাকবে না; তা ঠিক করতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে একটি প্রকল্প অনুমোদনের সময় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা রাখা না রাখার বিষয়টি অনেক দিন ধরেই আলোচিত হচ্ছে। তিন বছর আগে ২০১৬ সালে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার গন্ডি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিলে প্রাথমিক সমাপনী (পিইসি) বিষয়টি সামনে আসে। সেসময় প্রাথমিকের এ পরীক্ষা না নেওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছিলেন তখনকার প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। তবে মন্ত্রিসভায় বিষয়টির সুরাহা হবে বলেও জানান তিনি। প্রাথমিক সমাপনী বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন সময় নানা কর্মসূচিও পালন করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। কিন্তু পরের বছরই জাতীয় সংসদে সেসময়কার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার মতো পিইসি বাতিলের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে ২০০৯ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রচলন শুরু হয়। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় জেএসসি পরীক্ষা। গতকাল একনেক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দনকরণ প্রকল্প’ অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা থাকা উচিত নয় বলে মত দিয়েছেন। তিনি জানান, পিইসি পরীক্ষা থাকবে কি না, তা পর্যবেক্ষণে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘বাচ্চাদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অনেক মন্তব্য করেছেন, আলোচনা করেছেন। (বাচ্চারা) অনেক বেশি বই কাঁধে নিয়ে ঘোরে, কষ্ট হয়। আজকেও বিষয়টি বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, পরীক্ষা নিতে নিতে শেষ করে দিচ্ছি বাচ্চাদের। খালি পরীক্ষা, খালি পরীক্ষা।’ ‘উনি (প্রধানমন্ত্রী) মনে করেন, বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে যে পিইসি পরীক্ষা নেওয়া হয়, এটা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। তিনিও (প্রধানমন্ত্রী) এর সঙ্গে একমত।’ ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে আরো নতুন নতুন চিন্তাভাবনা করার জন্য। মূল কথা হলোÑ শিশুদের এই ভার থেকে মুক্ত করতে হবে। তারা যেন খেলাধুলা করতে পারে। শিশুদের বইয়ের ভার কমাও, আনন্দে থাকতে দাও ইত্যাদি।’ এ ছাড়া প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বাতিল কিংবা কী করা যায়, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিতেও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেন। জানা গেছে, তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের পরীক্ষার পদ্ধতি না রাখার বিষয়ে গত মার্চেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ব্যাপারে গত সেপ্টেম্বরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম আল হোসেন বলেছিলেন, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার চাপ কমাতে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর গতকাল একনেক বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের চাপ দিয়ে নয়, কীভাবে আনন্দের সঙ্গে পড়ার পরিবেশ তৈরি করা যায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাব্যবস্থার উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা নেই। ক্লাস পারফরম্যান্স রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসের জন্য নির্বাচন করা হয়। তখন প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে না। ক্লাস পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। আগামী বছর থেকে প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০০টি বিদ্যালয়ে পাইলটিং হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর আগে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০১৯ উদ্যাপন উপলক্ষে গত ৫ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব বলেছিলেন, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার চাপ কমাতে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। ২০২০ সাল থেকে পাইলটিং হিসেবে ১০০ বিদ্যালয়কে এর আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, এসব বিদ্যালয়ে মাসিক ক্লাস পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত উত্তীর্ণ করা হবে। তবে চতুর্থ শ্রেণি থেকে বার্ষিক পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। সচিব বলেন, পাইলটিং কার্যক্রম শেষ হলে ২০২১ সাল থেকে দেশের ৬৫ হাজারেরও বেশি বিদ্যালয়ে এ পরীক্ষা বাতিল করে ক্লাস পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি ২০২১ সাল থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে নতুন পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা হবে। সচিবের ওই বক্তব্যে বোঝা যায় যে, নতুন পাঠ্যক্রম প্রণয়ন হরে পিইসির ব্যাপারেও নতুন সিদ্ধান্ত আসবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)