ছবির ক্যাপশন:
শের খান:
খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন আজ। এ দিন জেরুজালেমের বেথেলহেমে মা মারিয়ার গর্ভে জন্ম নিয়েছিলেন যিশুখ্রিষ্ট। এ উপলক্ষে রঙ-বেরঙের বর্ণিল সাজে সেজেছে মুজিবনগর। এলাকার খ্রিষ্টান পল্লীগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। দূর-দূরান্ত থেকে নাড়ির টানে এলাকায় ফিরেছেন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ। এ উৎসবকে ঘিরে আশেপাশের অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যেও উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। খ্রিষ্টান পল্লীর পাড়ার মোড়ে মোড়ে যিশু খ্রিষ্ট বেথেলহেমের যে গোয়ালঘরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তার আদলে তৈরি করা হয়েছে গোশালা। মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে শুরু হয়েছে মূল উৎসব। মুজিবনগর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লোক বাস করেন বল্লভপুর ও ভবেরপাড়া গ্রামে।
বড়দিন উপলক্ষে বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বল্লভপুর গ্রামের মি. শংকর বিশ্বাস জানান, বড়দিন উপলক্ষে চার্চগুলোতে ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে গীর্জায় প্রার্থনা আনন্দ-ফুর্তি, নাচ-গান এবং গোশালাগুলো উদ্বোধন করা হবে। ২৬ তারিখ থেকে বল্লভপুর খেলার মাঠে ঐতিহ্যবাহী সাত দিনব্যাপী আনন্দ মেলার উদ্বোধন করা হবে। বল্লভপুর আনন্দমেলা উদ্যাপন কমিটির সম্পাদক মি. বাবুল মল্লিক জানান, বড়দিন এবং আনন্দ মেলার নিরাপত্তার জন্য প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন। প্রশাসনের পাশাপাশি চার্চ ও মেলা কমিটিও নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ভবেরপাড়া ক্যাথলিক চার্চের পুরোহিত ফাদার রেভা: বাবুল বৈরাগী জানান, যিশুখ্রিষ্টের জন্মদিন শুভবড়দিন উপলক্ষে ক্যাথলিক চার্চের নিয়ন্ত্রণাধীন চার্চগুলোতে ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছে। গীর্জাগুলো বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় খ্রিষ্টযাগের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।
বাগোয়ান ইউপি সদস্য ভবেরপাড়া গ্রামের মি: দিলিপ মল্লিক জানান, ‘বড়দিন উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন এবং খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষসহ সব ধর্মাবলম্বীর মানুষ আমাদের সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন।’
নিরাপত্তার বিষয়ে মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুুল হাশেম জানান, বড়দিন উপলক্ষে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিহত করার জন্য তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি নিজে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করছেন। উপজেলার প্রত্যেকটি গীর্জায় সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশের টিম এবং ডিবির গোয়েন্দা টিম কাজ করে যাচ্ছে। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বড়দিনের অনুষ্ঠান পালন করছে।
