ছবির ক্যাপশন:
খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ই-ট্রাফিক সিস্টেমের উদ্বোধনকালে ডিআইজি মহিদ উদ্দিন
বিশেষ প্রতিবেদক:
খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেছেন, ‘এখন থেকে নতুন সড়ক পরিবহন আইনের জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিক অনলাইনে পরিশোধ করা যাবে। ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন অ্যান্ড ফাইন পেমেন্ট সিস্টেম সফটওয়্যারের উদ্ধোধনের মধ্য দিয়ে আজ থেকে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ট্রাফিক আইন লংঘনকারী চালকেরা কোনো ঝামেলা ছাড়াই মোবাইল ইউক্যাশের মাধ্যমে দ্রুত জরিমানার টাকা জমা দিয়ে ট্রাফিক পুলিশের কাছ থেকে তাঁদের গাড়ির কাগজপত্র ফেরত পাবেন।’ গতকাল সোমবার দুপুরে বাগেরহাট ফকিরহাটের কাটাখালী শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজের মাঠে ১০ জেলার ট্রাফিক সচেতনতামূলক সপ্তাহ ও মোটরযান আইনের জরিমানার অর্থ অনলাইনে পরিশোধ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন। এ ছাড়া গাড়ির মালিকানা, রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সও সহজে যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হবে বলে জানান ডিআইজি।
সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার মোটরযান আইন চালু করেছে উল্লেখ করে ডিআইজি খন্দকার মহিউদ্দিন বলেন, ‘এ নিয়ে মতপার্থক্য থাকা উচিত নয়। মোটরযান আইনে হওয়া কোনো জরিমানার টাকা আপনারা পুলিশের হাতে দেবেন না। এখন থেকে কোনো প্রকার হয়রানি ও সময়ক্ষেপণ ছাড়াই জরিমানার টাকা সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে। অনলাইনের মাধ্যমে জরিমানার টাকা পরিশোধ করলে সঙ্গে সঙ্গে আপনি একটি ক্যাশ মেমো হাতে পেয়ে যাবেন। এতে আপনার যেমন সময় বাঁচবে, তেমনি এই মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকবে।’
আইন মেনে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দিয়ে খুলনা রেঞ্জ পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) খন্দকার মহিউদ্দিন বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় সব থেকে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন গাড়ির চালক ও হেলপাররা। কোনো দুর্ঘটনায় তাঁরা দুজনই সবার আগে মৃত্যুর মুখে থাকেন। দুর্ঘটনা ঘটলে মালিক, শ্রমিক সবারই ক্ষতি হয়। যে মোটরযান আইন নিয়ে অনেকে সমালোচনা বা বিরোধিতা করছেন, সরকার তা জনগণের কল্যাণের জন্য করেছে। তাই সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এর সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে গাড়ির চালক ও হেলপারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নতুন সড়ক পরিবহন আইন দেখে অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে যথাযথভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলুন। আইন ফাইন করার জন্য নয়। জরিমানার পরিমাণ অতিরিক্ত দেখে ভাববেন না যে, এই জরিমানার টাকা দিয়ে সরকার পদ্মা সেতু তৈরি বানাবে। সরকার চাই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে।’
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এ কে এম নাহিদুল ইসলাম, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ, ইউসিবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শওকত জামিল, গ্রামীণ ফোনের লিড ম্যানেজার হেলাল উদ্দীন আহমেদ, হেড অব কর্পোরেট বিজনেস নাসার ইউসুফ, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আহাদ উদ্দীন হায়দার, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম হাবিব, খুলনা জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল ইসলাম ডেভিড, বাগেরহাট জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি শেখ নজরুল ইসলাম মণ্টু, বাগেরহাট আন্তজেলা বাস মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন এবং শ্রমিক লীগের সভাপতি রেজাউর রহমান মণ্টু ও মোল্লাহাট উপজেলা চেয়ারম্যান শাহবুল আলম সানা।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনার পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ্, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হক, ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান, মাগুরার পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজোয়ান, নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, মেহেরপুরের পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলী, খুলনা আরআরএফ-এর কমান্ড্যান্ট (এসপি) তাসলিমা খাতুন, পিটিসি-এর পুলিশ সুপার শুক্লা সাহা, খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বক্স দুদুসহ খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যম কর্মী, কয়েক হাজার বাস চালক ও শ্রমিকরা।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা থেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেন চুয়াডাঙ্গা জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মইনুদ্দিন মুক্তা, তথ্য সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ সোহেল রন্জু, জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের যুগ্ম সম্পাদক বদর উদ্দীন খান, জেলা ট্রাক মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল হক জোয়ার্দ্দার রেজা, জেলা বাস-ট্রাক সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম জেনারেল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রিপন ম-ল, দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর বিশেষ প্রতিবেদক এস এম শাফায়েত।
প্রসঙ্গত, ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন অ্যান্ড ফাইন পেমেন্ট সিস্টেম সফটওয়্যারের মাধ্যমে গাড়ির মালিকানা, রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই-বাছাই করা যাবে। এ ছাড়াও গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স-সংক্রান্ত মামলা সার্চ করা যাবে। একটি গাড়ি ও চালকের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্রেশন ও ট্রাফিক অনিয়ম-সংক্রান্ত কয়টি মামলা হয়েছে, তা জানা যাবে।
