ছবির ক্যাপশন:
প্রতিবেদক, হিজলগাড়ি:
সদ্য ঘোষিত দর্শনা থানা নয়, ‘চুয়াডাঙ্গা সদরের বাসিন্দা, সদরেই থাকতে চাই’ স্লোগানে আন্দোলিত হয়েছেন সদরের বেগমপুর, তিতুদহ, নবগঠিত নেহালপুর ও গড়াইটুপি ইউনিয়নের সর্বদলীয় জনগণ। বেগমপুর ও নেহালপুর ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে সর্বদলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রতিবাদ সভা। গঠন করা হয়েছে সদর থানা রক্ষা আন্দোলন কমিটি। কিন্ত কেনো?
মূলত, গত ২২ শে অক্টোবর সারা দেশে নতুন সাতটি থানা ঘোষণা করা হয়। যার মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ৪টি ইউনিয়ন ও দামুড়হুদা উপজেলার ২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে দর্শনা থানার নাম ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত দর্শনা থানার মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ৪টি ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে এই ইউনিয়নগুলোই বসবাসকারী সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। এরই ধারাবাহিতায় গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় হিজলগাড়ি বাজারে সর্বদলীয় প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সভা থেকে সর্বদলীয় সদর থানা রক্ষা আন্দোলন কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটিতে নেহালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান কাজলকে আহ্বায়ক ও আশরাফুল হক মাসুমকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৮ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম উদ্দিন, সুজাহান আলী জোয়ার্দ্দার, ফারুক হোসেন, আবুল হোসেন লাবু, বিএনপি নেতা আব্দুর রহিম ও মাসুদ রানা।
সদ্য ঘোষিত সদর থানা রক্ষা আন্দোলনের জন্য গঠিত সর্বদলীয় কমিটির আহ্বায়ক আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান কাজল বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার বৃহত্তম চারটি ইউনিয়নকে ভেঙ্গে নিয়ে দামুড়–হুদা উপজেলার সদ্য ঘোষিত দর্শনা থানার মধ্যে নেওয়া হয়েছে। আমরা চুয়াডাঙ্গা সদরের বাসিন্দারা কোনো ভাবেই দর্শনা থানার মধ্যে যাব না। সদরের মানুষ সদরেই থাকতে চাই। কারো ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য তুরুপের তাস হিসাবে ব্যবহার করবে, তা কোনো ভাবেই হতে দেওয়া হবে না। অতিসত্বর সদ্য ঘোষিত দর্শনা থানা থেকে আমাদের সদরের চার ইউয়িনকে বাদ দিতে হবে। প্রয়োজনে এই চার ইউনিয়নবাসীকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এই চার ইউনিয়ন ভেঙ্গে দর্শনা থানাতে নেওয়ার প্রতিবাদে ও চুয়াডাঙ্গা সদরের বাসিন্দা সদরেই থাকতে চাই স্লোগানে বেগমপুর, তিতুদহ, নবগঠিত নেহালপুর ও গড়াইটুপি ইউনিয়নবাসী একসাথে কাজ করবে। ইত্যেমধ্যে চার ইউনিয়নে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চলছে।’
অপর যুগ্ম আহ্বায়ক বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম উদ্দিন বলেন, আজ আমরা নেহালপুর ও বেগমপুর ইউনিয়নে সর্বদলীয় কমিটি গঠন করলাম। এবার তিতুদহ ও গড়াইটুপি ইউনিয়নে কমিটি গঠন করে দ্রুত বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের এই চার ইউনিয়নকে সদর থেকে আলাদা করে নেওয়ার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করব।
প্রতিবাদ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ছহির উদ্দিন, নুরুজ্জামান, মানিক, লাবু, ইসমাইল হোসেন, নয়ন মিয়া, শান্তি জোয়ার্দ্দার, মালেক মিয়াসহ বেগমপুর ও নেহালপুর ইউনিয়নের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
