ওরা ৭১ জন মানবতার ফেরিওয়ালা

আপলোড তারিখঃ 2019-10-27 ইং
ওরা ৭১ জন মানবতার ফেরিওয়ালা ছবির ক্যাপশন:
আরিফ হাসান: মালয়েশিয়া প্রবাসী নাইমুর রহমানের মা-বাবা দুজনই ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ায় দেশে ফিরে আসেন নাইমুর। দেশে আসার পর তিনিও এ রোগে আক্রান্ত হন। প্রবাস জীবনের অর্জিত অর্থ মা-বাবার চিকিৎসায় ব্যয় করে তিনি পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়েন। অর্থাভাবে তিনি নিজের চিকিৎসা করাতে না পেরে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকেন। এমন সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন চুয়াডাঙ্গা সদরের তিতুদহ ইউনিয়নের স্কুলশিক্ষক জাকির বিশ্বাস। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নাইমুরের চিকিৎসার জন্য মানবিক সাহায্যের আবেদন জানিয়ে পোস্ট করেন। সাড়া পান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে। চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জনের পাঠানো ৭০ হাজার ৫০ টাকা নাইমুরের হাতে তুলে দেওয়া হয়। একই ইউনিয়নের হুলিয়ামারী গ্রামের মানোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন যাবৎ পেটের রোগে ভুলছিলেন। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে কষ্টে দিন পার করছিলেন তিনি। মনোয়ার হোসেনের হাতেও তুলে দেওয়া হয় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এভাবেই নিজ গ্রাম কিংবা আশপাশের এলাকার অসহায় দুস্থ মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ-সহযোগিতা করে আসছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের স্কুলশিক্ষক জাকির বিশ্বাসের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘আমরা মানুষের জন্য’ সংগঠন। এভাবেই তিনি ফেসবুকে নিজদের একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে এলাকার অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। জানা গেছে, এ পর্যন্ত প্রায় ২০ জন অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এ সংগঠনের সদস্যরা, তুলে দিয়েছেন নগদ ১১ লক্ষ ৬৩ হাজার ৬০২ টাকা। বর্তমানে এ সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ৭১ জন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জাকির বিশ্বাসের গড়ে তোলা সংগঠনে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন। নিজেদের পকেটের অর্থ নিঃস্বার্থভাবে তুলে দিচ্ছেন অসুস্থ মানুষের চিকিৎসাসেবায়। হাত পাতছেন শুভাকাক্সক্ষীদের কাছে। স্কুলশিক্ষক জাকির বিশ্বাস সময়ের সমীকরণকে বলেন, ‘আমার একমাত্র মেয়ে জাকিয়া (৮) ২০১৬ সালে ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিল। মৃত্যুর মুখ থেকে সৃষ্টিকর্তা আমার মেয়েকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকেরা প্রথম দিকে আশা ছেড়ে দিলেও বর্তমানে জাকিয়া এখন অনেকটাই সুস্থ। মূলত মেয়েকে নিয়ে নিজের কষ্টগাথা ফেসবুকে শেয়ার করার পর থেকেই মনে হলো, এলাকার দুস্থ অসুস্থ মানুষের জন্য কিছু করার। সেই থেকেই শুরু। প্রথম দিকে একা শুরু করলেও পরে গ্রামের বাল্যবন্ধু গোলাম রসুল, শিক্ষক জিয়াউর রহমানসহ অনেকেই এগিয়ে আসেন। ৩ জন থেকে ১২ জন, আর ১২ জন থেকে বর্তমানে আমাদের এই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ৭১ জন। আমরা মূলত, এলাকার গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের দুঃখ-কষ্টের চিত্র ফেসবুকে আমাদের নিজ নিজ আইডি থেকে পোস্ট করে সর্বস্তরের মানুষের কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন জানাই। সেখান থেকে প্রাপ্ত পুরো অর্থ যাঁর জন্য পোস্ট করা হয়, তাঁর হাতে তুলে দিই।’ এ বিষয়ে কথা হয় বড় শলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মাহবুবুর রহমান রিপনের সঙ্গে। তিনি সময়ের সমীকরণকে বলেন, ‘জাকির বিশ্বাসের মেয়ে ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত। দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি নিজেই মানবেতর জীবন যাবন করছেন। এ অবস্থায় তিনি যেভাবে অসহায় অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং ফেসবুককে আর্তমানবতার সেবায় কাজে লাগচ্ছেন, এটা আমাদের সমাজে বিরল।’ তিতুদহ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দীন বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নিজের প্রচুর অর্থ থাকার প্রয়োজন পড়ে না, জাকির বিশ্বাস তার প্রমাণ। তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জিয়াউর রহমান জাকির বিশ্বাসের কাজের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমাদের দেশে এ ধরনের কাজ করার মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশে একটি মানুষও বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না।’ এভাবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করে নিজেদের মানবতার সেবায় নিয়োজিত রেখে জাকির বিশ্বাস ও তাঁর সহযোগীরা এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে। এ সংগঠনের সদস্যরা ইতিমধ্যে তিতুদহ হাফিজিয়া মাদ্রাসার উন্নয়নে ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সংগ্রহ করা ৪ লক্ষ ১০ হাজার ৫২ টাকা অনুদান দিয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)