ছবির ক্যাপশন:
প্রতিবেদক, দামুড়হুদা:
দামুড়হুদা উপজেলার চাকুলিয়া সীমান্তে ভারতীয় নাগরিকদের নির্যাতনে বাংলাদেশের চাকুলিয়া গ্রামের গনি মিয়া (৩০) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গনি মিয়া গরু পাচার ও মাদক ব্যবসায়ীদের সাহায্যকারী বা স্থানীয় ডে-লেবার হিসেবে পরিচিত। গনি মিয়া দামুড়হুদা উপজেলার চাকুলিয়া গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে। গত সোমবার দিনগত গভীর রাতে দামুড়হুদা উপজেলার ঠাকুরপুর সীমান্তের চাকুলিয়া গ্রামের ভারতীয় হুদাপাড়া সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যু হয়।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান (পিএসসি) জানান, দামুড়হুদা উপজেলার চাকুলিয়া গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে গনি মিয়া মাদক ও গরু ব্যবসায়ীদের সাহায্যকারী ডে-লেবার হিসেবে কাজ করতেন। গত সোমবার দিনগত রাতে গনিসহ তিনজন একসঙ্গে ঠাকুরপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের হুদাপাড়ায় গরু পাচার করে আনতে যান। এ সময় ভারতের হুদাপাড়ার কতিপয় ব্যক্তি তাঁকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে বাংলাদেশের ঠাকুরপুর ৮৭ নম্বর মেইন পিলারের কাছে ফেলে রেখে যান। রাতেই এ খবর পেয়ে গনি মিয়ার পরিবারের সদস্যরা গনিকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোহরাব হোসেন গনিকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে ভারতীয় বিএসএফ বরাবর একটি প্রতিবাদলিপি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস জানান, এ ঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানায় আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে গনি মিয়ার পরিবার চাইলে মামলা করতে পারবেন।
এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শামীম কবির জানান, ‘নিহত ব্যক্তির বা পায়ে একটি কোপের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আর কোনো আঘাতের চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়নি।’ গতকাল দুপুরেই ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
