দৃষ্টান্ত : প্রতিবন্ধি দুই ভাইয়ের পাশে বোন শিখা

আপলোড তারিখঃ 2019-11-23 ইং
দৃষ্টান্ত : প্রতিবন্ধি দুই ভাইয়ের পাশে বোন শিখা ছবির ক্যাপশন:
প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ: বাবা জয়দেব ম-ল মারা গেছেন প্রায় ২২ বছর আগে। আর বৃদ্ধ মা সুন্দরী ম-লের রোগে বাসা বাধা দেহ। ফলে প্রতিবন্ধী ভাইদের দেখার আর কেউ নেই। তাঁদের কথা চিন্তা করে শিখা ছেড়েছেন শ্বশুরবাড়ি। এখন বাবার ভিটেই ঝুপড়ি ঘর বেধে স্বামী-সন্তান সামলিয়েও অসহায় ভাইদের ঘিরে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। কেননা তিনি সংসারের সামলিয়েও সারা জীবন ছাগল পালন করে প্রতিবন্ধী ভাইদের ভরণ-পোষণের জন্য অবিরাম কষ্ট করছেন। আর প্রতিবন্ধী দুই ভাই কর্মক্ষমহীন অন্ধ্যকার জীবনে বোন শিখার ‘আলোর শিখায়’ জগতের পথ পাড়ি দিচ্ছেন। তাঁদের বাড়ি ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের বলরামপুর গ্রামে। সরেজমিনে শিখার বাড়িতে গেলে দেখা যায়, মাটির ওপর টিনের বেড়া আর ছাউনির ঝুঁপড়ি ঘরে বসবাস শিখার। পাশেই রয়েছে প্রতিবন্ধী ভাইদের সরকারি আবাসনের ঘর। এরই সামনে শিখার ছাগলের ঘর। এ ঘরেই পালন করা ছাগল দিয়ে চালিয়ে থাকেন তাঁর সংসার। শিখা ম-ল জানান, অন্য মেয়েদের মতো তিনিও শশুরবাড়িতে স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। বাবার মৃত্যুর পর প্রতিবন্ধী দুই ভাই আর বৃদ্ধ মাকে দেখার কেউ না থাকায় রক্তের টানে বাবার ভিটেই চলে আসেন তিনি। শিখা ম-ল জানান, বড় ভাই হারান ম-লের দুটি হাত ও এক পা সরু। যে কারণে তাঁর কোনো কর্মক্ষমতা নেই। আর ছোট ভাই মনোজিতের ছোটবেলা থেকেই এক পা অচল। সেও কোনো কাজ করতে পারেন না। ক্রাসে ভর করে তাঁকে পথ চলতে হয়। মা সুন্দরী ম-লের বর্তমান বয়স ৮২ বছর। শারীরিক অসুস্থতা আর বয়সের ভারে তিনিও চলতে পারেন না। এমন অবস্থার সংসার তাঁদের। তিনি বলেন, বসতভিটের অল্প কিছু জায়গা ছাড়া মাঠে তাঁদের কোনো চাষযোগ্য জমি নেই। ফলে সংসারের অভাব নিত্যসঙ্গী। শিখা আরও জানান, তাঁর স্বামী মনি কুমার কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। একমাত্র মেয়ে রিপাকে বিয়ে দিয়েছেন। স্বামীর সব সময় কাজ থাকে না। তিনি যা রোজগার করেন, তা দিয়ে ঠিকমতো নিজের সংসারই চলে না। এরপরও মা আর প্রতিবন্ধী দুই ভাইয়ের খাবারসহ সব দিক সামলানো লাগে। শিখা আরও জানান, তিন ভাই-বোনের মধ্যে হারান বড়, মেজো শিখা আর সবার ছোট মনোজিৎ। নিজের রক্তের ভাই দুটিই অসহায়। তাঁদের মুখের দিকে তাকালে অত্যন্ত খারাপ লাগে। তাদের দুবেলা দুমুঠো খাবার তুলে দিতে নিজেকে আয়ের পথ বের করতে হয়েছে। অনেক আগে থেকেই বাড়িতে ছাগল পালন করেন। সংসারের কাজ শেষ করে মাঠে মাঠে ছাগল চরিয়ে বেড়ান। বর্তমানে ১৮টি ছাগল রয়েছে। কিছুদিন পর পর একটি করে ছাগল বিক্রি করে সংসারের কাজে লাগান। আবার ছোটগুলো পালন করতে থাকেন। এভাবে চলছে কমপক্ষে ১৩ বছর। তাঁর দাবি, স্বল্প সুদে ঋণ পেলে আরও বেশি ছাগল পালনের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাই ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে একটু ভালোভাবে চলতে পারতেন। ছোট ভাই মনোজিৎ ম-ল জানান, তাঁদের অনেক কষ্টের জীবন। প্রতিবন্ধী দুভাই আর বৃদ্ধা মায়ের আপন বলতে একমাত্র বোনটাই আছে। তাঁদের অসহায়ত্বের কারণে এলাকার মানুষসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাঁদেরকে ভালো জানেন। ইতিমধ্যে দুইভাইকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দিয়েছেন। কিন্তু ভাতা বাবদ যা পান, তা দিয়ে ওষুধ কিনতেই শেষ হয়ে যায়। তাঁদের খাবারসহ সব ব্যয়ের জন্য বোন শিখাকে বাড়তি কষ্ট করতে হয়। তাঁদের জন্য বোন শিখা এতো কষ্ট করেন, কিন্তু কোনো সময় অবহেলা বা বিরক্তি দেখায় না। সে সব সময়ে মায়ের মতো করে আগলিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। প্রতিবেশী সালাউদ্দীন আহম্মেদ জানান, প্রতিবন্ধী দুভাই হারান আর মনোজিৎ খুব কষ্ট করেন। বোন শিখাকে বিয়ে দেওয়ার কিছুদিন পরেই তাঁদের বাবা মারা যান। এরপর তাঁদের দেখাশুনার জন্য তেমন কেউ ছিল না। সে সময়ে তাঁদের অনাহারে অর্ধাহারে থেকে দিন কাটত। ভাইদের কথা চিন্তা করে বোন শিখা ম-ল ভাইদের টানে চলে এসেছেন বাবার ভিটেই। তাঁদের ভরণ-পোষণের কথা চিন্তা করেই শিখা ম-ল ছাগল পালনসহ অবিরাম জীবন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, প্রতিবন্ধি দুই ভায়ের জন্য বোন হয়ে শিখা যা কওে, তা এক বোনের ভাইদের প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। নিয়ামতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাজু আহম্মেদ রনি লস্কর জানান, প্রতিবন্ধী দুই ভাই হারান ও মনোজিৎ ম-লের অসহায় জীবনযাপন অত্যন্ত কষ্টকর। এলাকার মানুষও তাঁদের খুব ভালোবাসেন। তাঁদের জন্য ইতিমধ্যে একটি সরকারি ঘর ও প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। তারপরও অসহায় ভাই দুটির জন্য বোন হয়ে শিখা যে কষ্ট করেন, তা নজিরবিহীন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)