ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় এনডিএফ বিডি কুষ্টিয়া জোনের বিতর্ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বক্তারা
মেহেরাব্বিন সানভী:
‘শোন, যুক্তিই আমার সৌন্দর্য’ স্লোগানে ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ (এনডিএফ বিডি) কুষ্টিয়া জোনের দিনব্যাপী বিতর্ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা, শো-ডিবেট ও ডিবেটিং ক্লাবের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের এফএফ মিলনায়তনে এ বিতর্ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা, শো-ডিবেট ও এনডিএফ চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটি গঠন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ও এনডিএফ বিডি কুষ্টিয়া জোনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক সময়ের সমীকরণ।
বিতর্ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও শো-ডিবেট বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাহিদুল হাসানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জামান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর মো. কামরুজ্জামান বলেন, বিতর্কের মধ্য দিয়ে তরুণেরা নিজেদের সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারে। দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে বিতার্কিক ও মুক্তবুদ্ধি চর্চাকারীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। দেশ ও দশের মুক্তির এ মাধ্যম বির্তককে এগিয়ে নিতে হবে। বিতর্ক এমন একটি মাধ্যম, যা মানুষকে ধৈর্যশীল ও উচ্চতর শিখরে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে শেখায়। মানবিক ও যুক্তিনির্ভর সমাজ গঠনের হাতিয়ার হলো বিতর্ক। তাই উদার ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে এমন অয়োজনের ভূমিকা অপরিসীম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ কে এম সাইফুর রশীদ বলেন, বিতর্ক সত্যের চর্চা করে, সমাজকে আলোকিত করে ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে। যাঁরা বিতর্ক চর্চা করেন, আলোচনা করেন, জ্ঞানের চর্চা করেন, তাঁরা শুধু সিলেবাসের নির্দিষ্ট বই থেকেই শিক্ষা নেন না, বরং এর বাইরে থেকেও শিক্ষা নেন। তিনি ক্লাসের পড়াশোনাকে পরিপূর্ণতা দিতে নিয়মিত বিতর্কচর্চার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন বলেন, ‘জ্ঞান ও যুক্তিনির্ভর আগামী প্রজন্ম এবং নেতৃত্ব গড়ে তুলতে বিতর্কচর্চার কোনো বিকল্প নেই। বিতর্ক প্রতিপক্ষকে শুধু পরাস্ত করার জন্য নয়। নিজ ও সমাজের উৎকর্ষতা সাধনে বিতর্কের পাশাপাশি সাংস্কৃতিকচর্চারও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কারণ আমরা সত্য জানতে চাই, যুক্তি জানতে চাই। আবার হৃদয়ের কথাও শুনতে চাই। বিতর্ক মানে যুক্তির বিরুদ্ধে ইতিবাচক যুদ্ধ। আপনাদের মধ্যে রয়েছে অমিত সম্ভাবনা। যুক্তিবাদী মনন গড়ে তুলুন।’ এ সময় তিনি এনডিএফকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘বিতর্কচর্চার মাধ্যমে কোমল মানুষ, বড় মানুষ তৈরির কাজটা আপনারা করছেন।’
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক মো. মনিরুজ্জামান ও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মাহমুদুল হাসানের যৌথ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক সফিকুল ইসলাম, এনডিএফ বিডি কুষ্টিয়া জোনের মডারেটর ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক আহসান কবীর রানা, এনএসআই চুয়াডাঙ্গার উপপরিচালক জি এম জামিল সিদ্দিক, এনডিএফ বিডি কুষ্টিয়া জোনের উপদেষ্টা লেখক ও গবেষক ড. আমানুর আমান, এনডিএফ বিডি কেন্দ্রীয় কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও প্রশিক্ষক শামীম রানা এবং এনডিএফ বিডি কেন্দ্রীয় মহাসচিব অ্যাড. তামজিদ হাসান পাপুল।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর কুষ্টিয়া জোনের (চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর) বিতার্কিকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ প্রদান করেন এনডিএফ বিডি কেন্দ্রীয় কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও প্রশিক্ষক শামীম রানা, এনডিএফ বিডি কুষ্টিয়া জোনের উপদেষ্টা লেখক ও গবেষক ড. আমানুর আমান এবং এনডিএফ বিডি কুষ্টিয়া জোনের মডারেটর আহসান কবীর রানা।
প্রশিক্ষণ শেষে সনাতন পদ্ধতিতে একটি শো-ডিবেট অনুষ্ঠিত হয়। শো-ডিবেটে পক্ষ দল ‘ভোরের পাখি’-এর হয়ে অংশ নেন সৌম্যজিতা শ্রুতি, সাগর ও অবনি এবং বিপক্ষ দল ‘আলোর দিশারী’-এর হয়ে অংশ নেন তৈয়ব, হাফসা ও শুভ। বিতর্কের বিষয় ছিল ‘জবাবদিহিতামূলক সরকার ব্যবস্থাই পারে দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে’। শো-ডিবেটে পক্ষ দল বিজয়ী হয়। শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হন পক্ষ দলের দলনেতা সৌম্যজিতা শ্রুতি।
পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ও অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের পর চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ডিবেটিং সোসাইটির কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে সৌম্যজিতা শ্রুতিকে সভাপতি ও তৌহিদ শুভকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহসভাপতি আসাদুজ্জামান, মেহের নিগার, যুগ্ম সম্পাদক সারমিন আক্তার, সজিব শাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক সালমা খাতুন, দপ্তর সম্পাদক মাশরাফি মর্তুজা, সদস্য রাসেল, হুমায়ন, রনি, তানিয়া, মুক্তা প্রমুখ।
