ছবির ক্যাপশন:
মাথাভাঙ্গা নদী রক্ষায় ওয়েভের ভিন্নধর্মী আয়োজন
দর্শনা অফিস:
চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রধান নদী মাথাভাঙ্গা খনন, কোমর-বাঁধ অপসারণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে অনুষ্ঠিত হয়েছে ভিন্নধর্মী এক আয়োজন-‘নাওযাত্রা’। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে দর্শনা মাথাভাঙ্গা পয়েন্টে এ নাওযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে ওয়েভ ফাউন্ডেশন ও পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন প্রবীণ কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। আয়োজনের শুরুতে পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন প্রবীণ কমিটির সভাপতি আজিম উদ্দিন মাস্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউপি চেয়ারম্যান এস এ এম জকিারিয়া আলম।
এ সময় তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলার সমাজ-সভ্যতা, সংস্কৃতি-অর্থনীতি সমৃদ্ধিতে মাথাভাঙ্গার সম্পর্ক আত্মিক। অথচ নানাবিধ কারণে এ নদীটি আজ মৃতপ্রাণ। ফলে জেলার কৃষিবৈচিত্র্য হারিয়ে যাচ্ছে, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে, কৃষি অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ছে। বিধায় মাথাভাঙ্গাকে বাঁচাতে যেকোনো মূল্যে নদী খনন করতে হবে। পানিপ্রবাহ সচল রাখতে কার্যকর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের দ্বারস্থ হতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুনতাজ হোসেন, সমৃদ্ধি কর্মসূচির সমন্বয়কারী সাইফুর রহমান ও প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির প্রোগ্রাম অফিসার সাজ্জাদ হোসেন।
সভা শেষে শত শত মানুষ বিভিন্ন দাবি-সংবলিত ফেস্টুন নিয়ে স্লোগান তুলে নবনির্মিত মাথাভাঙ্গা পার্কে জমায়েত হন এবং মাথাভাঙ্গার বুকে নাওযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।
আয়োজক ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘মাথাভাঙ্গা আমাদের সমাজ, সভ্যতা, শিক্ষা, সংস্কৃতির অংশ হিসেবে আজ কোনো রকমে টিকে আছে। মাথাভাঙ্গাকে না বাঁচাতে পারলে এ অঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি ও জীবনকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। সুতরাং আগামী দিনের জীবনকর্মে মাথাভাঙ্গার গুরুত্বটা জানান দেওয়ার উদ্দেশ্যেই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস। আশা রাখি, সরকার তা আমলে নেবে।’
