ছবির ক্যাপশন:
৭১-এর রাজাকার আব্দুল জলিল এখন বীর মুক্তিযোদ্ধা
আরিফ হাসান:
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তাকারী বিশ্বাসঘাতক রাজাকার বর্তমানে বীর মুক্তিযোদ্ধা। সরকারিভাবে পেয়েছেন ঘর, নিয়মিত তুলছেন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, ভোগ করছেন অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার প্রায় ৫০-এর অধিক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকা একাধিকবার ঊর্ধ্বতন মহলে পাঠানো হলেও নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। দ্রুত এসব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ দেওয়াসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারাসহ সচেতন মহল।
জানা গেছে, গতকাল রোববার মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রাণালয় থেকে সারা দেশের রাজাকারদের আংশিক তালিকা প্রকাশ করা হয়। যার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার ৭৮৯। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের যদুপুর গ্রামের মৃত আমদ আলীর ছেলে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী পাকিস্তানি বাহিনীর অনুচর রাজাকার আব্দুল জলিল এখন তালিকাভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পেয়েছেন সরকারি বরাদ্দের ঘর, নিয়মিত তুলছেন সরকারি ভাতাও।
এ বিষয়ে বেগমপুর ও তিতুদহ ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধাকালীন কমান্ডার ওসমান আলী সময়ের সমীকরণকে বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমি এই এলাকার কমান্ডার ছিলাম। সে সময় আমার সঙ্গে হাতে গোনা কয়েকজন সরাসরি স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পাকিস্তানি হানদারা বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে শহীদ হন আমার সহযোদ্ধা হারুন অর রশিদ। যাঁকে বাংলাদেশ সরকার পরবর্তীতে বীর প্রতীক উপাধি দিয়েছে। ২৭ নভেম্বর আমরা যদুপুর পাকিস্তানি ক্যাম্প আক্রমণ করি, ওই সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের সম্মিলিত আক্রমণের মুখে আমরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। সেই যুদ্ধের সময় হারুন গুলিবিদ্ধ হয়। সে সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে অংশ নেওয়া রাজাকারদের মধ্যে অন্যতম ছিল যদুপুর গ্রামের রাজাকার আব্দুল জলিল। সে এখন মুক্তিযোদ্ধা। এর থেকে লজ্জাজনক আমাদের জন্য আর কী হতে পারে! একজন রাজাকার মারা যাওয়ার পর রাষ্ট্রীয় সম্মান পাবে, তার কফিনে দেশের পতাকা জড়ানো হবে, এ দৃশ্য দেখার জন্যই কি দেশ স্বাধীন করেছিলাম?’ তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বেগমপুর ফুলতলার সেন্টু দেওয়ানের ছেলে আলমাস মেম্বারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী-সন্তানেরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে।’
এ বিষয়ে রাজাকার হয়ে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম লেখানো আব্দুল জলিলের কাছে জানতে চাইলে তিনি যুদ্ধকালীন রাজাকার থাকার কথা স্বাকীর করে বলেন, ‘রাজাকার ছিলাম, কিন্তু পরে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলাম।’ চুয়াডাঙ্গা সদরের বেগমপুর ও তিতুদহ ইউনিয়নের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা দ্রুত এসব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
